খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

খাগড়াছড়ি জেল সুপারকে আদালতে তলব

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: আদালতের আদেশ অমান্য করে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও খাগড়াছড়ি পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল মজিদকে কুমিল্লা কারাগারে প্রেরণের কারণে খাগড়াছড়ি জেল সুপার আবু ফাতাহকে আগামী ১৩ মে আদালতে স্ব-শরিরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। ১০শে মে আসামী পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ নোমান এ আদেশ দেন।

আসামী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট কামাল উদ্দিন মজুমদার, এডভোকেট জামাল হোসেন সিদ্দিকী ও এডভোকেট জসিম উদ্দিন মজুমদার বলেন, গত ৮ মে জেলা কারাগার সংলগ্ন এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে খাগড়াছড়ি জেল সুপার আবু ফাতাহ’র সাথে পৌর কাউন্সিলর আবদুল মজিদের মধ্যে সৃষ্ট ঘটনায় খাগড়াছড়ি সদর থানায় জেল সুপার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। সেদিন বিকালে খাগড়াছড়ি আমলী আদালত পৌর কাউন্সিলর আবদুল মজিদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান এবং চিকিৎসা শেষে আবারো আদালতে হাজির করার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু খাগড়াছড়ি কারাগার কর্তৃপক্ষ পৌর কাউন্সিলর আবদুল মজিদকে হাসপাতালে ভর্তি না করে মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে কাউকে না জানিয়ে কুমিল্লা কারাগারে প্রেরণ করেন। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আসামীর সুচিকিৎসা না করে কুমিল্লা কারাগারে প্রেরণ করা আইনের পরিপন্থি হওয়ায় আজ আমরা আদালতে পিটিশন দিয়েছি। বিজ্ঞ আদালত শুনানী শেষে আগামী ১৩মে খাগড়াছড়ি জেল সুপার আবু ফাতাহকে আদালতে স্ব-শরিরে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে আদেশ দিয়েছেন।

এসময় অন্যান্য আইনজীবীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এডভোকেট মো. আলী নুর, এডভোকেট আক্তার উদ্দিন মামুন, এডভোকেট বেদারুল ইসলাম, এডভোকেট মোখলেছুর রহমান ও এডভোকেট নুরুল্লা হিরু।
এঘটনায় খাগড়াছড়ি কারাগারের জেল সুপার আবু ফাতাহ সাংবাদিকদের বলেন, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কারণে আবদুল মজিদকে কুমিল্লা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৮ মে সকাল ১০ টার দিকে খাগড়াছড়ি কারাগার সংলগ্ন এলাকায় জমি নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ ও পৌর কাউন্সিলর আবদুল মজিদের সাথে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জেল সুপার আবু ফাতাহ ও কারারক্ষীরা আবদুল মজিদকে আটক করে কয়েক ঘন্টা জেলে আটকে রেখে খাগড়াছড়ি সদর থানাকে জানালে পুলিশ আবদুল মজিদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেদিনই জেল সুপার আবু ফাতাহ সদর থানায় মামলা করেন। জিআর মামলা নং-১৫৪/১৮।