লক্ষ্মীছড়ির দুর্গম কালা পাহাড়ে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিশুদ্ধ পানির প্রকল্পের উদ্বোধন, ৩ গ্রামের ৪’শ পরিবার পেলো বিশুদ্ধ পানি

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার: পাহাড়ে  যখন ইউপিডিএফ (মূল) প্রভাবিত রামসু বাজার এলাকায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে তাদের সশস্ত্র সদস্যদের দ্বারা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির পর, ১৮ অক্টোবর থেকে পরিচালিত নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ব্যাহত করতে বর্মাছড়িতে অস্থায়ী পেট্রোল বেস স্থাপনকে কেন্দ্র করে পুনরায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। তবুও, নিরাপত্তা বাহিনী দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে উক্ত এলাকায় অভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখে যা এখনও চলমান।

অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কালাপাহাড় রেঞ্জের দুর্গম এলাকাবাসীর বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট সম্পর্কে অবহিত হন। স্থানীয় জনগণ ঝিরি থেকে পানি সংগ্রহ করে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করে যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে, সেনাবাহিনী অভিযানিক কার্যক্রমের পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ভাবে দূর্গম এলাকায় পানির সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করে।

এরই ধারাবাহিকতায়, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে এবং গুইমারা রিজিয়নের ব্যবস্থাপনায় গত ৮ ডিসেম্বর থেকে একটি বৃহৎ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় হাতিছড়া পাড়া, ইন্দ্রসিংপাড়া, শুকনাছড়ি ও পাঙ্কু পাড়া এই চারটি দুর্গম পাড়াকে একীভূত করে নিরাপদ পানির স্থায়ী সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। লক্ষীছড়ি জোনের সেনা সদস্যরা পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে দূর্গম কালাপাহাড় রেঞ্জে পানির লাইন স্থাপনের জন্য সকল প্রকার শারীরিক শ্রম সাপেক্ষ কাজ অত্যন্ত দক্ষতা, নিপুণতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ৭ কিঃ মিঃ পানি সরবরাহের পাইপ লাইন এবং সর্বমোট ৮টি পানির রিজার্ভ ট্যাংক স্থাপনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে। ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সম্পূর্ণ অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ায় মোট ৩৭৬ পরিবার তথা প্রায় ১হাজর ৭৫০ জন দুর্গম এলাকার বাসিন্দা নিরাপদ পানির সুবিধা পাচ্ছে। ৫ জানুয়ারি িএ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন লক্ষ্মীছড়ি জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল মো: তাজুল ইসলাম,পিএসসি,জি।

ইউপিডিএফ (মূল) কর্তৃক দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসী প্রভাব ও চাপের কারণে এ অঞ্চলের জনগণ উন্নয়ন সুবিধা ও মৌলিক চাহিদা পূরণ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী শুধু সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনাতেই সীমাবদ্ধ নয়; তারা স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করছে। সেনাবাহিনীর এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। নিরাপত্তা বাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পার্বত্য চট্টগ্রাম । সবুজ বনভূমি আচ্ছাদিত পাহাড় আর পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা ছোট বড় ঝর্ণা ও ঝিরি সবসময়ই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এ ছাড়াও রয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারা যা পার্বত্য চট্টগ্রামের সৌন্দর্যকে করেছে আরও সমৃদ্ধ ।

তবে এই সকল সৌন্দর্যের আড়ালে পার্বত্য চট্টগ্রামে রয়েছে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর ধারাবাহিক তৎপরতা। সম্প্রতি, অপরাধি সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল) প্রভাবিত রামসু বাজার এলাকায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে তাদের সশস্ত্র সদস্যদের দ্বারা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির পর, ১৮ অক্টোবর থেকে পরিচালিত নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ব্যাহত করতে বর্মাছড়িতে অস্থায়ী পেট্রোল বেস স্থাপনকে কেন্দ্র করে পুনরায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। তবুও, নিরাপত্তা বাহিনী দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে উক্ত এলাকায় অভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখে যা এখনও চলমান।

অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কালাপাহাড় রেঞ্জের দুর্গম এলাকাবাসীর বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট সম্পর্কে অবহিত হন। স্থানীয় জনগণ ঝিরি থেকে পানি সংগ্রহ করে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করে যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে, সেনাবাহিনী অভিযানিক কার্যক্রমের পাশাপাশি তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

এরই ধারাবাহিকতায়, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে এবং গুইমারা রিজিয়নের ব্যবস্থাপনায় গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে একটি বৃহৎ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।

প্রকল্পের আওতায় হাতিছড়া পাড়া, ইন্দ্রসিংপাড়া, শুকনাছড়ি ও পাঙ্কু পাড়া এই চারটি দুর্গম পাড়াকে একীভূত করে নিরাপদ পানির স্থায়ী সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। গুইমারা রিজিয়ন অধীনস্থ, লক্ষীছড়ি জোনের সেনা সদস্যরা পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে পানির লাইন স্থাপনসহ সকল প্রযুক্তিগত ও শারীরিক শ্রমসাপেক্ষ কাজ অত্যন্ত দক্ষতা, নিপুণতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন।

দীর্ঘ ২২হাজার ২০০ ফিট পানি সরবরাহ লাইন এবং সর্বমোট ৮ টি পানির রিজার্ভ ট্যাংক স্থাপনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে যার মাধ্যমে প্রকল্প আওতাধীন এলাকার মোট ৩৭৬ পরিবার তথা প্রায় ১হাজার ৭৫০ জন দুর্গম এলাকার বাসিন্দা নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে যা প্রমাণ করে, নিরাপত্তা বাহিনী শুধু সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনাতেই সীমাবদ্ধ নয়;পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।