স্টাফ রিপোর্টার: প্রচারণা শেষ, চলছে শেষ হিসেব নিকেশ। কে পড়বে বিজয়ের মালা। খাগড়াছড়ি আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও এগিয়ে রয়েছে বিএনপির মনোনীত থানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়া। জয়ের সম্ভাবনায় ধানের শীষের জোয়ার দেখছে সাধারণ ভোটাররা এমন জরিপই ওঠে এসেছে নানা বিশ্লেষণে।
সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি জেলায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও স্থানীয় দলগুলোর দাপট বরাবরই। বিগত নির্বাচনে এই জেলায় আদীবাসীদের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। এই আসনে বিগত নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগ কিছুটা বেশি ভালো ফল করলেও বিএনপিও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় ভোটের মানচিত্রে পরিবর্তন আসতে পারে।
৯টি উপজেলা ও ৩ পৌরসভা নিয়ে গঠিত একটি ২৯৮নং আসন খাগড়াছড়ি। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৯ জন, যার মধ্যে ২ লাখ ৮০ হাজার ২০৬ জন পুরুষ, ২ লাখ ৭৩ হাজার ৯০৯ জন নারী ও ৪জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে।
ভৌগলিকভাবে পার্বত্য অঞ্চল খাগড়াছড়ি আসনটি পাহাড়ি-বাঙালিসহ ১৩টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাসে খুবই গুরুত্ব বহন করে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনের হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে যার নাম তৃণমূল পর্যায় থেকে সর্বমহলে আলোচনায় আছে তিনি হচ্ছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী, সাবেক দুই বারের এমপি ও চেয়ারম্যান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া।
বিএনপি প্রার্থী ছাড়াও আরো যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা হলেন- বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) থেকে রকেট প্রতীকে উশ্যেপ্রু মারমা, স্বতন্ত্র কলস প্রতীকে জিরুনা ত্রিপুরা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. এয়াকুব আলী, স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকে ধর্ম জ্যোতি চাকমা, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে আপেল প্রতীকে মো. নুর ইসলাম, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে মিথিলা রোয়াজা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ থেকে হারিকেন প্রতীকে মো. মোস্তফা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মো. কাউছার, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকে সমীরণ দেওয়ান ও গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে ট্রাক প্রতীকে দীনময় রোয়াজা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তবে ভোট মাঠে ধানের শীষের প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়ার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমার। তবে পূর্বের যে কোনো নির্বাচনের মত জোড়ালো সমর্থন আঞ্চলিক সংগঠনগুলো তাকে সমর্থন দেয়। অন্যথায় অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ানকে সমর্থন দিলে তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। এখন পর্যন্ত আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কোন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেওয়ার খবর পাওয়া যায় নি। সেই অর্থে এই পাহাড়ি জনপদে দীর্ঘ ৪০ বছরের অধিক সময় সকল সম্প্রদায়ের জন্য রাজনৈতিক মাঠে নিরলসভাবে কাজ করা অসাম্প্রদায়িক গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি, কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্মসংস্থান বিষয়কসহ সম্পাদক ও খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়াই ভোটের মাঠে এককভাবে এগিয়ে আছেন।
এর আগে তিনি দুইবারের সংসদ সদস্য ও চেয়ারম্যান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড (১৯৯৬, ২০০১-২০০৬) ছিলেন। তার সরকারের সময়কালে পাহাড়ে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের জন্য সার্বিক উন্নয়ন ও আধুনিক খাগড়াছড়ি গড়ার রুপকার ওয়াদুদ ভূইয়াই মাঠ জরিপে এগিয়ে।
দীর্ঘ ১৭ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাহিরে থেকেও শত প্রতিকূলতার মাঝেও জেলার সর্বসাধারণের সুখ দুখে পাশে থেকেছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ে তার আমলে উন্নয়ন কর্মকা-ের সুফল পেয়েছে এ জেলাবাসী। যেমন, যোগাযোগ ব্যবস্থায় অসংখ্য ব্রিজ, কালভার্ট ও রাস্তা নির্মাণ, পর্যটন, শিক্ষা স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করে ভাগ্য উন্নয়নে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য নিরলস ব্যাপক কাজ করে গেছেন।
এসব উন্নয়ন কর্মকা-ে আগামী দিনে ধারাবাহিকতার প্রত্যাশায় আবারো ভোটের মাঠে এগিয়ে রাখছেন ধানের শীষের এই যোগ্য প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়াকে ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি আসনটি জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ভোটের মাঠে সরব উপস্থিতি আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর নিরব সমর্থন বিশেষভাবে লক্ষণীয়। পাহাড়ে বসবাসরত সকল উপজাতি গোষ্ঠীরদ্বয়ের উপর চরম আধিপত্য, অস্ত্র ও পেশী শক্তির প্রভাব আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন যেকোনো প্রার্থীকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। বিশেষ করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) অন্যতম। এছাড়াও আরো দুটি সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) জেএসএস (সংস্কার) প্রভাবও বিদ্যমান।
তবে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর নীরব সমর্থন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জকে উপেক্ষা করা যাবে না। নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করবে ভোটারদের স্বাধীন ইচ্ছা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের ওপর। এই পার্বত্য জনপদে সকলের জন্য উন্নয়ন ও শান্তির ধারাবাহিকতা এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। এই আসনটিতে ভোটের মাঠে ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তারপরেও ভোটের হাওয়া বইছে পাহাড়ে বসবাসরত সকল জাতি গোষ্টির মাঝে।