খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদগুইমারাপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

গুইমারা হাফছড়ি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের খুঁটির জোর কোথায়?

শাহ আলম রানা,গুইমারা: খাগড়াছড়ি’র গুইমারা উপজেলার সদ্য এমপিওকৃত হাফছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এমপিও নিয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চরম জালিয়াতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি প্রকাশিত সর্বশেষ এমপিও গেজেটে বিদ্যালয়টি এমপিওভূক্ত হয়েছে। এরপর বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওভূক্তির কাজ শুরু করেন উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন। এসময় থেকে শুরু হয় মোয়াজ্জেম হোসেনের অভিনব পন্থায় জালিয়াতি ও কেরামতি। সরকারী বিধি মোতাবেক এনটিআরসি’র নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষককে বাদ দিয়ে অনিয়ম দূর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত খন্ডকালীন শিক্ষকদের ও আত্মীয়কে ভূয়া নিয়োগ দেখিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন। অবশ্য তার বিরুদ্ধে দুূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। বেশ ক’বার নানা অনিয়মের তথ্য প্রমান থাকলেও টাকার বিনিময়ে কৌশলে সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে নিজ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার অনিয়ম দুূর্নীতি ও অপকর্মের ব্যাপারে এর আগেও একাধিকবার জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও টাকার জোরে থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাহিরে। মৃদুভাষী বিনয়ী স্বভাবের মোয়াজ্জেম হোসেনের সামনের রুপের সাথে পিছনের রুপটি পুরো ভিন্ন। অপকর্মের কথা জানাজানি হলে ক্ষমা চাওয়ার নজিরও আছে তার।

এনটিআরসি কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত সায়মন মারমা জানান গত ২৭/১০/২০১৬ ইং তারিখে নিয়োগপত্র পেয়ে যোগদান করি পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক আমার কাছ থেকে নগদ ১লক্ষ টাকা নেয় এবং আরো ৫০ হাজার টাকা দিতে বার বার চাপ প্রয়োগ করলেও আমি দেইনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরে তিনি সুকৌশলে আমাকে স্কুলে পরে আসতে বলে উনার আত্মীয় সুলতানা খাতুনকে পূর্বের ভুয়া নিয়োগ দেখিয়ে এমপিওভূক্ত করার জন্য ফাইল পত্র প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসে পাঠায়। বিষয়টি আমি জানতে পেরে ন্যায় পাওয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে গত-২১/০৫/২০১৬ তারিখে একটি অভিযোগ দাখিল করি। তখন থেকে প্রধান শিক্ষক নিজের অপকর্ম ঢাকতে বিভিন্নভাবে দেন-দরবার করে বেড়াচ্ছে। সর্বশেষ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে মীমাংসা সভা বসলেও সেখানে কোন সমাধান হয়নি। ফলে বিষয়টা নিয়য় আজ-কাল হবে হচ্ছে বলে সময়ক্ষেপন করছে। এরই মধ্যে থেমে নেই প্রধান শিক্ষকের অপকর্মের ফাইল ক্লোজ করতে সমঝোতা বৈঠক ও দেন দরবার। এছাড়াও আরেক শিক্ষককে টাকার বিনিময়ে পূর্বের নিয়োগ দেখিয়ে এমপিওভূক্ত করেছে এবং সাটিফিকেট সমস্যা আছে এমন শিক্ষকদের এমপিও করানোর জন্য তোড়জোর চালানো হচ্ছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীর এমপিও করার জন্য ব্যাক ডেটে পত্রিকায় ভুয়া নিযোগ বিজ্ঞাপন ছাপানোর অভিযোগও আছে।

এসব অনিয়ম দূর্নীতি ও জালিয়াতির বিষয়ে হাফছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন কিছু বলা যাবে না পরে বলব বলে পাশ কাটিয়ে যান। পরে মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।

প্রধান শিক্ষককের এসব অনিয়মের বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য আইয়ুব আলী মেম্বারের নিকট জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে অবগত নন এবং অপর সদস্য আবদুল কাদের প্রধান শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের না জানিয়ে সভাপতি সহ অন্যদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ করে বলেন, মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকের মত মহান পেশার মানুষ এমন কাজ করতে পারে তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও হাফছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান চাইথোয়াই চৌধুরী নিকট জানতে শিক্ষক এমপিও নিয়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমিতো সব বিষয়ে জানতাম না প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন আমার সাথে মিথ্যা কথা বলে এবং আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করেছে বলেও ধারনা করছি। সে কৌশলে আমাকে বিপাকে ফেলেছে বিশ্বাসের অমর্যাদা করেছে তার ব্যাপারে কঠিন সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করছে। পরবর্তী ম্যানেজিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা জানান তিনি।

প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেনের দুনীতি ও অপকর্মের ব্যাপারে এলাকার অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ বিরাজ করছে অনেকে এ দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের অপসারণ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বজায় রাখার দাবী করছেন।

মোয়াজ্জেম হোসেনের অপকর্ম ঢাকতে সে ও তার সহযোগী হিসেবে আশপাশের বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকের যে দৌড়ঝাঁপ ও দফায় দফায় বৈঠক লক্ষ করা যাচ্ছে তাতে এটা ষ্পষ্ট এবারও হয়তো টাকার জোরে বা বিশেষ ক্ষমতাবলে বেঁচে যাবে দুূর্নীতিবাজ মোয়াজ্জেম হোসেনগংরা। এতে আগামী দিনের লাল সবুজের পতাকা ও দেশের হাল ধরার নতুন প্রজন্মকে কতটুকু প্রকৃত শিক্ষা দিতে পারবে মোয়াজ্জেমরা এপ্রশ্নটা থেকেই যায়।