রেকর্ড রুমের বালাম বইয়ে জালিয়াতি- খতিয়ানের পৃষ্টা গায়েব

এস.এম আকাশ, স্টাফ রিপোর্টার:  চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের ( ডিসি) রেকর্ড রুমের বালাম বই থেকে পৃষ্ঠা ছিঁড়ে নকল খতিয়ান ঘাম দিয়ে লাগানো হয়েছে ।

করোনা প্রতিরোধে ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি
চট্টগ্রামে ডাকাত চক্রের ১১ সদস্য আটক
ভয়াবহ বন্যায় লন্ডভন্ড ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর, ক্ষতি ১৫কোটি টাকার সম্পদ
এস.এম আকাশ, স্টাফ রিপোর্টার:  চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের ( ডিসি) রেকর্ড রুমের বালাম বই থেকে পৃষ্ঠা ছিঁড়ে নকল খতিয়ান ঘাম দিয়ে লাগানো হয়েছে । সেখানে পাতা ছিঁড়ে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি ফটোকপি করা খতিয়ানের পৃষ্টা। শুধু তাই নয় ওই খতিয়ানের পৃষ্টাটি উপজেলার রেকর্ড রুমের বালাম বইতেও ফটোকপির পৃষ্টা লাগানো। উপজেলা ভুমি অফিসের বালামেও ছেঁড়া পৃষ্ঠায় লাগানো ফটোকপির খতিয়ান। ইউনিয়ন তহসিলদার অফিসেও আসল খতিয়ানের পৃষ্টাটি নেই আছে ফটোকপি। সক্রিয় জাতিয়াত চক্র সুক্ষভাবেই করেছে এতো বড় জালিয়াতি। ইউনিয়ন তহসিল অফিস থেকে ভুমি অফিস উপজেলা রেকর্ড রুম পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকেনি এ জালিয়াতি। জালিয়াতি হয়েছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বালাম বইতেও।
এ জালিয়াতির কাজে রয়েছে একাধিক ব্যক্তির হাত। তবে ভুমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী এ জালিয়াতে প্রতিনয়ত জড়িত। কিন্তু ভুক্তভোগীরা এটি সংশোধনের জন্য ঘুরতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে। ভুমি অফিসের কর্মকর্তারাও বলছে বালাম বইয়ে জালিয়াতি হয়েছে। কিন্তু কেউ সংশোধন করে দিচ্ছেন না। এতে সময় চলে যাচ্ছে বছরের পর বছর। কিভাবে ধরা পড়ল জালিয়াতি : ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তর পাইন্দয় মৌজা খতিয়ান নং বিএস ১২৬। এটির আসল মালিকের কাছে ১৯৭৬ সালের জরিপের সেটেলমেন্ট অফিসার কতৃক স্বাক্ষরিত আসল খতিয়ান রয়েছে। আসল খতিয়ানে ১ একর ৩৫ শতক টিলা জাতীয় ভুমির মালিক আবদুল ছোবহান, পিতা আহাম্মদ আলী, আহাম্মদ ছফা পিতা- ফজলের রহমান , মরিয়ম খাতুন জং আবদুল নবী। কিন্তু একই খতিয়ানে জালিয়াত হওয়ার পর মালিক আবদুস ছমদ, পিতা মোশারফ আলী লিখা রয়েছে। আসল খতিয়ানে দখল বিষয়ক বা অন্যান্য বিশেষ মন্তুব্য ঘরে সরকারী অফিসের যে সীল রয়েছে সেটি আকারে ছোট। কিন্তু নকল জালিয়াতি করা
এ খতিয়ানে আসল খতিয়ানের থেকে একটু বড় সীল দেওয়া রয়েছে। মন্তুব্য ঘরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সীল ও তারিখ ১১.১১.২০০০ সাল লেখা রয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে ২০০০ সালেই এ খতিয়ানটি জাল হয়েছে ধারণা করা হচ্ছে। গত ২০১০ সালে উক্ত টিলা ভুমির খাজনা দেওয়ার সময় জানতে পারেন খতিয়ানটি জাল হয়েছে। আসল খতিয়ানের ওয়ারিশ সিরাজুল ইসলাম জানান, জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পেরে আমরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) কর্মকর্তার নিকট সংশোধনের জন্য আবেদন করেছি। ওই সময় উপজেলা রেকর্ড রুম ও তহসিলদারের অফিসে সংরক্ষন থাকা বালামের উপর এটি জাল খতিয়ান বলে লিখে দেন তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভুমি)। তিনি আরো লিখেন এ খতিয়ান থেকে কোন ধরনের জায়গাজমি ক্রয়বিক্রয় বন্ধ থাকবে। পরে উক্ত খতিয়ান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সই মোহরী নেওয়ার পরও দেখা যায়। উক্ত খতিয়ান আমাদের আসল খতিয়ানের সাথে মিল নেই। ফলে উক্ত খতিয়ান বাতিল করার জন্য ১২.২ ২০১৫ তারিখে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবরে আবেদন করেছি। কিন্তু অদ্যবদি উক্ত খতিয়ান সংশোধন হয়নি। ফটিকছড়ি সদর তহসিল অফিসের কর্মকর্তা ইমাম উদ্দিন বলেন, ১২৬ নং খতিয়ানটি আমরা যোগদানের আগেই জাল হয়েছে।
এ অফিসের সাবেক কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী এ জালিয়াতে জড়িত থাকতে পারে। তবে এ খতিয়ানের একটি তদন্ত এসেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে। আমরা এখান থেকে যথাযত প্রতিবেদন দিয়েছি। এখানে খতিয়ানের উপরেই লিখা রয়েছে এটি জাল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেলোয়ার হোসেন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, নিয়মানুসারে আবেদন করলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশোধন হওয়ার কথা। কিন্তু এটি সংশোধন হয়নি কেন তা আমি খতিয়ে দেখবো। তিনি বলেন, ভুমি অফিসে এক ধরণের জাতিয়াত চক্র সক্রিয় রয়েছে। আমরা তাদের ধরার জন্য বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালায়।