• July 25, 2024

প্রতিবেদন দিতে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ হেডম্যানের বিরুদ্ধে

 প্রতিবেদন দিতে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ হেডম্যানের বিরুদ্ধে

আব্দুর রউফ: খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার বেলছড়ি মৌজার হেডম্যান শুভ রঞ্জন রোয়াজারের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ভূমির রেকর্ড সংশোধন, খাজনা আদায় ও অন্যান্য ভূমি সংক্রান্ত সেবা প্রদানের বিপরীতে ঘুষ না দিলে তিনি প্রতিবেদন দেন না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাই বাধ্য হয়ে সেবাগ্রহীতাকে অবৈধ আর্থিক লেনদেন করেই নিতে হয় প্রতিবেদন। সরকারি লোকজনের কাছ থেকেও ঘুষ আদায় করেন তিনি। এ সংক্রান্ত একটি অডিও ও একটি ভিডিও ক্লিপ এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

অডিও ক্লিপে শোনা যায়, ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি নামজারির প্রেক্ষিতে রেকর্ড সংশোধনের জন্য হেডম্যানের নিকট গেলে তিনি তার কাছে রেকর্ড সংশোধন করার রশিদ সংগ্রহ ও অন্যান্য খরচের কথা উল্লেখ করে অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করেন এবং রীতিমতো অর্থের পরিমাণ নিয়ে দর কষাকষি করেন। এ ছাড়া অন্য একটি ভিডিও ক্লিপে শুভকে ভুক্তভোগী ব্যক্তির নিকট হতে উৎকোচের টাকা গ্রহণপূর্বক টাকা গুনতে দেখা যায়। এ সময় তার ছেলেকেও পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওতে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, উপজেলা ভূমি অফিসে চাকরি করা সত্ত্বেও নিজ নামজারির জন্য তার বাড়ি থেকে হেডম্যান নিজে গিয়ে ঘুষ নিয়ে আসেন। এ সময় শুভকে টাকার জন্য অনেকবার তার বাড়িতে যাওয়ার কথা স্বীকার করতে দেখা যায়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শুভ বেলছড়ি মৌজায় হেডম্যান হিসেবে অনেক বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে গত বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে তার দায়িত্ব পালনে প্রায় অক্ষম হয়ে পড়েছেন।

বর্তমানে তার বয়স প্রায় ৮০’র কাছাকাছি হলেও ঘুষ আদায় এবং জনসাধারণকে হয়রানির কার্যক্রম চালিয়েই যাচ্ছেন। অনুসন্ধানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার ছেলেও জড়িত আছে বলে জানায় ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগী মো. আসমাউল হোসেন জানান, আমি একটা প্রতিবেদনের জন্য হেডম্যান শুভ’র কাছে গেলে তিনি আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি প্রথমে ৫ হাজার টাকা দেই। বাকি ৫ হাজার টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তিনি আমার কাগজপত্র রেখে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে আরও ৫ হাজার টাকা দিয়ে হেডম্যানের প্রতিবেদন পাই। আবার নুটিং শেষে খাজনা দাখিলার জন্য আরও ২ হাজার টাকা চায়। টাকা না দিলে তারা কোনো কাগজ দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়। হেডম্যানের এ কাজে সরাসরি তার ছেলে সহযোগিতা করছে।

ভূমি অফিসের প্রসেস সার্ভার মো. সালাহউদ্দিন বলেন, একটা প্রতিবেদনের জন্য আমি হেডম্যানের কাছে গেলে তিনি ১০ হাজার টাকা দিতে বলেন। আমি টাকা কেন দিবো জানতে চাইলে আমাকে বলেন ‘ঘর থেকে বের হন। পরে আমি এসিল্যান্ডকে জানাই। কিন্তু হেডম্যান এবং তার ছেলে কেউ এসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। পরে তিনি কাগজগুলো রাখেন কিন্তু টাকা না দেয়ায় প্রতিবেদন দেননি। ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে কথা বলতে হেডম্যান শুভ রঞ্জন রোয়াজার ব্যক্তিগত নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে মং সার্কেল চিপ সাচিংপ্রু চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে আমাকে কেউ লিখিত আকারে অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। এখানে শুধু আমি একা নই, জেলা প্রশাসনও এখানে ভূমিকা রাখতে পারেন। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান বলেন, হেডম্যানের অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। টাকা নেয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি আমরা তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

পাহাড়ের আলো

https://pahareralo.com

সর্বাধিক জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে জানতে চোখ রাখুন পাহাড়ের আলোতে।

Related post