খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার গল্প নিয়ে খাগড়াছড়িতে মঞ্চস্থ হলো নাটক “রক্তে ভেজা গৌরবগাঁথা”

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়িতে মঞ্চস্থ হয়েছে নাটক “রক্তে ভেজা গৌরবগাঁথা” বৃহস্পতিবার (২ জুন) সন্ধ্যায় পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার গল্প নিয়ে খাগড়াছড়ি বিসিক শিল্প নগরীতে মঞ্চস্থ হয় নাটকটি।

মুজিব জন্ম শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে খাগড়াছড়ি শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে পরিবেশ থিয়েটারের এ কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠছে গণহত্যা, শরণার্থী জীবন ও যুদ্ধকালীন সময়ে খাগড়াছড়ির পার্বত্য অঞ্চলের পরিস্থিতি। নাটকের রচয়িতা ও নির্দেশক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের প্রভাষক সুবীর মহাজন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি। এসময় অনুষ্ঠানের ভার্চুয়ালী উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি উপস্থিতি ছিলেন, খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, খাগড়াছড়ি বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম ত্রিপুরা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে সারাদেশে সংগঠিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কাজ করছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। পরিবেশ থিয়েটারের মাধ্যমে দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া এসব গণহত্যার গল্প তুলে আনার কাজ করছেন শিল্পী, সংগঠক ও কলাকুশলীরা।

এরই ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ির মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা, শরণার্থী জীবন ও পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর সে সময়ের ভাবনা উঠে আসে “রক্তে ভেজা গৌরবগাঁথা” নাটকে। মুক্তিযুদ্ধে খাগড়াছড়ির মানুষের ত্যাগ, অবদান ও ভূমিকা নিয়ে নানা চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির  নাট্যদলের শিল্পীরা। তৎকালীন মং সার্কেল চিফ মংপ্রুসাইনের মানিকছড়ির রাজ বাড়িতে শরণার্থী ও মুক্তিকামী মানুষের জন্য রাজ তহবিল বিলিয়ে দেয়ার গল্পের মধ্যে ফুটে উঠেছে পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের গল্প। এসব চরিত্রে কাজের সুযোগ পেয়ে খুশি তরুণ প্রজন্মের শিল্পীরা।  স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরে হলেও এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন সুশীল সমাজ।

পাহাড়ের মানুষের সে সময়ে পাক-বাহিনী নিয়ে উৎকণ্ঠা, গণহত্যা সহ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ অঞ্চলের পরিস্থিতি কিছুটা হলে পরিবেশ থিয়েটারের আদলে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্টরা। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আগামী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের জন্য এমন উদ্যোগ সহায়ক হবে বলছেন নাটকের রচয়িতা ও নির্দেশক।  শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই নাটকের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রাম ছাড়াও ১৯৪৭ এর দেশ ভাগ, ৫২’র ভাষা আন্দোলন ও ছয় দফা আন্দোলনসহ মুক্তিযুদ্ধের নানা অজানা তথ্য ফুটিয়ে তোলা হয়।