ভদন্ত ডঃ ধর্মরক্ষিত স্থবির সংবর্ধিত

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: ভদন্ত ডঃ ধর্মরক্ষিত স্থবিরকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে লামার পার্শ¦বর্তী চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউনিয়নে

এসএসসি পরীক্ষায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে পিসিপি
পানছড়িতে অটিজন বিষয়ক কর্মশালা
গুইমারাতে বই উৎসব: আলোকিত জাতি গঠনে শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিতে হবে

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: ভদন্ত ডঃ ধর্মরক্ষিত স্থবিরকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে লামার পার্শ¦বর্তী চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের বিলছড়ি বড়ুয়াপাড়ার ত্রিরতœাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহারে এ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি সম্প্রতি বৌদ্ধ প্রতিরুপদেশ থাইল্যান্ডের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিট মহাচুলালংকরন রাজা বিদ্যালয়া বিশ্ববিদ্যালয় হতে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করায় লামা ও চকরিয়া উপজেলার বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের যৌথ উদ্যোগে এ গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত ওয়ানাচারা মহাথেরোর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় ভদন্ত এইচ. শীল জ্যোতি থেরো প্রধান ধর্মদেশক, ভদন্ত প্রজ্ঞামিত্র থেরো বিশেষ ধর্মদেশক, এ্যাডভোকেট মৃদুল কান্তি বড়ুয়া উদ্বোধক, সাংবাদিক উজ্জল বড়ুয়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, লামা প্রেসক্লাব সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রিয়দর্শী বড়ুয়া, লামা সদর  ইউপি সদস্য মানিক বড়ুয়া, সাবেক ইউপি সদস্য রতন বড়ুয়া, দরদরী সুনন্দ বিহার সেবক কমিটির সাধারন সম্পাদক আপন বড়ুয়া ও পোয়াংপাড়া জেতবন বিহার সেবক কমিটির সভাপতি সুদর্শন বড়ুয়া প্রমুখ।

বিলছড়ি সধর্ম শিক্ষা পরিষদের সাধারন সম্পাদক রুপন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, বাংলাদেশে কয়েকজন ডক্টরেট বৌদ্ধ ধর্মগুরুর মধ্যে ভদন্ত ড.ধর্মরক্ষিত স্থবির একজন। তিনি এ গ্রামেরই কৃর্তী সন্তান। আমাদের এ সংবর্ধনার আয়োজন কেবল তাঁকেই সম্মানিত করা হচ্ছে না, একই সাথে আমরাও  গৌরবান্বিত হয়েছি। কারন যেখানে গুনির সম্মান দেয়া হয়না সেখানে গুনির জন্ম হয়না। তাঁর কারনে আমাদের গ্রাম আজ আলোকিত।

উদ্বোধনী বক্তব্যে এ্যাডভোকেট মৃদুল কান্তি বড়ুয়া বলেন,এ্যাডভোকেটশীপ পরীক্ষার চুড়ান্ত পর্যায়ে মৌখিক পরীক্ষায় আমার গ্রামের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম বলতে বলা হলে আমি সেদিন বলতে পারিনি। কিন্তু আজ আমি গর্বের সাথে বলতে পারি,আমার গ্রামের আপন মহিমায় আলোকিত মানুষের নাম “ভদন্ত ড. ধর্মরক্ষিত স্থবির।”

নিজ গ্রামবাসীর দেওয়া সংবর্ধনা সভায় আবেগ আপ্লুত হয়ে ভদন্ত ড. ধর্মরক্ষিত স্থবির ধর্মীয় জীবনে পর্দাপনসহ পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনের পিছনে নিজের পরিশ্রম ও শুভাকাংকীদের আর্থিক সহযোগিতার কথা তুলে ধরে বলেন,আমি ১৯৯৩ সালে গ্রাম ছেড়ে রাঙ্গুনিয়ায় পরে শ্রীলংকা, মায়নমার হয়ে থাইল্যান্ডে ধর্মীয় লেখাপড়া করি। সর্বশেষ ২০১৪-২০১৮ শিক্ষা বর্ষে থাইল্যান্ডের মহাচুলালংকরন রাজা বিদ্যালয়া বিশ্ববিদ্যালয় হতে ”আধুনিক সমাজে কামরাগের সমাধানের জন্য বৌদ্ধধর্ম একটি কার্যকর পদ্ধতি” বিষয়ে গভেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করি।

শুরুতে সংবর্ধিত অতিথিকে বিভিন্ন পাড়া ও সংগঠনের পক্ষ থেকে সমবেত সর্বস্তরের বৌদ্ধ নর-নারীগনের  সমস্বরে মুহুর্মুহু সাধুধ্বনীর  মধ্যেদিয়ে পুষ্পস্তবক ও শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণের মধ্যেদিয়ে উষ্ম সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়।