স্টাফ রিপোর্টার: ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা পাঁচজন কীর্তিময় নারীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
৮মার্চ রোববার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন ও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। র্যালি পরবর্তী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
খাগড়াছড়ি জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুষ্মিতা খীসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহম্মেদ এবং খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম প্রফুল্ল। এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যে পাঁচজন কীর্তিময় নারীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে তারা হলেন রত্নগর্ভা শ্রীলা তালুকদার এবং অদম্য নারী হিসেবে তেজশ্রী চাকমা, তমসা চাকমা, শ্রাবণী চাকমা ও টুম্পা ঘোষ। সম্মাননা প্রাপ্তরা তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন যে এই ধরনের স্বীকৃতি তাঁদের ভবিষ্যৎ পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য সাহসের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে নারীর সম-অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। পাহাড়ি জনপদে নারীরা কৃষিশ্রম থেকে শুরু করে উদ্যোক্তা হিসেবে যে ভূমিকা রাখছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁদের এই অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে হলে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই একটি শক্তিশালী জাতি গড়ে তোলা সম্ভব। আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি মো. আনোয়ার সাদাত সম্মাননা প্রাপ্তদের হাতে বিশেষ স্মারক তুলে দেন।