খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদলক্ষ্মীছড়িশিরোনামস্লাইড নিউজ

লক্ষ্মীছড়িতে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ, বর্মাছড়িতে অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ঈদ উপলক্ষে আসা সরকারের বিশেষ বরাদ্দ ভিজিএফ’র চাল বিতরণ করা হয়েছে। লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে প্রায় ১হাজার ৮’শ পরিবারের মাঝে এ ভিজিএফ’র চাল বিতরণ করা হয়। লক্ষ্মীছড়ি ও দুল্যাতলী ইউনিয়নে ভিজিএফ’র চাল বিতরণে কোনো অনিয়মের অভিযোগ না পাওয়া গেলেও বড় অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে বর্মাছড়ি ইউনিয়নে চাল বিতরণে।

জানা যায়, লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়নে ৮’শ ২০ পরিবার, দুল্যাতলী ইউনিয়নে ৫’শ ৩২ পরিবার ও বর্মাছড়ি ইউনিয়রেন ৪’শ ৬৭ পরিবারের মাঝে ২০ কেজি হারে চাল বিতরণ করা হয়। ১৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার এ ভিজিএিফ’র চাল বিতরণকালে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইকবাল ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে সঠিক ওজন ও প্রকৃত সুবিধাভোগীরা পাচ্ছে কিনা তা পর্যপেক্ষন করেন। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। লক্ষ্মীছড়ি ও দুল্যাতলী ইউনিয়নে কিছু ব্যক্তি চাল না পাওয়ার অভিযোগ থাকলেও বড় ধরনের কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায় নি। লক্ষ্মীছড়ি সদর ইউনিয়নের সচিব কমল কৃষ্ণ চাকমা বলেন, ইউপি মেম্বারদের মাধ্যমে তালিকা করা হয়েছে। আমার জানামতে চাল নিতে এসে কেউ ফেরত যায় নি।

তবে বড় অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে বর্মাছড়ি ইউনিয়নে। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে সরকারের এ সাহার্য পৌছে কিনা সন্দেহ থেকেই যায়। কেননা ৩নং বর্মাছড়ি ইউনিয়নের অফিসিয়াল কার্যক্রম চলে উপজেলা সদরের লক্ষ্মীছড়ি বাজারে। সেখানেই অস্থায়ী সাময়িকভাবে চাল রাখা হয়। উপজেলা সদর থেকে বর্মাছড়ি ইউনিয়নের দুরুত্ব ২৫/৩০ কি: মি: দুরে। পাঁয়ে হাটা ছাড়া বিকল্প যানবাহন হিসেবে একমাত্র ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল। প্রয়োজনের তাগিদে সপ্তাহে রবিবার ও বুধবার হাটের দিন উপজেলা সদরে নানা কাজে আসে। কিন্তু ২০কেজি বিনামূলে চাল নিতে আসতে হলে তাদের পকেট থেকে গুনতে হয় মোটরসাইকেল ভাড়া ২৫০-৩০০টাকা। এ চাল বিতরণ হাটের দিন হলে অনেকটাই ভালো হতো। বাস্তবিক অর্থে দেখা গেছে স্ব স্ব ওয়ার্ড মেম্বাররা চেয়ারম্যান হতে স্লিপ বুঝে নিয়ে কতটুকু সঠিকভাবে সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ করেন তা তদন্ত ছাড়া বলা মুসকিল। বর্মাছড়ি ইউনিয়নের চাল বিতরণকালে সরেজমিনে গিয়ে ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা নয় এমন ব্যক্তিদের লাইনে দাঁড়িয়ে চাল নিতে দেখা গেছে। অভিযোগ ওঠেছে চেয়ারম্যান’র যোগসাজশে স্ব স্ব ওয়ার্ড মেম্বাররা গোপনে চাল বিতরণের স্লিপ কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তারা পরিদর্শনে গেলে লোক দেখানো লম্বা লাইন তৈরী করে রাখে। বর্মাছড়ি ইউনিয়নের চাল বিতরণ রোধে আরো কঠোর না হলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বছরের পর বছর বঞ্চিত হতেই থাকবে এমনটাই মনে করছে স্থানীয়রা।

বর্মাছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হরিমোহন চাকমার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হন নি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইকবাল বলেন, কিছু অভিযোগ আসার সাথে সাথে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য তদারকি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি।