লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পরিষদে ‘করোনা’ সভা অনুষ্ঠিত, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার: খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পরিষদে জরুরী ‘করোনা’ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভার আদলে অনুষ্ঠিত করোনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইকবাল। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুল চৌধুরী। প্রথমেই ঘুর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ নিয়ে করনীয় বিষয় আলোচনা করা হয়। ঘুর্ণিঝড় মোকাবেলায় জরুরী আশ্রয় কেন্দ্র খোলা এবং খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পূর্বপ্রস্তুতি এবং মিনিটরিং সেল গঠন করা হয়।

পরে বিভিন্ন বিভাগীয় কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। জরুরী এ বৈঠকে জনপ্রতিনিধিসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার অনুপস্থিতি নিয়েও দু:খ প্রকাশ করা হয়। আলোচনায় ওঠে আসে উপজেলায় উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড নিয়ে।

উপজেলা হাসপাতালে বহুতল ভবণ নির্মাণ কাজ(ম্যাক্ম এন্টারপ্রাইজ), লক্ষ্মীছড়ি-মানিকছড়ি সড়কে ব্রিজ নির্মাণ কাজ(জাকির এন্টারপ্রাইজ) এবং উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি) কার্যালয়ের এডিপি’র বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করোনা পরিস্থিতিতে চলমান থাকলেও নেই কোনো তদারকি কর্মকর্তা। ফলে ঠিকাদার যেন-তেনোভাবেই কাজ শেষ করে চলছে। কাজের মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠেছে। বিশেষ করে উপজেলা সদরে ৫০০মি: করে দুই ধাফে ১০০মি: প্রায় এক কোটি ৫৯লক্ষ টাকার ড্রেইন নির্মাণ কাজ(এস.অনন্ত ত্রিপুরা) চলমান থাকলেও কোনো তদারকি কর্মকর্তা কিংবা ইঞ্জিনিয়ারকে কাজের পাশে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোস্তফা মিনহাজ’র দৃষ্টি আকর্ষন করা হলেও তিনি উক্ত মিটিং এ উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে রেজুলেশনে উল্লেখ করা হবে বলে জানানো হয়।

এছাড়াও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম, ১০টাকা মূল্যের চাল বিতরণ ও ভিজিডি বিতরণে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, তদারকি কর্মকর্তাদের আরো সজাগ দৃষ্টি এবং সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন।

পরে করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সাপ্তাহিক হাঁট-বাজার পুরোপুরি বন্ধ, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকলে চলাচল এবং গণপরিবহণ একেবারেই পরবর্তি নিদের্শ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলেও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে শুধু মাত্র জরুরী কাজে ওষধের গাড়ি এবং সরকারি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন চলাচল করতে পারবে। ১৯মে দিবাগত রাতই ১২টার পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। সভায় আরো জানানো হয় সীমিত আকারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শাক সব্জির কাঁচা বাজার চলমান থাকবে। সবাইকে করোনা সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানানো হয়।

এর আগে ৩১জন পাড়া কর্মীদের মাধ্যমে ৫বছরের নিচে ৩৫৯জন শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুল চৌধুরী।