পার্বত্য জেলায় ই-লার্নিং কার্যক্রমের উদ্বোধন

শেয়ার করুন

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ই-লার্নিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিন পার্বত্য জেলার তিনটি প্রাথমিক ও নয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধান উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
খাগড়াছড়ি জেলা থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ,জেলা পরিষদের সদস্য নিটোল মনি চাকমা,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিয়া সুলতানা-সহ কমলছড়ি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এদিন খাগড়াছড়ি জেলার চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—কমলছড়ি পাইলট হাই স্কুল, হাজাছড়ি জুনিয়র হাই স্কুল, মানিকছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পুজগাঙ মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,“সারা পৃথিবীতে ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে, অথচ তোমাদের এলাকায় এতদিন তা পৌঁছায়নি—এ জন্য সরকার দায়ী। আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। আজ মাত্র ১২টি স্কুল দিয়ে শুরু করলাম, অথচ এটি সাড়ে তিন হাজার স্কুলে শুরু হওয়ার কথা ছিল। আমাদের খুব দ্রুত সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।”
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশ্বমানের হলেও দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ভালো শিক্ষকরা সেখানে যেতে চান না। ইন্টারনেটভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে এখন আর একটি বিদ্যালয়কে শুধু একজন শিক্ষকের ওপর নির্ভর করতে হবে না। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে।
ই-লার্নিংয়ের সুফল তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “ইন্টারনেট শুধু শিক্ষা নয়, স্বাস্থ্যসেবাতেও বড় পরিবর্তন আনবে। দুর্গম এলাকায় ভালো ডাক্তার না থাকলেও অনলাইনের মাধ্যমে চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়া যাবে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। অন্য নাগরিকরা যে অধিকার পায়, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষও সেই অধিকার পাবে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তিন পার্বত্য জেলার নির্বাচিত ১৪৯টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রম চালু করা হবে।”
পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরুর জন্য সরকারপ্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।