খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

খাগড়াছড়িতে আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: কর্মক্ষেত্রে সাধারণ চাকরিজীবীদের ছুটি থাকলেও কৃষকদের কোনো ছুটি নেই, একটার পর একটা কৃষিকাজ লেগেই থাকে। আর সেই কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। আমন ধান কাটার পরে শুরু হয়ে যায় বিভিন্ন কৃষি আবাদ। শাক-সবজি, গম, ভুট্টাসহ নানা ধরনের চাষাবাদ শেষ হতে না হতেই আবার শুরু হয়ে যায় বোরো ধান রোপণের সময়। আবার বোরোর পরেই শুরু হয় আমনের আবাদ। তাই আমন লাগানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির কৃষকেরা।
খাগড়াছড়ি জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা পুরাদমে আমন ধান লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠের পর মাঠ কৃষি শ্রমিকেরা ধান রোপন করে যাচ্ছেন। পুরুষ ও নারী শ্রমিক একই সঙ্গে আমন ধানের চারা রোপন করছে। এদিকে জুন ও জুলাই মাসে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে আমন ধানের চারার কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তাই এবছর আমন ধানের চারা সংকট দেখা দেবে না বলে জানান।
এদিকে প্রচন্ড গরম আর বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে সন্ধ্যা অবধি আমনের জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কেউবা জমিতে হাল চাষ দিচ্ছেন। কেউ জমির আইলে কোদাল পাড়া কিংবা জৈব সার বিতরণ কাজে ব্যস্ত। আবার অনেকে তৈরি জমিতে পানি সেচ দিয়ে ভিজিয়ে রাখছেন। আনুসঙ্গিক কাজ শেষ করে কেউবা বীজতলা থেকে চারা তুলে তা রোপণ করছেন জমিতে।
চারা রোপণের প্রতিটি কাজ ঠিকমতো করে ধান লাগানোর কারণে অনেক খুশি ও শান্তিতে এ জেলার কৃষকরা। কারণ প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবার সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হবে নাহ। আর বোরোর ভালো ফলন ও ভালো দাম পাবার পর আরো বেশি পরিমাণে আমন চাষে উৎসাহিত হয়ে উঠেছে কৃষকরা। তারা পুর্ণ উদ্যামে কাজ করে চলেছে আমন রোপনে মাঠে ঘাটে।
খাগড়াছড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, এবার খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলায় পুষি ২৫ হাজার ২শ ৮হেক্টর ও হাইব্রিড ১হাজার ৭শ ৮২হেক্টর সর্বমোট ২৬ হাজার ৯শ ৯০হেক্টর   জমিতে আমন ধান রোপনের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা বৃষ্টির পানি পেয়ে আমন ধানের চারা লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জেলার মানিকছড়ি উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি এবার বিআর-৪৯ জাতের ধান লাগাচ্ছেন ৪২ কানি। গতবার এই ধানের ফলন ভালো হওয়ায় এবারো তিনি এই ধান আরো ১০ কানি জমিতে বেশি আবাদ করছেন।
একই উপজেলার তিনটহরী ইউনিয়নের কৃষক মো. জামাল হোসেন বলেন, কিছুদিন ধরে ধানের ন্যায্য দাম পাওয়ায় লাভ হচ্ছে। আগের মতন আর লোকসান গুনতে হচ্ছে না আমাদের। তাই ধান চাষাবাদ করে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে বেশ ভাল আছি।
খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার বাটনাতলী ইউনিয়নের তুলাবিল গ্রামের মোঃ আলিমদ্দিন জানান, বোরো ধানের ন্যায্য দাম পাওয়ায় আমরা এবার আমন ধান লাগানো বাড়িয়ে দিয়েছি। আগে যখন ধানের কম দাম পেতাম তখন আমরা ৪ থেকে ৫ কানি জমিতে বোরো বা আমন ধানের চাষাবাদ করতাম। এবার আমরা আমন ১০ থেকে ১২ কানি জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ করছি। এবার আমন ধান লাগানো বাড়িয়ে দিয়েছি আর কমিয়েছি অন্যান্য মৌসুমি বিভিন্ন শাক-সবজি চাষ। একই কাজ করেছেন এই ইউনিয়নের বেশির ভাগ কৃষক বলেও জানান তিনি।
খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার যোগ্যাছোলা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মোখলেছুর রহমান জানান, আমন ধান লাগাতে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হয়। এছাড়া আমন আবাদে খরচও বেশি হয় বৃষ্টিপাত না হলে। তবে এবার ভালো বৃষ্টিপাত হওয়ায় আমন ধান লাগানোর পর থেকে বেশি সেচ দিতে হবে না। এতে আমনের উৎপাদন খরচ যেমন কমবে তেমনি লাভও হবে আশা করি। আর বোরো আবাদের মতোই আমন আবাদের পর সরকারিভাবে যেন আমাদের ভর্তুকি দেওয়া হয়।  তাহলে কৃষকরা আরো উপকৃত হবেন বলেও জানান তিনি।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মর্তুজ আলী জানান, জেলায় এবার আবহাওয়া ভালো রয়েছে। কৃষকেরা পুরো দমে আমন ধানের চারা লাগানোর ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে। প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তাই সেচ দিতে হবে না অতিরিক্ত। ফলে সেচ খরচ কমবে। আর আমরা চাষিদের চারা গুলি লাইন করে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আশা করি বোরোর মতই আমনেরও বাম্পার ফলন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।