পাহাড় জুড়ে চলছে বৈসাবির নানা উৎসব 

Homeপাহাড়ের সংবাদখাগড়াছড়ি সংবাদ

পাহাড় জুড়ে চলছে বৈসাবির নানা উৎসব 

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: বিগত বছরের সমস্ত দুঃখ, গ্লানি মুছে দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে পাহাড়ে পাহাড়িয়া ও বাঙ্গালিরা আনন্দে মেতেছে বৈসু-সাংগ্রাই-বিঝু ও বাংলা নবব

মাটিরাঙ্গায় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ এর সদস্য সংগ্রহ চলছে
খাগড়াছড়িতে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২২তম বর্ষপূর্তিতে ৩দিন ব্যাপি শান্তি মেলা উদ্বোধন
মানিকছড়িতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো বাল্য বিয়ে
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: বিগত বছরের সমস্ত দুঃখ, গ্লানি মুছে দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে পাহাড়ে পাহাড়িয়া ও বাঙ্গালিরা আনন্দে মেতেছে বৈসু-সাংগ্রাই-বিঝু ও বাংলা নববর্ষের উৎসবে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় বর্ষবিদায় ও বরণ উৎসব। যা পাহাড়ে ‘বৈসাবি’ নামে পরিচিত।
বাংলা বর্ষের শেষ দিনে চাকমারা ‘ফুল বিঝু, ত্রিপুরা সম্প্রদায়েরা ‘হাঁরিবৈসু’ আর মারমা সম্প্রদায়ে ‘সূচিকাজ’ নামে পালন করে যা ‘ফুল বৈসু/ফুল বিঝু নামে সর্বাধিক পরিচিত। চেঙ্গী নদীতে হাজার হাজার মানুষের ভীড়ে মুখরিত ছিল। এ ফুল বিঝু/বৈসুর দিনের চেঙ্গী পাড়ে ত্রিপুরা, চাকমা, মারমা ও বাঙ্গালি সম্প্রদায়ের নিজ নিজ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পড়ে ফুল দিয়ে গঙ্গাদেবীকে প্রণাম জানাতে আসেন।
এ সময় খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান, জেলা পুলিশ সুপার মো: নাইমুল হক ও পৌরসভার মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী, জেলা পরিষদের সদস্য কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া নদীতে ভুল ভাসান। জলে ফুল দেয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে এই উৎসব। পাহাড়ে ১৪ এপ্রিল মারমা সম্প্রদায়ের ‘জলকেলি’র উৎসব হবে।
বুধবার (১২ এপ্রিল) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে জলে নানান রঙের ফুল দিয়ে উদযাপিত হয় ফুল বিঝু। এ সময় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে উপস্থিত পাহাড়ি তরুণ-তরুণীরা, তার পাশাপাশি অন্যান্য সম্প্রদায় তথা বাঙ্গালি সম্প্রদায়েরাও এই উৎসবে মাতোয়ারা। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৃহত্তম এই সামাজিক আয়োজনে ব্যস্ত এখন শহর, নগর আর পাহাড়ি গ্রাম গুলো। বাংলা বর্ষ বিদায় ও বরণ উপলক্ষে ত্রিপুরারা বৈসুক/বৈসু, চাকমারা বিঝু, মারমারা সংগ্রাই, সাওতালরা পাতা এভাবে তারা ভিন্ন ভিন্ন নামে আলাদাভাবে পালন করে এই উৎসব। উৎসবের প্রথম দিনে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীরা ফুল আর নিমপাতা দিয়ে ঘর সাজায়। এদিন পাহাড়িদের ঘরে ঘরে চলবে পাঁচন/মুই পাঞ্চালির আতিথেয়তা।
ফুল বিঝুর দিনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা বয়সী পাহাড়িরা ফুল নিয়ে আসতে শুরু করে বিভিন্ন ঘাটে। খুব ভোরে মা গঙ্গার উদ্দেশে নদীতে পবিত্র এই ফুল দিয়ে প্রণাম জানানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই উৎসব। উৎসবে নারীরা বাহারি রঙের ঐতিহ্যবাহী রিনাই -রিসা, পিনোন -হাদি পরে আর ছেলেরা ধুতি, পাঞ্জাবি/ফতুয়া পরে চেঙ্গী নদীতে ফুল দিয়ে উৎসবে মেতে ওঠে। পানিতে ফুল ভাসিয়ে পুরনো বছরের সব গ্লানি মুছে গিয়ে নতুন বছর বয়ে আনবে সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। পানিতে ফুল ভাসিয়ে পুরনো বছরের দুঃখ বেদনাই যেন ভাসিয়ে দিয়ে নতুন দিনের সম্ভাবনার আলো জ্বালায় পাহাড়ের মানুষ। পুরনো দিনের বেদনা ভুলে নতুন দিনের প্রত্যয়ের কথা জানায় ফুল দিতে আসা পাহাড়ি তরুণ-তরুণীরা।
চৈত্র মাসের শেষ দিনকে চাকমা সম্প্রদায়েরা বলি মূল বিঝু। এর আগের দিনকে ফুল বিঝু, আর পহেলা বৈশাখ পরিচিত গোজ্যেপোজ্যে/গজ্জ্যা পুজ্জ্যা দিন হিসেবে। এ দিন কেউ কোনো কাজ করে না, পাড়ায় ঘুরে ঘুরে, খেয়ে দিনটি পার করে থাকে।
এদিকে খাগড়াছড়ির সবুজ পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বৈসাবির আমেজ। পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা সহ ভিন্ন ভিন্ন জাতির রয়েছে নিজস্ব কৃষ্টি সংস্কৃতি। পুরাতন বছরকে বিদায় নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ত্রিপুরা সম্প্রদায় বৈসু, মারমা সম্প্রদায় সাংগ্রাই, চাকমা সম্প্রদায় বিঝু উৎসব পালন করে থাকে। এই তিন সম্প্রদায়ের উৎসবের নামের অধ্যাঅক্ষর দিয়ে নামকরন বৈসাবি। ,  প্রতিবছর ১২ এপ্রিল থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৫ দিন ব্যাপী চলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বৈসাবির আমেজ। আর এ উৎসব উপভোগ করতে পাহাড়ে জড়ো হয় দেশি বিদেশি কয়েক লাখ মানুষ।
সকালে গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রেদাক মারমার সভাপতিত্বে সিন্দুকছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বৈসাবি রেলি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল সৈয়দ পারভেজ মোস্তফা। অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেজর মোঃ আসাদুজ্জামান খন্দকার, গুইমারা উপজেলা চেয়ারম্যান মেমং মারমা সহ মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।