খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদমানিকছড়িশিরোনামস্লাইড নিউজ

বর্ষা এলেই মাছ ধরার উৎসব 

মো. মফিজুল ইসলাম: দক্ষিণের আকাশে কালো মেঘ জমেছে। রাতভর বৃষ্টির পর খানেকটা আগেও একপশলা বৃষ্টি হয়েছে। সময়টা বৃহস্পতিবার বিকেল বেলা। পায়ে হাঁটা কাদামাখা পথ পেরিয়ে এলাকার হালদা খালের দিকে যাচ্ছে গ্রামের কয়েক কিশোর। প্রত্যেকের হাতে মাছ ধরার জাল। সঙ্গে এসেছে বাড়ির ছোট্ট – বড় সদস্যরাও। হালদা খালে মাছ ধরা শুরু করেছে। তবে বৃষ্টি নামলে পানিতে স্রোত আসবে, বৃষ্টির ফোঁটায় মাছদের উন্মাদনা বাড়বে, টানে টানে জালে পড়বে মাছের ঝাঁক। এটি খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরী ইউনিয়নের মধ্যম পাড়ার চিত্র।
বর্ষা এলেই গ্রামজুড়ে যেন উৎসব লাগে। ছেলে-বুড়ো সবাই সে উৎসবে মেতে ওঠেন । এটি মাছ ধরার উৎসব। নেই আনুষ্ঠানিকতা, বৃষ্টি এল তো নানা ধরনের জাল নিয়ে খাল-বিলে নেমে পড়ে আবালবৃদ্ধবনিতা। বর্ষায় খাল বিলে থইথই করা পানিতে দেশি মাছ শিকার করে তারা। অবশ্য এখন খাল–বিলে পানি থাকলেও মাছ একদমই কমে গেছে। যা আছে, তাতেই গ্রামবাংলার ঐতিহ্য রক্ষা হচ্ছে কোনো রকমে। লাগামহীন তামাক চাষে ও পরিবেশদূষণের প্রভাব পড়েছে মানিকছড়ি হালদা খাল–বিলের ঐতিহ্যবাহী মাছের ওপর। এ দেশের গ্রামগঞ্জে মাছ ধরার অনানুষ্ঠানিক উৎসবের দেখা মেলে বর্ষায় নতুন পানি এলে।
‘টানের মাছ’ শব্দটি স্থানীয়ভাবে একটি বিশেষ ধরনের জালে মাছ ধরাকে বোঝায়। স্থানীয় ভাষায় একে ধর্মজাল বলা হয়। এটি পানিতে পেতে রেখে নির্দিষ্ট সময় অন্তর পানি থেকে টেনে তুলে মাছ ধরা হয় বলে একে স্থানীয় ব্যক্তিরা টানের মাছ বলেই ডাকেন।
বর্ষার মধ্যভাগ চলছে। মধ্যম পাড়া গ্রামের মধ্যে দিয়েই এঁকেবেঁকে ভয়ে গেছে হালদা খালটি। বর্ষা এলে এখানে পানি বাড়ে। আর তাতেই মেলে শিং, কই, মাগুর, ছোট বাইম, গুইত্তা (গুথুম), শোল, ট্যাংরা, কাকিলা (কাইক্কা), ভেদার, খইলা (খলসে), পুঁটি, টাকি, মলা, চিংড়িসহ বিভিন্ন দেশি মাছ। গত কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে অনেক টাই পানি বাড়ছে। আর এই পানিতেই বিভিন্ন ধরনের জাল ফেলে মাছ ধরা হচ্ছে।
ষাটোর্ধ্ব বয়সী মো. দেলোয়ার হোসেন ধর্মজাল ফেলেছেন। তিনি জানান, এখানে আগে অনেক মাছ পাওয়া যেত। এখন আর তেমন মাছ নেই।
তবে এমন চিরায়ত উৎসব খুব বেশি দিন টিকবে না এই হালদা খালে। খালে পরিবেশ দূষণে পানিতে মাছ বাড়ছে না। অনেক মাছের জাত ইতিমধ্যেই গ্রামের জলাশয় থেকে বিদায় নিয়েছে। বিশেষ করে মলা মাছ একদম দেখাই যায় না।