কক্সবাজারখাগড়াছড়িচট্টগ্রাম সংবাদপাহাড়ের সংবাদফটিকছড়িরামগড়শিরোনামস্লাইড নিউজ

ভুজপুরের গুইট্যা সেলিমের নেতৃত্বে সার্জেন্টের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা, আহত ৬

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফটিকছড়ি: ফটিকছড়ির ভুজপুরের বাগানবাজারের বাংলাবাজার এলাকায় সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্টের ফার্ণিচারের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও তিন কর্মচারিকে মারধর করে আহত করা হয়েছে। বাগানবাজারে নতুনভাবে গঁজিয়ে উঠা সন্ত্রাসী গুইট্যা সেলিমের নেতৃত্বে বুধবার এ হামলা চালানো হয়।

একইদিন ঐ সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় বাজারবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামীলীগের কমপক্ষে তিনজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এদের রামগড় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারি সন্ত্রাসীরা বাগানবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেফায়েত উল্লাহ সাজুর সমর্থক বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এসব ঘটনার কিছুই জানেন না দাবী করে বলেছেন, প্রতিপক্ষের লোকজনই তার একাধিক কর্মী-সর্মথককে আহত করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, বুধবার বিকালে গুইট্যা সেলিমের নেতৃত্বে ২০-২৫ সন্ত্রাসী ১০/১২টি মোটরসাইকেলে করে এসে বাংলাবাজারে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মো: সেলিম হোসেনের ফার্ণিচারের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এসময় তিনি মীরেরসরাই ছিলেন। সন্ত্রাসীরা দোকানে কর্মরত তিন কর্মচারিকে লোহার রড, লাঠিসোটা ও দারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এসময় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্টের স্ত্রী ও পুত্র বাসা থেকে দোকানে ছুটে এসে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীদের কয়েকজন জোরপূর্বক তাদের আটকিয়ে রাখে এবং অন্যরা কর্মচারিদের মারধর ও ভাংচুর চালায়। সন্ত্রাসীদের হামলায় দোকানের কর্মচারি নুরুল ইসলাম(৩২), মো: ইয়াছিন(৩০) ও আনোয়ার হোসেন(৩৭) আহত হন। পরে সন্ত্রাসীরা ফার্ণিচারের দোকান আর না খোলার জন্য হুমকী-ধমকী দিয়ে চলে যায়। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মো: সেলিম হোসেন বাগানবাজার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, ১০-১২ দিন আগে গুইট্যা সেলিম তার লোকজনসহ ফার্ণিচারের দোকানে এসে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি সোফা সেট দাবী করে। এতে মালিক অসন্মতি জানালে গুইট্যা সেলিম সোফা না পেলে দোকান খুলতে দেবে না মর্মে হুমকী দেয়। সোফা সেট না দেয়ার কারণেই বুধবারে হামলা চালানো হয় বলে তারা জানায়। এ ঘটনায় আতংকিত সেনা সার্জেন্ট সেলিম হোসেন বৃহষ্পতিবারও তার ফার্ণিচারের দোকান খুলেননি।

এদিকে, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্টের দোকানে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ছাড়াও একইদিন গুইট্যা সেলিমের নেতৃত্বে ঐ সন্ত্রাসীরা বাগানবাজারের বাংলাবাজার এলাকায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম(৫০), বাঘমারার নার্সারি মসজিদ এলাকায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য ও ব্যবসায়ি দেলোয়ার হোসেন(৩৫) ও চিকনছড়া এলাকায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবলুর ছোট ভাই পল্লী চিকিৎসক তাজুল ইসলাম(৩৮ কে কুপিয়ে ও বেদম পিটিয়ে আহত করে। আহত এ তিনজনকে রামগড় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে জাহাঙ্গীর ও তাজুল চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও গুরুতর আহত দেলোয়ার এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে, বৃহষ্পতিবার ভুজপুর থানার উপ পরিদর্শক মো: মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বাংলাববাজার এলাকায় সেনাবাহিনীর অবসপ্রাপ্ত সার্জেন্ট সেলিম হোসেনের ফার্ণিচারের দোকানে হামলা ও কর্মচারিদের মারধরের ঘটনা তদন্তে আসেন। এ সময় উপ পরিদর্শক মো: মাহফুজ বলেন, গুইট্যা সেলিমসহ হামলার ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।