খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদমহালছড়িশিরোনামস্লাইড নিউজ

বিজয় দিবসে মহালছড়িতে দুই বীরঙ্গনা পরিবার সংবর্ধনা পায়নি

মহালছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে বিজয়ের ৫০ বছরের সুবর্ণ জয়ন্তীতে সংবর্ধনা থেকে বঞ্চিত হলেন হ্লাম্রাসং মারমা ও চাইন্দাউ মারমা নামের এই দুই বীরঙ্গনা পরিবার। এরা জীবিত থাকতে জীবিকা নির্বাহ করতেন ভিক্ষা করে। ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়ে অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকা এ দুই বীরঙ্গনাকে নিয়ে ২০১২ সালে বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ফলাওভাবে সংবাদ প্রকাশিত হলে মহালছড়ি উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারী বেসরকারি সংস্থা এগিয়ে আসেন।
এরপর থেকে প্রতিবছর জাতীয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে এ দুই বীরঙ্গনাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। রাস্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেন এই দুই বীরঙ্গনা। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার আগেই বার্ধক্য জনিত কারণে গত ২০১৭ সালে চাইন্দাউ মারমার মৃত্যু হয় আর দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর চলতি বছরের গত ১১ আগষ্ট বুধবার বাবু পাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে ৬৫ বছর বয়সে হলাম্রাসং মারমার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর চাইন্দাউ মারমা রাস্ট্রীয় সম্মানে দাহক্রিয়া সম্পন্ন হলেও হলাম্রাসং মারমার রাস্ট্রীয় সম্মান ভাগ্যে জুটেনি।
বীরঙ্গনা চাইন্দাউ মারমা মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারকে ৩ বছর যাবত সংবর্ধনা দিলেও বীরঙ্গনা হলাম্রাসং মারমা’র মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের ভাগ্যে একবারও জুটেনি রাস্ট্রীয় সম্মান। এবারও বিজয়ের ৫০ বছরের সুবর্ণ জয়ন্তীতে সংবর্ধনা হতে বঞ্চিত হলেন বীরঙ্গনা এই দুই পরিবার। মহান বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর উদযাপন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন থেকে এ দুই বীরঙ্গনা পরিবারকে কোন সংবর্ধনা দেয়া হয়নি।
বীরঙ্গনা চাইন্দাউ মারমা’র ভাতিজা খরাঅং মারমা বলেন, আমার ফুফু চাইন্দাউ মারমা মারা যাওয়ার পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাহ করা হয়েছে এবং মারা যাওয়ার পরও জাতীয় দিবসে সম্মান দেয়া হতো। কিন্তু এবারে কোন কিছু দেয়া হয়নি।  এলাকাবাসীরা জানান, বীরঙ্গনা হ্লাম্রাসং মারমা ও চাইন্দাউ মারমা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদারদের দ্বারা চরম ভাবে নির্যাতিত হন। বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করতো। মুক্তিযুদ্ধের সময় মহালছড়ির এ দুইজন নারী অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীকে পাক হানাদারদের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। উচিত ছিলো মৃত্যুর আগে বীরঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া। এই দুই বীরঙ্গনার অবদানের কথা চিন্তা করে এদের পরিবারকে রাস্ট্রীয় ভাবে সম্মান দেয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা এ,কে,এম হুমায়ূন কবীর বলেন, বীরঙ্গনাদের সংবর্ধনা না দেওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইচ্ছে করেই এই দুই বীরঙ্গনা পরিবারকে সংবর্ধনা দেননি। বিজয়ের ৫০ বছরের সুবর্ণ জয়ন্তীতে বীরঙ্গনা এই দুই পরিবারকে সংবর্ধনা না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
বীরঙ্গনা পরিবারকে সংবর্ধনা না দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে
মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোবাইদা আক্তার আজকের পত্রিকাকে বলেন, বীরঙ্গনা হিসেবে গেজেট প্রকাশিত না হওয়ার আগে কাউকে রাষ্ট্রীয় সম্মান বা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাহকার্য কিংবা দাফন করার কোন সুযোগ নেই। এর আগের ইউএনও’রাতো দিয়েছেন, এখন দেয়া হচ্ছেনা কেন জানতে তিনি বলেন, এটা তাঁদের ব্যাপার। তাঁরা কিভাবে দিয়েছেন তা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে প্রতিবেদককে মোবাইলে না বলে অফিসে এসে সরসরি কথা বলার জন্য বলেন।