চট্টগ্রাম সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

ফটিকছড়িতে ব্যবসায়ী মঈন হত্যার ক্লু উদঘাটন, প্রেমিকা গ্রেফতার

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: ফটিকছড়ি পৌরসদরের মঈন উদ্দিন (২৭) ক্লু উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকান্ডের ৮ দিন পর পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত মঈন উদ্দিনের প্রেমিকা হামিদা আকতার রনি (১৯) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। সে ফটিকছড়ি পৌরসভার দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের মো: ইউনুছের মেছে। ১৭ জানুয়ারি বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রনিকে তার বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ। নিহত মঈন উদ্দিনের মোবাইলের কল লিস্ট পর্যালোচনা করে প্রযুক্তির সহায়তায় রনিকে মঈন উদ্দিনের খুনি হিসেবে সনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রনি হত্যাকান্ডের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। ফটিকছড়ি থানার (ওসি) অফিসার ইনচার্জ জাকের হোসাইন মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ১ বছর ধরে রনিদের বাড়ীতে বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে রনির সাথে পরিচয় হয় (নিহত) মঈনের। এর পর তা ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে রুপ নেয়। দুজন দুজনের আরো ঘনিস্ট হতে থাকে।  এর মধ্যে মঈন অন্যত্র গোপনে বিয়ে করে ফেলে। রনি ছাড়াও মঈন নাজিরহাট এলাকায় আরো এক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এদিকে মঈনের কথাবার্তা রনির কাছে সন্দেহ জনক হওয়ায় রনি মঈনের সাথে তেমন অন্তরঙ্গ হয়নি। এদিকে ঘটনার দিন গত ৯ জানুয়ারী রাতে রনির মা-বাবা অন্যত্র বেড়াতে গেলে এ সুযোগে মঈন রনিদের ঘরে যায়। এর আগে দুজনের মধ্যে ৭ বার মোবাইলে কথোপকথন হয়।

পুলিশের কাছে গ্রেফতারকৃত প্রেমিকা হামিদা আকতার রনি জানান, মঈন তাদের ঘরে যাওয়ার পর দু জনের মধ্যে কথা বার্তার এক পর্যায়ে মঈন রনিকে ধর্ষনের চেস্টা করে। এসময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে রনি ছুরি দিয়ে মঈনের পেটে পর পর দুবার  আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই মঈন মারা যায়। রনি পুলিশকে জানায়, মঈনকে রনি পছন্দ না করলেও মঈন প্রায়ই সময় মোবাইলে রনিকে বিরক্ত করত। স্থানীয় সাইফুল নামে এক যুবকের মাধ্যমে রনির গতিবিধির খোজ খবর নিত। পুলিশ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করেছে। গ্রেফতারকৃত হামিদা আকতার রনি ফটিকছড়ি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এবছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী। নিজে দুটি মোবাইল সিম ব্যবহার করত রনি। তম্মধ্যে একটি সিম স্থানীয় এক যুবকের নামে রেজিস্ট্রেশন করা। এদিকে নিহত মঈনের দুটি সিমই রনি হত্যাকান্ডের পর নষ্ট করে ফেলেছে। হত্যাকান্ডটি রনি একা করেছে এমন দাবী করলেও লাশ কিভাবে পুকুরে এল, এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানান ওসি মাহমুদ।

উল্লেখ্য, গত ১০ জানুয়ারী বুধবার সকালে পৌরসভার ২ নম্বর দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া এলাকার গ্রেফতারকৃত মহিলা বাড়ি ৫০ গজ দূরে পুকুর থেকে মঈনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।