খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

খাগড়াছড়িতে ইটভাটা চালু হলেও মানা হচ্ছে না নিয়মনীতি

স্টাফ রিপোর্টার: নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই খাগড়াছড়ির ঠাকুরছড়া এলাকায় ইটভাটার কার্যক্রম শুরু করেছেন মো. সেলিম নামে এক ব্যবসায়ী। এতে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কায় হুমকিতে পড়েছে ৪টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কয়েক গ্রামের হাজারও মানুষ। প্রতিকার চেয়ে স্থানীয়রা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও বন্ধ হয়নি ইটভাটা চালুর কার্যক্রম। তবে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসন। গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জ্ঞান রঞ্জন ত্রিপুরা সাংবাদিকদের জানান, খাগড়াছড়ি জেলা সদরের অদূরে ঠাকুরছড়া এলাকায় কৃষি জমিতে নতুন করে ইটভাটা কার্যক্রম শুরু করছে মো. সেলিম নামে এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। নির্মাণাধীন ইটভাটার আশপাশে রয়েছে ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মং সার্কেল চিফের রাজবাড়িসহ মারমা ও ত্রিপুরা অধ্যুষিত ৪ টি গ্রাম।

এই ইটভাটার কারণে পরিবেশ বিপর্যয়সহ স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তাছাড়া ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ এর ৮ ধারায় লোকালয়, শিক্ষা-স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের আশপাশ, কৃষি জমি ও বনাঞ্চলের এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা থাকতে পারবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত হুমকির কথা বিবেচনা করে মং রাজ পরিবার ও স্থানীয় ১০৭ জনের স্বাক্ষরে প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে লিখিত আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনও প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ঠাকুরছড়া এলাকাবাসী ও কৃষক কমল ত্রিপুরা জানান, এলাকার মাঝখানে সব কৃষি জমি। কৃষকরা এসব জমি চাষ করে জীবন চালায়। নতুন করে ইটভাটা কার্যক্রমের কারণে মাটির উপরিভাগ যেমন নষ্ট হবে তেমনি আশপাশের বন ও পরিবেশ নষ্ট হবে।

ঠাকুরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা দীপা ত্রিপুরা বলেন, ‘ইটভাটার পাশে সরকারি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রয়েছে ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণের মধ্যে থাকবে। স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে থাকবে। যার ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়বে। অবিলম্বে ইটভাটা কার্যক্রম বন্ধ করা দরকার। ঠাকুরছড়া গোলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কার্নেজী চাকমা বলেন, ‘আমার বিদ্যালয় জেলা শহরের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে পরিবেশবান্ধব পরিবেশে শতশত ছাত্রছাত্রী পড়ালেখা করে। কিন্তু হঠাৎ করে নতুন করে একটি ইটভাটা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইটভাটা চালু হলে ছাত্রছাত্রীসহ হাজার এলাকাবাসী পরিবেশগত বিরূপ হুমকিতে পড়বে।’

এ ব্যাপারে ইটভাটার মালিক মো. সেলিম বলেন, ‘উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখার জন্য ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। পরিবেশ যাতে হুমকিতে না পড়ে সেজন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ ইটভাটার বৈধতা সম্পর্কে মো. সেলিম বলেন, ‘শুধুমাত্র আমার নয়, খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনও ইটভাটার বৈধ ছাড়পত্র নেই।’ জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার জানামতে ঠাকুরছড়া এলাকায় কোনও ইটভাটা নির্মাণের জন্য কোনও অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এলাকাবাসী অভিযোগ করলে তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘জেলার ৯ উপজেলায় ৩০টির মতো ইটভাটা রয়েছে। কোনও ইটভাটার লাইসেন্স নেই। তবে উন্নয়নের স্বার্থে আইনের শিথিল প্রয়োগ করা হয়েছে। ’