শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে গুইমারাতে ২দিন ব্যাপী চলছে শান্তি মেলা

স্টাফ রিপোর্টার: শান্তির প্রতীক পায়রা, ফিতা কাটা, শান্তি র‌্যালী, আলোচনা সভা ও শান্তি মেলার শুভ সুচনার মধ্য দিয়ে বর্ণিল অনুষ্ঠান মালার মধ্যদিয়ে ঐতিহ্য

খাগড়াছড়ি সদর আ’লীগ সভাপতিকে লক্ষ্য করে গুলি, প্রতিবাদ
লক্ষ্মীছড়িতে যৌথবাহিনী কর্তৃক গাঁজা ও বাংলা মদসহ আটক ১
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি খাগড়াছড়ি জেলা কমিটি অনুমোদন

স্টাফ রিপোর্টার: শান্তির প্রতীক পায়রা, ফিতা কাটা, শান্তি র‌্যালী, আলোচনা সভা ও শান্তি মেলার শুভ সুচনার মধ্য দিয়ে বর্ণিল অনুষ্ঠান মালার মধ্যদিয়ে ঐতিহ্যাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২১তম বর্ষপর্তি উপলক্ষে খাগড়াছড়ি’র গুইমারাতে শুরু হয়েছে ২দিন ব্যাপী শান্তি মেলা ও বর্ষপুর্তি অনুষ্ঠান। ২ডিসেম্বর রবিবার সকাল সাড়ে নয়টায় ২১তম বর্ষপুর্তি উপলক্ষে গুইমারা মডেল হাই স্কুল মাঠ থেকে শান্তি র‌্যালী বের হয়ে গুইমারা রিজিয়ন স্পোর্টস কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

২৪আর্টিলারী ব্রিগেড গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম সাজেদুল ইসলাম শান্তি র‌্যালীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গুইমারা সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল আবদুল হাই, খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) এটিএম কাউসার হোসেন, মানিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ¤্রাগ্য মারমা, গুইমারা উপজেলা চেয়ারম্যান উশ্যেপ্রু মারমা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ঝর্ণা ত্রিপুরা, গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ বড়–য়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রামগড় সার্কেল ফরহাদ, গুইমারা উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক মেমং মারমা। এছাড়াও গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন ৫টি উপজেলার প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

শান্তি র‌্যালী শেষে রিজিয়ন স্পোটর্স কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে ও শান্তির প্রতীক পায়রা উঠিয়ে ২দিনব্যাপী শান্তি মেলার উদ্ধোধন করেন গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার সাজেদুল ইসলাম। এসময় সিন্দুকছড়ি জোন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল রুবায়েত মাহমুদ, মাটিরাঙ্গা জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল নওরোজ নিকোশিয়ার, লক্ষীছড়ি জোন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মিজানুর রহমান, গুইমারা বিজিবি হাসপাতালের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল সাদিক, রামগড় বিজিবি জোন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল তারিকুল হাকিম, পলাশপুর বিজিবি জোন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল সাইফুল্লা মিরাজুল আলম, যামিনীপাড়া বিজিবি জোন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল কর্ণেল মাহমুদুল হক সহ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সহ এলাকার সহ¯্রাধিক পাহাড়ী বাঙ্গালী অধিবাসী।

২১তম শান্তি চুক্তির বর্ষপুর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম সাজেদুল। এসময় তিনি বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জণ। এ চুক্তির ফলে পাহাড়ে ২দশক ধরে চলে আসা রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের অবসান ঘটিয়ে শান্তি সুবাতাস বইছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা শান্তি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ১৯৯৭সালে আগে ও বর্তমান সময়ে দিকে লক্ষ্য করলেই বুঝা যাবে চুক্তির গুরুত্ব। তিনি আরো বলেন, একটি মহল অপপ্রচার চালিয়ে শান্ত ও স্থিতিশীল পরিস্থিকে ঘোলাটে করে পায়দা ভোগ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে। পার্বত্য চুক্তির অধিকাংশ ধারাই বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এ চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। সবকিছু ভুলে গিয়ে দেশকে ভালোবেসে পার্বত্য জনগোষ্ঠির উন্নয়নে একযোগে কাজ করার আহব্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, সমাজের কিছু দুষ্টলোক প্রথম থেকেই শান্তি চুক্তির বিরোধীতা করে আসলেও চুক্তির সুফল তারাই ভোগ করছে। আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর চাদাঁবাজী ও নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের একমাত্র অবসান ঘটাতে হলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা একান্ত প্রয়োজন। চাদাবাজ সন্ত্রাসীরা চাঁদার টাকা কুড়ে ঘর থেকে পাকা দালান ও সন্তানদের বিদেশে বাড়ি, সন্তানকে বিদেশে পড়াশোনা করান চাদাঁবাজরা।এসময় তিনি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন।

১৪ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারী সিন্দুকছড়ি জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল রুবায়েত মাহমুদ হাসিব বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তির ফলে পাহাড়ে যে পরিমাণ দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে তার সফলতা একমাত্র সরকার। তিনি বলেন, পাহাড়ে শান্ত পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার প্রচেষ্টা ও নিরাপত্তাবাহিনীর ত্যাগের বিনিময়ে ।

গুইমারা উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মেমং মারমা শেখ হাসিনা না হলে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি হতো না বলে উল্লেখ করে বলেন, পার্বত্য এলাকায় আমরা সবাই একই মায়ের অভিন্ন সন্তানের মত করে বসবাস করছি। এঅঞ্চলটি আমার মা, চুক্তি করে অঞ্চলের শান্তি প্রতিষ্ঠা করে আরেক মা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শান্তি নষ্টকারীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, একটি মহল কুকিছড়ায় মন্দির ভাংচুর করে গুইমারা তথা পাহাড়ের শান্তি নষ্ট করতে চেয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী এবং গুইমারার মানুষ তা সফল হতে দেয়নি। ভষ্যিতেও তারা সফল হতে পারবেননা

আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে ২দিন ব্যাপী শান্তি মেলার বিভিন্ন ষ্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের চিত্র দেখে প্রশংসা করেন। শান্তি চুক্তির ২১তম বর্ষপুর্তির আয়োজনে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগীতা, চিত্রাংকন, শান্তি মেলা, প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ছাড়াও ৩ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ শান্তি কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯৭সালে ২ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয় এবং ১০জানুযারী ১৯৯৮ইং সালে পার্বত্য জনসংহতি সমিতি(জেএসএস) এর প্রধান সন্তু লারমার নেতৃত্বে ৭৩৯জন শান্তি বাহিনীর সদস্য খাগড়াছড়ি ষ্টেডিয়ামে পার্বত্য চুক্তি মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে অস্ত্রসমর্পন করে। পার্বত্য শান্তি চুক্তি এলাকার মানুষের জীবনে স্থায়ী শান্তি বয়ে আনুক ২১তম বর্ষপুর্তি অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের এটাই প্রত্যাশা।