নারী ফুটবলার মনিকা চাকমাকে বরণ করতে লক্ষ্মীছড়িবাসী প্রস্তুত

নারী ফুটবলার মনিকা চাকমাকে বরণ করতে লক্ষ্মীছড়িবাসী প্রস্তুত

মোবারক হোসেন: মনিকা চাকমা। আলোচিত এক বাংলাদেশ নারী ফুটবলারের নাম। প্রথমবারের মতো সাফ ফুটবলের শিরোপা অর্জন যা গোটা দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই সা

লক্ষ্মীছড়ি জোন কমান্ডার’স কাপ ফুুটবল টুর্ণামেন্টে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করলো যারা
গণ সংবর্ধনায় সিক্ত হলেন বিশ্বখ্যাত খাগড়াছড়ির তিন ফুটবল কন্যা
বৈসাবি ও নববর্ষ উপলক্ষে মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে ফুটবল ম্যাচ

মোবারক হোসেন: মনিকা চাকমা। আলোচিত এক বাংলাদেশ নারী ফুটবলারের নাম। প্রথমবারের মতো সাফ ফুটবলের শিরোপা অর্জন যা গোটা দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই সাফল্যে আনন্দে ভাসছে দেশ। বাংলাদেশ টীম নেপালকে হারানোর পর খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ির উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণের মাঝে বিরাজ করছে আনন্দ-উল্লাস। গর্বিত লক্ষ্মীছড়িবাসী। বিজয় উল্লাস প্রকাশ করেছে মনিকা চাকমার নিজ বাড়ি সুমন্ত পাড়ার মানুষ। বিজয়ের খবরে চলে মিষ্টি বিতরণ। মনিকা চাকমাকে বরণ করতে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মনিকা চাকমার পিতা-মাতা ও স্বজন এবং এলাকাবাসী অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে সেই মহেন্দ্র ক্ষণের জন্য। লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ইশতিয়াক ইমন বলেন, মনিকা চাকমাকে বরণ করতে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত নির্ধিারিত তারিখ ঠিক করা হয়নি। মনিকা চাকমার পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ কাজ খুব শিগ্রই শেষ হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুল চৌধুরী বলেন, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সংবর্ধনা বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এই এলাকার কৃতি সন্তান হিসেবে তাকে আমরা সর্বোচ্চ সম্মানটুকু দেয়ার চেষ্টা কবরো। পিছিয়ে পরা এই লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার নাম দেশে-বিদেশে যার মাধ্যমে এত পরিচিতি পেলো তার যথাযথ সম্মান আমরা দেখাবো।

লক্ষ্মীছড়ির গর্ব দেশের আলোচিত এ নারী ফুটবলার মনিকা চাকমার বাড়ি উপজেলা সদর থেকে ৭কি: মি: দুরে সুমন্ত পাড়া এলাকায়। বাড়িতে যাওয়ার ভালো রাস্তা নেই। একটি ছড়া পার হয়ে যেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি হলে সেটা পার হওয়া সম্ভব না। চলতি বছরের মার্চ মাসের ২৩ তারিখে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাব চন্দ্র বিশ্বাস গিয়েছিলেন মনিকা চাকমার বাড়িতে। লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুল চৌধুরী ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ইশতিয়াক ইমন এসময় উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক মনিকা চাকমার পরিবারের সদস্যদের খোঁজ খবর নেন। এ সময় মনিকা চাকমা ও পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ এবং তার জন্য দুই লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র করে দেয়ার ঘোষণা পরবর্তিতে বাস্তবায়ন করেন। মনিকা চাকমার বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা এবং ছড়ার উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক। ২৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মনিকা চাকমার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ঘর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়। তবে সেই চলাচলের কাঁচা রাস্তাটি সেরকমই রয়ে গেছে। ছড়া পার হয়ে যেতে হয়। মনিকা চাকমার বাবা বিন্দু কুমার চাকমা বলেন, আমি আমার মেয়ের সাফল্যে আমি গর্বিত। মনিকা শুধু এলাকারই গৌরব উজ্জ্বল করেনি সারা দেশের গৌরব উজ্জল করেছে। মনিকা আগামীতে আরো ভালো কিছু করে ফুটবলকে অনেক দুর এগিয়ে নিয়ে যাবে সেই আশা করি। মা রবি মালা চাকমা বলেন, আমার মেয়ের জন্য আর্শিবাদ করি সে ভালো ফুটবল খেলে আমাদের এই উপজেলার সম্মান রাখতে পারে। মনিকা বাড়িতে আসবে আমরা সেই অপেক্ষা করছি।

মনিকার ওঠে আসার গল্পটা ছিল কেমন: বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে লক্ষ্মীছড়ির মরাচেগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় টীমের হয়ে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়ে জেলা পর্যায় খেলেন মনিকা চাকমা। পরে জাতীয় পর্যায় খেলার ডাক পান অনূর্ধ্ব-১৪ দলে। এ দলটি ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এএফসির টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে তৃতীয় স্থান ফেয়ার প্লে ট্রফি জিতেছিলো। ওই আসরে মনিকা গোল করেছিল তিনটি। মনিকা চাকমা বাংলাদেশের জাতীয় দলের নারী ফুটবল খেলোয়াড়। সে খেলে মধ্যমাঠে। ২০১৯ সালে বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে গোল করে পরিচিতি পান। ফিফা তার এ গোলকে ‘জাদুকরী গোল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
২০০৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কৃষক পরিবারে জন্ম নেয়া মনিকা চাকমা এখন সকলের পরিচিত মুখ। ছোটবেলা থেকে ফুটবলের প্রতি মনিকার বাবার পছন্দ ছিলো না। তাই বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চুরি করে ফুটবল খেলতেন। তাঁর সঙ্গী ছিলেন বড় বোন অনিকা চাকমা।
মেয়ে হয়ে খেলবে ফুটবল? ফুটবল তো ছেলেদের খেলা। হয়তো এমনটা ধারণা পোষন করেছিলো মনিকার বাবা মা। তাই খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ির প্রত্যন্ত গ্রামের মনিকা ফুটবলার হয়ে উঠার গল্পটা মসৃণ ছিল না। বাবা মা কখনোই ভাবেননি একদিন মনিকাই বাংলাদেশ মাতাবেন। বাব মা‘র পাঁচ মেয়ের মতো সবার ছোট মেয়ে মনিকাও লেখা পড়া শেষ করে সংসারী হয়ে যেতো। কিন্তু রক্তে মিশে গেয়ে ফুটবল তাই সকল বাঁধা পেরিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে ফুটবল খেলতেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী দলে এ ফুটবলার।
এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশীপের বছাইপর্বে মিয়ানমারকে ১-০ গোলে হারিয়ে এএফসি‘র চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হয় বাংলাদেশের মেয়েরা। কঠিন প্রতিপক্ষ মিয়ানমারকে একমাত্র মনিকা গোলেই হারানো সম্ভব হয়। দুর্দান্ত গোল করে মনিকা ফের আলোচনায় চলে এসেছেন। বাবা পেশায় কৃষক। আর মা রবি মালা গৃহিনী। মনিকারা পাঁচ বোন। শিক্ষক বীরসেন চাকমা ও গোপাল দে ছিল মনিকা চাকমা ওঠে আসার পেছনের কারিগড়।