চন্দ্রঘোনা পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সড়ক মেরামতে বদলে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা

শান্তি রঞ্জন চাকমা, কাপ্তাই: চন্দ্রঘোনা মিশন এলাকায় অবস্থিত পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএম চৌধুুরী সড়কটি মেরামত ও উন্নয়ন প্রকল্পে অর্ন্তভুক্ত হওয়ায় শতশ

রাঙ্গুনিয়ায় পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় দু’জন নিহত
ফটিকছড়িতে প্রগতি ব্লাড ডোনার্সের উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
ফটিকছড়ি পৌরসভা ও ধর্মপুর ইউনিয়নে বই বিতরণ

শান্তি রঞ্জন চাকমা, কাপ্তাই: চন্দ্রঘোনা মিশন এলাকায় অবস্থিত পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএম চৌধুুরী সড়কটি মেরামত ও উন্নয়ন প্রকল্পে অর্ন্তভুক্ত হওয়ায় শতশত শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছেন। চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইলিয়াছ কাঞ্চন চৌধুরীর প্রচেষ্ঠায় সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়।
১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত চন্দ্রঘোনা পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রায় দেড়শত ফুট উচু পাহাড়ের উপর প্রতিষ্ঠিত ক্যাম্পাসে যেতে শিক্ষাথীদের দুর্ভোগের অন্ত ছিল না। দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে পাহাড়ের সুউচ্চ দুর্গম পথে ২০৮টি সিড়ি বেয়ে উঠতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় পড়তো। সম্প্রতি এই সমস্যা নিরসনে বিদ্যালয়ের নতুন পরিচালনা পরিষদ উদ্যোগ নেন। পাহাড়ের ঢালু বেয়ে বিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের সাথে ডা. এস এম চৌধুরী সড়কটি সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেন তারা। সড়কটি সংস্কারের মাধ্যমে নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থায় বদলে গেছে চন্দ্রঘোনা পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের দৃশ্যপট।
শিক্ষক সুনীল শ্যাম জানান, পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দূরদুরান্ত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। সুউচ্চ পাহাড়ের উপর বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে উঠতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রায় সময় ছোটবড় দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হতো। দুর্গম যোগযোগ ব্যবস্থার কারণে অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানোর পরও অনেক সময় অন্যত্র নিয়ে যেত। শিক্ষার্থীরা ভর্তি হলেও অসম এই যোগাযোগের কারণে তারা নিয়মিত স্কুলে আসতে চাইতো না।
অভিভাবকরা জানান, পাহাড়ের সিড়ি বেয়ে উঠতে গিয়ে প্রতিদিন কোন না কোন শিক্ষার্থী ক্লান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে পড়ালেখা সহ সার্বিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়েছিল বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান। বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশে অপর একটি পাহাড়ের তালুতে বিদ্যালয় ভবন নিয়ে আসা হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থায় দুর্ভোগ আরও প্রকট আকার ধারণ করে। সম্প্রতি নতুন পরিচালনা পরিষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সমস্যা নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। নতুন বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সাথে দীর্ঘদিন ধরে অযতœ অবহেলায় পড়ে থাকা ডা. এস এম চৌধুরী সড়কটি সংস্কারের কাজে হাত দেন তারা। বর্তমানে চন্দ্রঘোনা মিশন ক্লাব থেকে বিদ্যালয় ক্যাম্পাস পর্যন্ত প্রায় অর্ধকিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক সংস্কার সহ পিচ ঢালাই করার কার্যক্রম প্রায় শেষের পথে রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র শান্তি চাকমা বলেন, নতুন এই যোগযোগ ব্যবস্থার ফলে শিক্ষার্থীদের দেড়শত ফুট উচ্চ পাহাড়ি পথের বিকল্প সড়ক সৃষ্টি হয়েছে। আগে যেখানে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পায়ে হেটে উঠা দুরহ ছিল সেখানে এখন যানবাহন নিয়েও যাওয়া যায়। নতুন এই যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার কার্যক্রমে গতি এসেছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অনিল কুমার নাথ বলেন, ‘দীর্ঘদিনের পুরানো একটা সমস্যা ছিল বিদ্যালয়ে আসাযাওয়ার ব্যবস্থাটি। কেপিএম সড়ক দিয়ে খাঁন সাহেব মাজার থেকে ২০৮টি খাড়া সিঁড়ি বেয়ে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উঠতে হতো। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়ের এই সমস্যার কারণে প্রতিষ্ঠানটি সার্বিক দিক দিয়ে পিছিয়ে ছিল। এখন নতুন যোগযোগ ব্যবস্থার কারণে বিদ্যালয়ের সার্বিক দৃশ্যপটে পরিবর্তন এসেছে।’
চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়াম্যান আনোয়ার ইসলাম চৌধুরী জানান, ‘স্কুলটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইলিয়াছ কাঞ্চন চৌধুরীর অনুরোধে বিদ্যালয়ে আসাযাওয়ার জন্য বিকল্প সড়ক সংস্কারের সরকারি ভাবে ৬৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছি। সড়ক নির্মাণ কাজে বাকী অর্থ ইলিয়াছ কাঞ্চন চৌধুরী নিজ অর্থায়নে সম্পন্ন করছেন। স্কুলের শিক্ষার মান বাড়াতে বিকল্প সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর সাথে ৬০ বছরের পুরানো সমস্যা নিরসন হয়েছে।’
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ সভাপতি ইলিয়াছ কাঞ্চন চৌধুরী বলেন, ‘বিদ্যালয়টি একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এখন দেশবিদেশে প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিদ্যালয়টির মূল সমস্যা ছিল দুর্গম সুউচ্চ যোগাযোগ ব্যবস্থা। এর কারণে বিদ্যালয়টি সব দিক দিয়ে পিছিয়ে ছিল। সম্প্রতি বিদ্যালয়টি নতুন ক্যাম্পাসে সড়িয়ে আনা হয়েছে। এরসাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চন্দ্রঘোনা মিশন ক্লাব থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত ডা. এস এম চৌধুরী সড়কটি পাহাড়ের পথ দিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করি। চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগীতায় কাজটি এখন শেষ পর্যায়ে। এই পথে শিক্ষার্থীরা এখন স্বাচ্ছন্দে আসাযাওয়া করতে পারছে। এই যোগযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে দীর্ঘ ৬০ বছরের পুরানো সমস্যার অবসান হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরাও বিদ্যালয়গামী হয়েছে। যোগযোগ ব্যবস্থায় বদলে গেছে বিদ্যালয়ের সার্বিক পড়ালেখার মান। এই কাজে সহযোগীতা করা সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানায়।’