খাগড়াছড়িতে গুচ্ছগ্রামে রেশন বিতরণে অনিয়ম, কার্ডধারীরা পেলো পঁচা গম

Homeস্লাইড নিউজশিরোনাম

খাগড়াছড়িতে গুচ্ছগ্রামে রেশন বিতরণে অনিয়ম, কার্ডধারীরা পেলো পঁচা গম

বিএম.বাশার: খাগড়াছড়ি জেলার ৯ উপজেলায় ৭৮টি গুচ্ছগ্রামে প্রায় ২৭হাজার কার্ড ধারী রয়েছে। তার মধ্যে হতদরিদ্র গুচ্ছগ্রাম বাসিরা দ্রব্য মূল্যে উদ্ধোগতি

রামগড়ে ত্রিপুরা স্টুডেন্টস্ ফোরাম’র কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও পাঠ্যবই বিতরণ
করোনা মোকাবেলায় মনোবল হারানো যাবে না -পৌর মেয়র মো. শামছুল হক
খাগড়াছড়িতে বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান

বিএম.বাশার: খাগড়াছড়ি জেলার ৯ উপজেলায় ৭৮টি গুচ্ছগ্রামে প্রায় ২৭হাজার কার্ড ধারী রয়েছে। তার মধ্যে হতদরিদ্র গুচ্ছগ্রাম বাসিরা দ্রব্য মূল্যে উদ্ধোগতি এবং কর্মহীন হয়ে পরায় অনেকের রেশনকার্ড বন্ধক দিয়ে থাকে। রেশন কার্ড বন্ধকীয় দলিলে কার্ডধারীদের কিছু রেশন দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও সিন্ডিকেট চক্র শর্ত বঙ্গ করে কোনো চাল ও গম দেয় না। এছাড়াও অসহায় গুচ্ছগ্রামবাসি রেশন এর চাল বিক্রয় করার জন্য সিন্ডিকেট চক্রের নিকট আসলে প্রতি কেজি চাল থেকে বর্তমান বাজার মূল্য অনুসারে অন্তত ১৫ থেকে ২০ টাকা কম হারে চাল ক্রয় করে। অথচ দেখা যায় প্রতি ৩ ডিও রেশন এর বাজার মূল্য অনুসারে দাম আছে আনুমানিক ৯ থেকে ১০ হাজার আর সিন্ডিকেট চক্রের নিকট চাল বিক্রয় করতে গেলে তারা ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করে।

অন্য দিকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলায় গুচ্ছগ্রামের বাঙালি রেশন কার্ড হোল্ডারদের মাঝে পচা গম বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় রেশন এর চাল বিতরণের কেন্দ্র গুলো এই প্রতিনিধি পরিদর্শন করে লক্ষ করে, খাগড়াছড়ি জেলার গুচ্ছগ্রামগুলোতে চলছে অনিয়ম, দুর্নীতি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রেশন বিতরণ। হতদরিদ্রদের ও গুচ্ছগ্রাম বাসীর রেশনের চাল বানিজ্যে মেতে উঠেছে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী। তারা অগ্রিম টাকা দিয়ে সল্প মুল্যে চাউল ক্রয় করে সমতলে পাচার করছে সিন্ডিকেট চক্র।

সূত্রে জানাযায়, খাগড়াছড়ি জেলার ৯টি উপজেলার ৭৮ গুচ্ছগ্রামে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজারে বেশি রেশন কার্ড ধারীদের থেকে কার্ড বন্ধক নিয়ে কার্ডধারীদের কোনো চাল না দিয়ে ক্রয়ের অযুহাতে সিন্ডিকেট চক্র চাল গুলো উত্তোলন করে নিয়ে যায় এবং কার্ডধারীদের টিপ/স্বাক্ষর ছাড়াই রেশন উত্তোলন করে নিয়ে যায় উক্ত রেশন কার্ড বন্ধক সিন্ডিকেট চক্র। বর্তমান বাজার মূল্য অনুসারে এক কেজি চালের মূল্য ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা, আর কার্ডধারীদের চালের মূল্য ধরা হয় সর্বোচ্চ ৩৫-৩৮ টাকা কেজি। আবার গমের দাম প্রতি বাজার মূল্য ৪০-৪৫ টাকা কেজি হলেও কিন্তু কার্ডধারীদের প্রতি কেজি গমের দাম ৩০-৩৫ টাকা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

রামগড় উপজেলা পাতাছাড় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কাজী মোঃ আলমগীর হোসেন এর নিকট রেশন বিতরণে অনিয়মের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার গুচ্ছ গ্রামে ৩শত পরিবারের মাঝে ১শত ৪ কেজি চাল এবং ১শত ৪৪ কেজি গম স্বচ্ছ ভাবে বিতরণ করছি। তবে গুচ্ছ গ্রাম সমিতির চাঁদা এবং ক্যারিং খরচ নিয়ম অনুসারে নিচ্ছি। অপরদিকে একই এলাকার এক গুচ্ছগ্রামের কার্ডধারী ব্যক্তি বলেন, যারা রেশন এর ডিও বিক্রি করছে তারা তিন ডিও রেশন বাবদ পাচ্ছে ৭ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে। অর্থাৎ প্রতি ডিও বাবদ ২ হাজার ৫শত টাকা হারে বিক্রি করতে হচ্ছে কার্ডধারীদের রেশন। অথচ বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম হাকাচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা আর গম ৪০-৪৫ টাকা। অন্যদিকে পানছড়িতে রেশনের গম দিচ্ছে নষ্ট পঁচা। মানুষের খাওয়ার অনুপযোগী। যা খেলে ক্ষতি হতে পারে অসহায় মানুষদের।

এসব ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করলে বেড়িয়ে আসবে আসল রহস্য মনে করছেন সচেতন মহল। সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের তদারকির মাধ্যমে জনগনের পাওনা যেন জনগন পায় তার সঠিক ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য মিডিয়ার সকল সাংবাদিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতা কামনা করে সুষ্ঠ তদন্ত করার দাবি জানায়।