দীঘিনালায় রিংওয়েল থেকে লাশ উদ্ধার রহস্য উদঘাটন, আটক ৪

দীঘিনালা প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় যুবলীগ নেতার লাশ উদ্ধারের ৩দিনের মধ্যে হত্যারহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ৪জনকে আটক করা হ

নবাগত গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডারের লক্ষ্মীছড়ি জোনে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা
মাহে রমজানে আত্ম-মানবতার সেবায় গুইমারা রিজিয়ন
পানছড়ি বাজারে আগুনে পুড়েছে বসত বাড়িসহ ১৫ দোকান

দীঘিনালা প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় যুবলীগ নেতার লাশ উদ্ধারের ৩দিনের মধ্যে হত্যারহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ৪জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে পালিয়ে যাওয়া ১জনকে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অপর ৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয় দীঘিনালার বিভিন্ন এলাকা থেকে। পুলিশ জানায়, তক্ষক ‘কারবার’ নিয়ে বিরোধের জের ধরে মোশারফ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে বলে ধারনা করা হয় ।

১৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটায় দীঘিনালা থানা পুলিশ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মোশারফ হত্যাকান্ডের আটকদের স্বীকারোক্তির মতে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার আলী আহম্মদ খান হত্যাকান্ডের বিবরণ দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালাউদ্দিন, দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ সামসুদ্দীন ভূঁইয়া। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উত্তর রসিকনগর এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে হাতেম আলী (৩৫), মধ্যবেতছড়ি গোরস্থান পাড়ার আলাল খাঁর ছেলে ফজর আলী (৩৪), একই এলাকার হযরত আলীর ছেলে সাইদুর রহমান (৩২) এবং রসিক নগর বটতলীর ফালু মিয়ার ছেলে নবী হোসেন (৩১)। সবাই তক্ষক ‘কারবারে’ জড়িত ছিলেন বলে জানান ।

দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ সামসুদ্দীন ভূঁইয়া জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। সবাই তক্ষক কারবারি। তবে তাদের মধ্যে মোশারফ বেশি চালাক। তিনি সবার সঙ্গে থেকে লাভের ভাগ নিতেন। বিষয়টি গোপনে স্থানীয় ছেলেদের জানিয়ে তক্ষক ক্রেতাকে তক্ষকসহ আটক করাতেন। তখন ক্রেতার মুক্তির জন্য স্থানীয় ছেলেদের টাকার একটা ভাগ দিতে হতো তাকে। স্থানীয় ছেলেদের পাওয়া সেই টাকা থেকেও মোশারফ একটি অংশ পেতেন। দীর্ঘদিন এমন অবস্থায় পরে বাকি ৪জন মিলে মোশারফকে হত্যা করে পথের কাঁটা সরানোর পরিকল্পনা করা হয়। প্রধান পরিকল্পনাকারী হলেন হাতেম। তবে হত্যায় হাতেম অংশ নেননি। বাকি তিনজনে মিলে হত্যা করেন। বৈসাবিতে ও বাংলা নববর্ষে মানুষের ব্যস্ততার মধ্যে হত্যা করার পরিকল্পনা চুড়ান্ত করা হয় হত্যার ৫দিন আগে। সেই অনুযায়ী শুক্রবার রাতে লাখ টাকার তক্ষক পাওয়া গেছে বলে রসিকনগর বাজারের হযরতের দোকান থেকে মোশারফকে ডেকে আনেন ফজর আলী। বাজারের পাশে পরিত্যক্ত রিং টিউবওয়েলের পাশে অপেক্ষায় ছিলেন সাইদুর ও নবী হোসেন। সেখানে পৌঁছতেই সাইদুর প্রথমে মোশারফের মাথায় পিছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। নবী হোসেনও উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন এবং ফজর আলীও গলায় ধারালো অস্ত্র চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে ধারালো অস্ত্র, মোশারফের মোবাইল ফোনসহ লাশটি রিং টিউবওয়েলের গর্তে ফেলে দেন।

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালাউদ্দিন বলেন, হত্যার পরও হত্যাকারীরা এলাকায় ছিল। ২দিন পর গর্তে লাশ রয়েছে প্রচার হওয়ার সাথে সাথে ফজর আলী পালিয়ে যায় এবং মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করে দেয়। তবু প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বুধবার ভোররাতে ফজর আলীকে হাটহাজারীর কুয়াইশ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সেদিনই বাকিদের দীঘিনালার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা তিনি।

উল্লেখ্য গত শুক্রবার রাত থেকে নিখোঁজ হন মোশারফ (৩২)। রবিবার বিকেলে রসিকনগর বাজারের পার্শ্ববর্তী পরিত্যক্ত রিং টিউবওয়েলের গর্ত থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মোশারফ উপজেলার মধ্যবেতছড়ি গ্রামের আ. কুদ্দুস এর ছেলে এবং মেরুং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।