• July 17, 2024

ভিডিপি’র ইউনিয়ন দলনেত্রী জ্যোৎস্না বেগমের উদ্যোক্তা হবার গল্প

 ভিডিপি’র ইউনিয়ন দলনেত্রী জ্যোৎস্না বেগমের উদ্যোক্তা হবার গল্প
পানছড়ি প্রতিনিধি: উদ্যোগ থেকেই উদ্যোক্তা। বলছিলাম বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ভিডিপি’র সদর  ইউনিয়ন দলনেত্রী জ্যোৎস্না বেগমের কথা। বসবাস করেন খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী এলাকা পানছড়ি উপজেলার ৩নং সদর ইউপি-র মোহাম্মদপুর গ্রামে। তিন সন্তানের জনক জ্যোৎস্না বেগম  আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশিক্ষনাদী গ্রহন করে যোগ দেন সদর ইউপি-র মহিলা দলনেত্রী হিসেবে। দীর্ঘ পথের এই পথচলায় দলনেত্রী হিসেবে কাজের পাশাপাশি সংসারের উন্নতির যোগান দিতে হয়েছেন উদ্যোক্তাও। বর্তমানে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। হাস-মুরগি,  গরু-ছাগল, মৎস্য খামার করে সফল তিনি।
কৃষি কাজেও থেমে নেই তিনি । উপজেলা কৃষি অফিস হতে প্রশিক্ষণ গ্রহন করে নিজস্ব ৩.০০ (তিন) একর ভূমিতে বিভিন্ন জাতের ফলদ বাগানের পাশাপাশি ৫.০০(পাঁচ) একর ভূমিতে কাঠ ও ঔষধ বাগান আবাদ করেছেন। এবং মৎস্য অধিদপ্তর হতে প্রশিক্ষণ গ্রহন করে নিজে মৎস্য চাষ করছেন ও এলাকার হত-দরিদ্র শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতিদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলার লক্ষ্যে নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন মাছের পোনা বিতরণ করেন। প্রসূতি মায়ের কাছে যেন অন্য পরিচয় তিনি, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ধাত্রী হিসেবে মহিলাদের প্রসবকালীন সময়ে পাশে থেকে প্রসব কাজে সহযোগীতা করেন এবং প্রসব যন্ত্রনায় বিপদজ্বনক রোগীকে হাসপাতালেও নিয়ে যান।
এখানেই যেন তিনি দমে যাননি। পরিচিতি পেয়েছেন সমাজসেবিকা হিসেবেও। সমাজের দরিদ্র মহিলাদের একসঙ্গে সমবেত করে উৎসাহ দেন সামাজিক উন্নয়ন সাধিত করতে। এতে আগ্রহী হয়ে অনেকে ইতোমধ্যেই উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন দেখছে । আগ্রহ ও চেষ্টার কোনো কমতি রাখেন নি তিনি। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতি স্মরণ রেখে নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে এই বয়সেও লড়ে যাচ্ছেন  জোৎস্না বেগম। তাছাড়া জানা যায় পানছড়ির পাশাপাশি নিজের অর্থে খাগড়াছড়িতেও করেছেন বাড়ি।
জ্যোৎস্না বেগম বলেন আনসার ভিডিপি সংগঠন আমার রক্তে মিশে আছে। আমার পরিবারের ভরণপোষণ এবং আর্থিক স্বচ্ছলতার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে আমার ভিডিপি সংগঠনটি আমার স্বামী ও এই সংগঠনে এক সময় চাকরি করেছেন আমরা এই সংগঠনের প্রতি ঋণী।এবং নিজে উদ্যোক্তা হিসেবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে নিজের ভরণ পোষণ পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত হতে সহযোগিতা করেছে।
৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রহিমা বেগম জানান, তিনি আমার মাধ্যমে হতদরিদ্র সেলাই প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত  দুজনকে দুটি সেলাই মেশিন দিয়েছেন তার এমন মহৎ মনোভাব দেখে অভিভূত হয়েছি। সমাজে এমন লোকজন থাকলে সমাজের উন্নতি সুনিশ্চিত।

পাহাড়ের আলো

https://pahareralo.com

সর্বাধিক জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে জানতে চোখ রাখুন পাহাড়ের আলোতে।

Related post