বহু প্রতিক্ষীত বাইন্যাছোলা-মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন সোমবার

মোবারক হোসেন: খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি সীমান্তবর্তী বাইন্যাছোলা ও মানিকপুর এলাকায় অন্তত ১০টি গ্রাম রয়েছে যেখানে কোনো উচ্চ শিক্ষা প্র

গুইমারা উপজেলায় পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির ২২তম বর্ষপূর্তি
বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কার্য ভাংচুরের প্রতিবাদে রামগড়ে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন
মানিকছড়িতে নির্বাচনী প্রচারনায় জেলা পরিষদ সদস্য জব্বার

মোবারক হোসেন: খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি সীমান্তবর্তী বাইন্যাছোলা ও মানিকপুর এলাকায় অন্তত ১০টি গ্রাম রয়েছে যেখানে কোনো উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা সদরে অবস্থিত মডেল উচ্চ বিদ্যালয় এবং ফটিকছড়িতে কাঞ্চননগর বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় এ দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উক্ত এলাকা থেকে লক্ষ্মীছড়ি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দুরুত্ব প্রায় ১০ কি: মি: এবং কাঞ্চননগর বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের দুরুত্ব প্রায় ১১ কি: মি:। ফলে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পর অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কাছাকাছি কোনো হাইস্কুল না থাকায় উচ্চ শিক্ষার অভাবে অকালেই ঝড়ে পড়ছে শত শত ছেলে-মেয়ে। স্বাধীনতার পর থেকেই উচ্চ শিক্ষা বঞ্চিত হয়ে আসছে বাইন্যাছেলা,মনিকপুর, সরকারি ডেবা, লেলাং বড় পাড়া, হলুদ্যাখোলা, সমুড় পাড়া, মহিষকাটা, কুমারিসহ আশপাশ এলাকার প্রায় ১৫টি গ্রাম।

উল্লেখ্য ১৯৬০ সালে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই বাঁধ দেয়ার ফলে জমি হারানো ক্ষতিগ্রস্থ্য ১’শ ৫০ পরিবার সমুড় পাড়া ও বাইন্যাছোলা এলাকায় পূর্ণবাসন করা হয়। সেই থেকে ডি.পি পাড়া (ডিসপ্লেইজ পার্সন) এলাকা হিসেবে নামকরণ করা হয়। এককালীন কিছু জমি বরাদ্দ দিলেও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে কার্যকরী ব্যবস্থাই নেয় নি কোনো সরকার। নেই তাদের কোনো রেশন কার্ড। ফলে অনেকটাই মানবতর জীবন যাপন করছে ডি.পি পাড়ার মানুষগুলো। উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় অর্থাভাবে ছেলে-মেয়েদের লেখা পড়া করানো অনেকটাই কষ্টসাধ্য। তাই এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনে দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে অবহেলিত এলাকার উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করতে এগিয়ে আসলো লক্ষ্মীছড়ি সেনা জোন। পাহাড়ি-বাঙ্গালিসহ সকল এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে লক্ষ্মীছড়ি জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল মো: মিজানুর রহমান মিজান এর প্রস্তাবনায় গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম সাজেদুল ইসলাম এর পরামর্শ ও দিক নির্দেশনায় বাইন্যাছোলা-মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি চালু হওয়া এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।

২৯ অক্টোবর সোমবার বহু প্রতিক্ষিত বাইন্যাছোলা-মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন জিওসি ২৪ পদাতিক ডিভিশন এবং চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান। লক্ষ্মীছড়ি ও ফটিকছড়ি উপজেলার সরকারি কর্তা ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

বাইন্যাছোলা-মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে ঘিরে এলাকাবাসীর ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। সেনাবাহিনী ও স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে উক্ত স্থানটি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে প্রস্তুত করার দৃশ্য সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়।