খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদগুইমারাপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

ফরম পূরনে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা, গুইমারা মাদ্রাসার সুপার জায়নুলের খুটির জোড় কোথায় ?

স্টাফ রিপোর্টার: স্বেচ্ছাচারী, দুনীর্তিবাজ ও চারিত্রিক নৈকিতকা স্খলনকৃত বিতর্কিত গুইমারা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার জায়নুল আবদীনের কুটকৌশল ও দুনীর্তির কাছে হার মেনেছে প্রশাসন ও সুধী সমাজের বিবেক। ফরমফিলাপ থেকে বঞ্চিত ৩শিক্ষার্থী এখনও ফরমফিলআপ করতে পারেনি বরং তারা যাতে ফরম ফিলআপ করতে না পারে তার জন্য নানা মুখী তৎপরতা ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের ম্যানেজ করার মিশনে ব্যক্ত সময় পার করছে সে।

৩শিক্ষার্থীর যাতে ফরম-পিলআপ করতে না পারে সে মাদ্রাসার অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গণস্বাক্ষর নিয়ে রাখে এ দূর্নীতিবাজ। শিক্ষক পিতার সমতুল্য। সন্তান শত অন্যায় করলেও পিতা সন্তানের ভবিষ্যত যাতে নষ্ট না হয় তার জন্য জীবনবাজী রাখার নজীর থাকলেও শুধুমাত্র ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য জায়নুল আবদীন ৩শিক্ষার্থীরকে পরীক্ষা দিতে না পারায় সকল কার্যক্রম গ্রহণ করে। বর্তমানে সে ফুরফুরে মেজাজে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সুপারের অন্যায় ও অনিয়ম ও ৩শিক্ষার্থীর ফরমপিলআপ করতে না দেওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশন করায় সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে নানানা কুৎসা রটিয়ে বেড়াচ্ছে। সংবাদকর্মীদের নামে অশ্øীল মন্তব্য করে সুপার জায়নুল আবদীন এক সংবাদকর্মীর উপস্থিতিতে বলে “আমি সাংবাদিক পোষী এবং আমার অফিসের পিয়ন আবদুল আলীও সাংবাদিক”। বর্তমানে আবদুল আলীকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন কর্তাব্যক্তিদের কার্যালয়ে ঘুরে ঘুরে নিজের অপকর্ম ডাকার চেষ্টা করছে সে।

সুপার জায়নুল আবদীনের অনিয়ম, দূর্নীতির ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দেশের খ্যাতনামা সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখনও ৩শিক্ষার্থীর ব্যাপারে কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি প্রশাসন বা মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি।
এব্যাপারে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, গুইমারা মাদ্রাসা সুপার জায়নুল আবদীনের বিরুদ্ধে এক ছাত্রের মা বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছে যা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গুইমারা’র একমাত্র দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুপার জায়নুল আবদীনের প্রতিহিংসা ওস্বেচ্ছাচারিতার ব্যক্তিগত লালসার কারণে ২০১৯ সালের শিক্ষার্থী দাখিল পরিক্ষার ফরম পুরণ করতে না পেরে শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পড়ার টেবিল ছেড়ে অনাগত ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাওয়ার শংকায় দিশেহারা হয়ে শিক্ষার্থী মাকে সাথে নিয়ে ঘুরছে বিভিন্ন কর্তা ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে।

এদিকে মাদ্রাসাটির ২০১৯সালের দাখিল পরীক্ষার্থী নুরুন নবীর বিরুদ্ধে প্রেম করার অভিযোগ এনে বিগত ১৬মে ২০১৮ইং তারিখে কৌশলগত ভাবে বহিস্কার করান তিনি। নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে কিন্তু ক্লাস করতে পারবে না বলে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভায় রেজুলেশন করানো হয়। এসময়ে ক্লাশ না করেই কিভাবে পরীক্ষায় কৃতকার্য হবে অভিভাবকদের এমন প্রশ্নে হুংকার দিয়ে সুপার বলেন, হোটেল কর্মচারীর ছেলে বেশী লেখাপড়া করতে হয় না। এরপর নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকালে অন্যের দোষ নুরুন নবীর গায়ে দিয়ে এক বিষয়ে অকৃতকার্য দেখানো হয় বলে পরিক্ষার্থীর মা অভিযোগ সূত্রে জানান। ক্লাস করার সুযোগ না দিয়ে ২০১৯সালের দাখিল পরীক্ষার ফি ও বেতন নেওয়ার পরও ফরম পিলআপ করতে দেওয়া হয়নি তাকে। ইতিপূর্বে আরো বেশ কিছু ছাত্রকে তিনি নানান অজুহাতে বহিস্কার করার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নুরুন নবীর মা জানান অন্যকথা, ভাড়া বাসায় পাশাপাশি বসবাস করেন। মাদ্রাসার সুপারের স্ত্রীর রামগড়ে বেড়াতে গেলে রাত ৯টায় সুপার পানি নিয়ে তার ঘরে অনৈতিক উদ্দেশ্যে ডেকেছেন। ইতিপূর্বে তার স্ত্রীর সাথে ও মনোমালিন্য ছিলো তার। এসবের জের ধরে নানান অজুহাতে সুপার গরিব বলে তাদের হয়রানি করছে। নির্বাচনী পরীক্ষার সময় ২৬০০টাকা দিয়ে অংশগ্রহণ করতে দিলেও ফরম ফিলআপের নামে আরো ৪২৪০টাকা দাবী করছে। অসহায় মা দাবিকৃত টাকা দিতে না পেরে ঘুরছেন পরিচালনা কমিটির কর্তা ব্যক্তিদের দরজায়। এরপর কানের দুল বিক্রি করে দাবীকৃত টাকা সহ গেলে সুপারের পারিবারিক ইস্যু টেনে স্বেচ্ছাচারি মনোভাব পোষন করে তালবাহানা করছেন বলে তিনি জানান।

বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সহ অন্যান্য সদস্যরা ৫দফায় বৈঠক করলেও সুপারের কারণে ঐক্যমতে পৌঁছতে পারেনি বলে পরিচালনা কমিটির সদস্য সূত্রে জানাযায়। পরিচালনা কমিটির সদস্য আনিসুল হক জানান, সুপার জায়নুল কমিটির কোন কথা মানে না। শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন নষ্ট করার অধিকার কারো নেই বলেও তিনি জানান। কমিটির সবাই একমত হলেও সুপারের কারণে ছেলেটি ফরম পিলআপ করতে পারছেনা। অপর সদস্য আবু তাহের লোকজনের উপস্থিতিতে জানান অনেক অনুরোধের পরও কাজ হয়নি তাই তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

স্থানীয় পলাশ চৌধুরী জানান, সরকারী নিয়মকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে মাদ্রাসার সুপার। তাঁর প্রতিবেশী গরীব শিক্ষার্থীর জন্য অনেক তদবির করেছেন কিন্তু সুপার সরকারী নয় নিজের নিয়মে কাজ করায় দুঃখ প্রকাশ করেন। অনেক শিক্ষার্থী, অভিভাবকের অভিযোগ শুনে অনিয়ম পরিহারের অনুরোধ করেছেন কিন্তু সুপার কোন কর্নপাত করেনি। তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে এমন শিক্ষার্থীদের তিনি অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বাড়তি র্মাক দেওয়ার অভিযোগ করেন পলাশ চেীধুরী।

অপরদিকে ২০১৮সালে সুপারের ছেলে প্রেমের চিঠিও নির্বাচনী পরীক্ষায় নকল সহ হল পর্যবেক্ষকের হাতে ধরা পড়ার পর নিজের ছেলে বলে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গরীব বলে অন্যদের শাস্তি অনেক ব্যতিক্রম। এছাড়াও সুপারের নিজ এলাকা রামগড় গর্জনতলীর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং তার নিকট আতœীয় সূত্রে জানাযায়, একসময়ের জামায়াতের অন্যতম সংগঠক জায়নুলের অনিয়মের অভিযোগ নতুন বাজার মাদ্রাসায় রয়েছে। সেখানে তিনি লাঞ্চিত হয়ে গুইমারা মাদ্রাসায় বর্তমানে স্থান নিয়েছে। তার চারিত্রিক বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারাঁ।

এছাড়াও বিগত জেডিসি পরীক্ষায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করলে প্রথম বারের মত ক্ষমা করা হয়।এর পর অনিয়মের মাত্রা বেড়েই চলছে। ২০১৯সালে অনুষ্ঠিতব্য দাখিল পরীক্ষার ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ ব্যক্তিগত রোষানলের অভিযোগ উঠেছে। বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি’র ৩গুণ অর্থ আদায় করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, ফরম ফিলআপের সাথে বিভিন্ন উন্নয়ন খাত দেখিয়ে বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে সুপার।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গির আলম বলেন, তিনি অসুস্থ বর্তমানে হাসপাতালে তবে পারিবারিক সমস্যা পরিহার করে নুরুন্নবীকে ফরম পিলআপ করাতে তিনি সুপারকে বলেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত এসএসসি বিজ্ঞান ১৭৩৫ টাকা এবং মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ ১৫৫৫টাকা। একাধিক অভিভাবক সুত্রে জানা গেছে, বোর্ডের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী প্রতি ৪২৪০টাকা নিলেও দিচ্ছেন না রশিদ। কোন অভিভাবক বা পরীক্ষার্থী এব্যাপারে মুখ খুললে তাকে পড়তে হয়েছে নুরুন্নবীর মত ঝামেলায়।এসব কারনে অভিভাবকরা হতাশাবোধ করছেন। এছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় সরকারী নির্ধারিত ফি ৫০টাকার পরিবর্তে ৭৫জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৫০টাকা হারে আদায় করেছেন। প্রশ্ন করে পাওয়া যায়নি সঠিক কোন উত্তর।

এবিষয়ে গুইমারা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিল্লুর রহমান বলেন, বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং সুপার সত্যতা স্বীকার করেছেন তবে নানান খাতও দেখেয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন আইনগত ব্যবস্থা তিনি নেননি। অভিযোগ রয়েছে সুপারের সাথে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের ব্যক্তিগত সখ্যতা। কিন্তু অসহায় মায়ের অভিযোগ শুনার কেও নেই। শুধু নুরুন নবী নয়তার মত আরো ২শিক্ষার্থীরও একই পরিনতি হয়েছে বলে শিক্ষার্থীর পিতার সাথে কথা বলে জানা যায়। সুপার জায়নুল কথার প্রসঙ্গে বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীরকে ২লক্ষ টাকা দিয়ে চাকুরী নিয়েছি। আমি জামায়াত হলে এসরকারের আমলে কিভাবে চাকুরী পেলাম। এখন আমিই বড় আওয়ামীলীগ। সে জামায়াত করলেও বর্তমানে সবচেয়ে বড় আওয়ামীলীগ দাবী করে বলে কেউ আমাকে কিছু করতে পারবে না। টাকার নৌকা পাহাড় দিয়ে চলে বলে মন্তব্য করে জায়নুল আরো টাকা পেলে সব অফিসারই বশে এসে যায় বলে সংবাদকর্মীর সামনে মন্তব্য করে।

অভিযুক্ত সুপার জায়নুল আবদীন বলেন, ৪২৪০টাকার নিয়েছেন দুদক চাইলে উপযুক্ত হিসেব দিবেন। তবে এসকল বিষয়ে তাঁর বেতন বন্ধ বা চাকুরী যাবে না। পরিচালনা কমিটির নির্দেশেই এটাকা নিয়েছে বলে দাবী করলেও কমিটির সদস্যরা তা অস্বীকার করে বলে সুপার কারো কোন কথা শুনে না। নিজের মত করে চলে।

ব্যক্তিগত জীবনে জায়নুলের পিতা রামগড় সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন। দীর্ঘদিন যাবৎ জায়নুল পিতা মাতার ভরণ পোষণ দেয় না মর্মে কিছুদিন পূর্বে উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির নিকট ছেলে জায়নুলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন বলে রামগড় উপজেলা কউিনিটিশিং কমিটির সভাপতি জলিল মাষ্টার এপ্রতিনিধির কাছে সত্যতা নিশ্চিত করেন।

নুরুননবী সহ বাকীদের শিক্ষাজীবন যাতে নষ্ট না হয় তা নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়ি’র জেলা প্রশাসনক সহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে ভুক্তভোগীর পরিবার সহ এলাকাবাসী।