খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

প্রথমদিনে খাগড়াছড়িতে টিকা পেলো ৪৭৫জন, টার্গেট পূরণ হয়নি

নিবন্ধন তালিকায় নেই কোনও সাংবাদিক

স্টাফ রিপোর্টার: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় টিকা গ্রহণের প্রথম দিনে ৬শ ১২ জনকে টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও টার্গেট পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এদিন টিকা দেওয়া হয়েছে ৪৭৫ জনপ্রতিনিধি, পুলিশ কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও নার্সকে। জেলার নবগঠিত গুইমারা উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় সেখানে কোনও টিকা বরাদ্দ হয়নি। গুইমারাবাসী তাদের পূরানো উপজেলা রামগড় অথবা পাশের মাটিরাঙা উপজেলায় গিয়ে টিকা গ্রহণ করতে পারবেন। তবে প্রথমদিনে জেলার ৯ উপজেলার কোথাও কোনও সাংবাদিক টিকা গ্রহণ করার ডাক পাননি। এমনকি এখন পর্যন্ত টিকা গ্রহণের জন্য যে ৫ হাজার ৩শ’ব্যক্তি নিবন্ধন করেছেন, সেখানেও কোনও সাংবাদিকের নাম নেই।

রবিবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ভিডিও কনফারেন্সে কোভিড- ১৯ ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধনের পরপরই খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ২টি বুথে কোভিড- ১৯ ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচি শুরু হয়। সারা দিনে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে টিকা নিয়েছেন ১৬৭ জন। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস প্রথম টিকা গ্রহণ করেন। তারপর খাগড়াছড়ি পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী ও সিভিল সার্জন ডাক্তার নুপুর কান্তি দাস করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।

এছাড়া জেলার সীমান্তবর্তী রামগড় উপজেলায় টিকা বরাদ্দ হয়েছে ১২০০ জনের জন্য, প্রথম টিকা গ্রহণ করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কার্বারী। এ উপজেলায় সারাদিনে টিকা গ্রহণ করেছেন মাত্র ৩০ জন।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ভ্যাকসিন গিয়েছে ৫১ ডোজ। প্রথম দিন টিকা গ্রহণ করেছেন ৩০ জন। এ উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজি সাইফুল আলম প্রথম টিকা গ্রহণ করেন। মানিকছড়ি উপজেলায় মোট ভ্যাকসিন গিয়েছে ১২০০ জনের জন্য। টিকা দানের প্রথম দিনে টিকা নিয়েছেন ৪৯ জন। সর্বপ্রথম টিকা নিয়েছেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. মো.
মহি উদ্দিন ।

মাটিরাঙা উপজেলার জন্য প্রথম দিনে টিকা বরাদ্দ হয়েছে ২৪৭ টি। প্রথমদিন টিকা গ্রহণ করেছেন ৭৮ জন এবং সর্বপ্রথম টিকা গ্রহণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৃলা দেব।

মহালছড়ি উপজেলার জন্য বরাদ্দ করা টিকার পরিমাণ ৪৫০ । প্রথম দিনে টিকা নিয়েছেন ১৮ জন। সর্বপ্রথম টিকাগ্রহণকারী হচ্ছেন ডা. মৃদুল ত্রিপুরা ।

দিঘীনালা উপজেলার জন্য টিকা বরাদ্দ হয়েছে ১ হাজার জনের জন্য, প্রথম দিন গ্রহণ করেছেন ৪৯ জন। প্রথম গ্রহণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ উল্ল্যাহ ।

পানছড়ি উপজেলার জন্য টিকা বরাদ্দ হয়েছে ৬১২ ডোজ। প্রথম দিন টিকা নিয়েছেন ৫৪ জন। প্রথম টিকা নিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অনুতোষ চাকমা । পুরো জেলায় সর্বমোট ১২ হাজার ডোজ টিকা বরাদ্দ হয়েছে প্রথম দফার জন্য।

জেলার ৮ উপজেলায় সম্মুখ সারির পুলিশ, সরকাররি কর্মকর্তা, ডাক্তার, নার্সরা টিকা নিলেও কোন উপজেলায় সাংবাদিকেরা এর আওতায় আসেনি। লক্ষীছড়ি উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মোবারক হোসেন এবং মানিকছড়ি উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মান্নান বলেন, টিকা নেওয়া পরের কথা, তারা অনেক চেষ্টা করেও রেজিস্ট্রেশন করতে পারেননি।

খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন ডাক্তার নুপুর কান্তি দাস জানান, জেলায় এ পর্যন্ত টিকা গ্রহণের জন্য ৫ হাজার ৩’শ ব্যক্তি নিবন্ধন করেছেন।