গুইমারায় বৌদ্ধ মূর্তি ভাংচুর: সেনাবাহিনীকে জড়ানোর চেষ্টা, আসল ঘটনা কী?

স্টাফ রিপোর্টার: খাড়াছড়ি’র গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের দূর্গম কুকিছড়া এলাকায় রাতের আধারে বৌদ্ধ বিহার ও বৌদ্ধ মুর্তি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। ২২অক্টোবর

বাংলাদেশকে তামাক মুক্ত ও হালদা নদী রক্ষায় তামাক চাষ বন্ধের বিকল্প নেই
বাঘাইছড়ি হত্যাকন্ড: ময়না তদন্ত শেষে ৬ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর
করোনা সতর্কতায় খাগড়াছড়িতে শাহনাজ সুলতানার প্রশংসনীয় উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার: খাড়াছড়ি’র গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের দূর্গম কুকিছড়া এলাকায় রাতের আধারে বৌদ্ধ বিহার ও বৌদ্ধ মুর্তি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। ২২অক্টোবর গভীর রাতে দুস্কৃতিকারী কে বা কাহারা বিহারে ঘর ভেঙ্গে ঘরের বিভিন্ন অংশ পাশে ও সিমেন্টের তৈরী বৌদ্ধ মুর্তি ভাংচুর করে পালিয়ে যায়। এসময় বৌদ্ধ বিহারে কোন ভিক্ষু বা লোকজন ছিল না। স্থানীয়রা এঘটনায় আইনশৃংখলা বাহিনীদের দোষারোপ করলেও কোন প্রকার চাক্ষুস প্রমান দেখাতে পারে নি কেউ। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্নিমার ঠিক আগের দিন এধরণের ঘটনায় এলাকার উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে আসল ঘটনা উদঘাটন করে দোষিদের শাস্তি দাবি সুশীল সমাজের।

খবরে প্রকাশ, কিছুদিন পূর্বে সেনাবাহিনীর পরিত্যক্ত ক্যাম্পের জায়গা ধর্মীয় উপাসনালয় জেতবন বৌদ্ধ মন্দির নামের একটি বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করতে গেলে সরকারি জায়গা বিধায় প্রশাসন তাতে বাধা দেয়। গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উক্ত জায়গায় নিষেধাজ্ঞা জারী করলেও পরবর্তীতে রাতারাতি বৌদ্ধ বিহার সহ মুর্তি প্রতিস্থাপন করে কিছুলোক। তবে বিহার পরিচালনার জন্য কোন পরিচালনা কমিটি বা বিহারে কোন বৌদ্ধ ভিক্ষুও ছিল না। পার্শ্ববর্তী তানিঅং মারমা ও তার স্ত্রী উবাই মারমা বিহারটি দেখাশুনা করতো বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি।

প্রকৃত ঘটনা জানতে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সরেজমিনে গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের দূর্গম জনপদ কুকিছড়া ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গৌতম বুদ্ধের একটি মুর্তি ভাঙ্গা অবস্থায় পড়ে আছে এবং কাঠ ও টিনের তৈরী বৌদ্ধ বিহারের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। বুদ্ধের সামনে রাখা আসনের জিনিসপত্রও তছনচ করে ফেলে দুস্কৃতিকারীরা। বিহারের পাশেই তানিঅং মারমার ঘর, সাংবাদিকদের সে জানায়, স্ত্রী উবাই মারমা সহ রাতে নিজ ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় অবস্থায় হঠাৎ আইন-শৃংখলা বাহিনীর পোষাক পড়া কিছু লোক রাত ১২টার দিকে বিহারে এসে ভাংচুর চালায় এবং তাকে ঘর থেকে বের হতে দেয়নি বলেও অভিযোগ করে আরো বলেন, রাতের আধারে ৩ঘন্টা ব্যাপী ভাংচুর করে চলে যায় দুস্কৃতিকারীরা।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা সঠিক নয় বলে জানিয়ে মাটিরাঙ্গা জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল নওরোজ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল উন্নয়ন ও শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে সিভিল প্রশাসনকে সাহায্য করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশে নয় আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলেও স্বনামধ্য একটি প্রতিষ্ঠান। সেনাবাহিনীর সুনাম নষ্ট করার জন্য একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য দেশের শান্তি শৃংখলা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজেদের নিয়োজিত রাখে। কোন ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হয় এমন কাজে জড়িত হতে পারে না। এটি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, বিহার ও মূর্তি ভাঙ্গার মত ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সেনাবাহিনী কোনক্রমেই জড়িত নয় বলে উল্লেখ করে প্রকৃত দোষীদের খুজে বের করে প্রশাসনের নিকট হস্তান্তর করা হবে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবি সহ বিষয়টি নিয়ে ষ্টাটাস দেয় স্থানীয় বাসিন্দা, চাইলাপ্রু মারমা, চাইন্দাসুরিয়া থেরো এবং চিটাগাং হিল ট্রাকট্স ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটস নামের একটি পেজ থেকেসাথে সাথে বিষয়টি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাল হয়ে যায়।

সকালে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সালা উদ্দিন, গুইমারা উপজেলা চেয়ারম্যান উশ্যেপ্রু মারমা, হাফছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান চাইথোয়াই চৌধুরী এবং মাটিরাঙ্গা সেনাজোন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল নওরোজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আশ্বাস দিয়ে নতুন বিহার ও বৌদ্ধ মুর্তি প্রতিস্থাপন করার ঘোষণা দেন।

এদিকে, বৌদ্ধ বিহার ও মুর্তি ভাংচুরের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সকল প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে বলে গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ গিয়াস উদ্দিন জানান।