খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদদীঘিনালাপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

ব্যক্তিগত অর্থায়নে, পাহাড়ে ধর্মীয় জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে গীতা স্কুল

আল আমিন, দীঘিনালা: খাগড়াছড়িতে সনাতন ধর্মাবলম্বী দুর্গম পাহাড়ী গ্রামে ধর্মীয় জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে লিটন সাহার ব্যক্তিগত অর্থায়নে পরিচালিত “গীতা স্কুল”। ধর্মীয় শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা জেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে মন্দির ভিত্তিক এমন শিক্ষা কার্যক্রমে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হওয়ার পাশাপাশি খুশি স্থানীয় কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অবিভাবকরা ৷ স্কুলগুলো পরিচালিত হয় জেলার দীঘিনালা উপজেলার মায়াফাপাড়া লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দির, জগন্নাথ পাড়া (ব্রিকফিল্ড) সার্বজনীন জগন্নাথ মন্দির, যৌথখামার আবাসিক ছাত্রাবাস রাধাকৃষ্ণ মন্দির, সুধীর মেম্বার পাড়া জগন্নাথ ও দুর্গা মন্দির ও লম্বাছড়া সার্বজনীন রাধা মন্দিরে৷

গতকাল শুক্রবার বিকেলে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউপির দুর্গম ছোটপাড়া গ্রামে আরেকটি গীতা স্কুলের উদ্বোধন করা হয়।

জানা যায়, ইতোপূর্বে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত মন্দির ভিত্তিক গীতা শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকলেও পাহাড়ের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে এ ধর্মীয় শিক্ষার আলো ছড়ায়নি। এসব বিষয় বিবেচনা করে দীঘিনালার জগন্নাথপাড়ার (ব্রিকফিল্ড) মৃত সুবল সাহার পুত্র লিটন সাহা ব্যক্তিগত অর্থায়নে ৬ গ্রামে চালু করেন গীতা স্কুল। বর্তমানে আরো ২ গ্রামে গীতা স্কুল চালুর কাজ প্রক্রিয়াধীন। শিক্ষার্থীদের যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ সামগ্রীর ব্যায় ব্যক্তিগত অর্থায়নে বহন করলেও শিক্ষকদের সম্মানী দিতে পারেন না লিটন সাহা। অবশ্য শিক্ষকরাও পাঠদান করাচ্ছেন নিঃস্বার্থভাবে। তারা তাদের গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ধর্মীয় জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে পেরে আনন্দিত।

একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি এ ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করতে পেরে তারা খুবই খুশি।

শিক্ষকরা জানান, প্রায় দু’বছর যাবৎ লিটন সাহার ব্যক্তিগত অর্থায়নে পরিচালিত এ গীতা স্কুলে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফ্রীতে পাঠদান করাচ্ছি। আমরা আমাদের গ্রামের শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা দিতে পারছি এটাই আমাদের বড় স্বার্থকতা।

গীতা স্কুলের পরিচালক লিটন সাহা জানান,সমাজে ধর্মীয় জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে আমার এ উদ্যোগ৷ দীর্ঘ ২ বছর যাবৎ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে এ ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। বর্তমানে আরো ২ গ্রামে এ “গীতা স্কুল” চালুর প্রক্রিয়া চলমান। সরকারি ও বেসরকারি কোন সহযোগিতা পেলে গীতা স্কুলের শিক্ষকদের কিছু সম্মানী দেওয়ার পাশাপাশি এ শিক্ষা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পারবো৷