পানছড়িকে ফিস্টুলা মুক্ত করতে ১৫ দিনের বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু

শেয়ার করুন

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলাকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রসবজনিত ফিস্টুলা মুক্ত ঘোষণা করার লক্ষ্যে শুরু হয়েছে ১৫ দিনব্যাপী বিশেষ ফিস্টুলা সনাক্তকরণ ক্যাম্পেইন।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম। রোববার আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুতোষ চাকমা। অনুষ্ঠানে সহ-সভাপতি ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. হাফিজ উদ্দিন। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, প্রসবজনিত ফিস্টুলা নারীদের একটি গুরুতর ও অবহেলিত স্বাস্থ্য সমস্যা। বাল্যবিবাহ রোধ, পরিবার পরিকল্পনা নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ প্রসবের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগী সনাক্তকরণই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-এর আর্থিক সহায়তা ও সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (CIPRB)-এর কারিগরি সহযোগিতায় পরিচালিত SR-MNCAH প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা যৌথভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সম্ভাব্য রোগী সনাক্ত করবেন।
সনাক্ত হওয়া সন্দেহভাজন রোগীদের খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হবে। চূড়ান্ত মূল্যায়নের পর প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় ফিস্টুলা সেন্টারে পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বহন করা হবে। এছাড়া কোনো ফিস্টুলা রোগীর তথ্য প্রদানকারীকে নগদ ১,০০০ টাকা সম্মানী দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, প্রসবজনিত ফিস্টুলার প্রধান লক্ষণ হলো— প্রসবের রাস্তা দিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে সব সময় প্রস্রাব বা পায়খানা, অথবা উভয়ই ঝরতে থাকা। সাধারণত বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত প্রসবের পর কিংবা তলপেট বা জরায়ু অপারেশনের জটিলতার কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
উদ্যোক্তারা আশা করছেন, এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী ২৩ মে ২০২৬ আন্তর্জাতিক ফিস্টুলা দিবস উপলক্ষে পানছড়ি উপজেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফিস্টুলা মুক্ত’ ঘোষণা করা সম্ভব হবে।