সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তে প্রমাণ মিললো মাটিরাঙ্গায় মসজিদ পুকুর খননের অনিয়ম

মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি: মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি ইউনিয়নের মধ্য গড়গড়িয়া পাড়া জামে মসজিদ পুকুরের প্রকল্প চুরির প্রমাণ পেয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল

অদুল-অনিতা ট্রাস্টের অর্থায়নে কেমরুং পাড়ায় নির্মিত হলো তৈমাচাং অনিতা চৌধুরী স্কুল
মানিকছড়িতে উপজেলা আ.লীগের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল
মানিকছড়ি উপজেলা কৃষকলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি: মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি ইউনিয়নের মধ্য গড়গড়িয়া পাড়া জামে মসজিদ পুকুরের প্রকল্প চুরির প্রমাণ পেয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বাতিল করা হয়েছে প্রকল্পটি।

২৪ এপ্রিল সকালে শনিবার সাংবাদিকদেরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান। জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান বলেন, ‘মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ভুল তথ্য দিয়ে মসজিদের পার্শবর্তী বাবুল নামের এক প্রবাসীর পুকুরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে তা আত্মসাৎ করতে চেয়েছিলো।

তদন্ত করে অভিযোগটির সত্যতা পাওয়ায় ওই প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ নিয়ে পাহাড়ের আলোসহ বিভিণ্ন স্থঅনীয় ও জাতীয় পত্রিকায় ‘মসজিদ পুকুরের বরাদ্দ গেলো প্রবাসীর পুকুরে’ এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

এদিকে প্রবাসী বাবুল হোসেনের পুকুরে খননের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সমাপ্ত করে ফেলেছিলো সংশ্লিষ্ট খনন ঠিকাদার ফারহানা আক্তার নামে প্রতিষ্ঠানটি। তবে গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর কাজটি বন্ধ করে দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রবাসী বাবুল মিয়া পুকুরে খনন কাজের কোন বিল ছাড় দেয়া হবে না।

উল্লেখ্য সারাদেশে পুকুর ও খাল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গত ২০২০ সালের ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দ আসে মধ্য গড়গড়িয়া পাড়া জামে মসজিদের পুকুর খনন ও ঘাট নির্মাণ কাজের। ওই পুকুরটি খননে ১০ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৫ টাকা এবং ঘাট নির্মাণের জন্য ৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৯ টাকা চুক্তিমূল্যে বরাদ্দ দেয়া হয়। খনন কাজের জন্য ‘ফারহানা আকতার’ ও ঘাট নির্মাণে ‘রুবেল এন্টার প্রাইজ’ নামে পৃথক দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অনুমতি পায়। খননের কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ করা হলেও ঘাট নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়নি।

এ অবস্থায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং পরবর্তীতে ওই প্রকল্পটি বাতিল করে প্রকৌশলী কর্তৃপক্ষ। সরকারিভাবে প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো মসজিদের পুকুর খনন ও ঘাট নির্মাণের জন্য, অথচ সেই প্রকল্পের কাজ মোটা অংকের টাকার কাছে বিক্রি হয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছিলো প্রবাসী বাবুল হোসেনের মালিকানাধীন অন্য একটি পুকুরে।