সারের ডিলার না থাকায় কাপ্তাইয়ে কৃষকের চাষাবাদ অনিশ্চিত

শান্তি রঞ্জন চাকমা, কাপ্তাই: কাপ্তাই উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুম ও জুম চাষের শুরুতে সার সংকট হচ্ছে। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার কৃষক রয়েছে। তৎমধ্য

মাটিরাঙ্গায় পুলিশ সেবা সপ্তাহ উদযাপন
রাজস্থলীতে বির্শ্বকর্মা পূজা সম্পন্ন
কাপ্তাইয়ে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত নাছির উদ্দিন

শান্তি রঞ্জন চাকমা, কাপ্তাই: কাপ্তাই উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুম ও জুম চাষের শুরুতে সার সংকট হচ্ছে। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার কৃষক রয়েছে। তৎমধ্যে কাপ্তাই ও চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নে বিসিআইসি অনুমোদিত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক সরকারী ডিলার নেই। চিৎমরম, ওয়া¹া, রাইখালী ইউনিয়নে সার ডিলার থাকলেও মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা সার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কাপ্তাই ইউনিয়নে তিনজন সাব ডিলার থাকলেও চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নে সারের ডিলার নেই। চলতি মৌসুমে উপজেলার কৃষকরা চাহিদা মত সার না পাওয়ায় আড়াই হাজার কৃষকের চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার চিৎমরম, ওয়া¹া ও রাইখালী ইউনিয়নে বিসিআইসি অনুমোদিত একজন করে সারের ডিলার রয়েছে। কাপ্তাই ও চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নে সরকারী কোন সার ডিলার নেই। কাপ্তাই জেডিঘাট সার সাব ডিলার মারমা ষ্টোরের চথোয়াই প্রু মারমা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাপ্তাইয়ে সরকারী ভাবে সারের ডিলার নেই। বিগত ১৩ বছর ধরে সাব ডিলার হিসেবে আছি। কাপ্তাই ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার কৃষক পাহাড়ে চাষাবাদ করেন। হরিণছড়া গ্রামের কৃষক হেমন্ত চাকমা বলেন, কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমি ও প্রায় ৩ হাজার একর পাহাড়ি ভূমিতে কৃষকরা আধা, হলুদ, মরিচ, ধান সহ বিভিন্ন সবজি ও জুমচাষ করেন। চাহিদামত সার না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। সার সংকটে পর্যাপ্ত ফলন না পাওয়ার আশংকা করছেন তারা। রাইখালী ভাল্লুকিয়া গ্রামের কৃষক সমীরণ তংচংগ্যা বলেন, খুচরা ভাবে ইউরিয়া, টিএসপি, আইওপি ও জিপ সাম সারের দাম বাড়তি নেয়া হচ্ছে।

কাপ্তাই ইউনিয়নে প্রতি মৌসুমে কৃষকের প্রায় ২০ মেট্রিক টন সার প্রয়োজন। গত অর্থবছরে ৫ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেয়া হয়। চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বিসিআইসি অনুমোদিত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক সরকারী ডিলার কাপ্তাই ইউনিয়নে না থাকায় কৃষকরা ন্যায্যসুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে। বিসিআইসি সার ডিলার হিসেবে চথোয়াই প্রু মারমা নিয়োগ পেতে ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্তেম্বর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। রেশম বাগানের কয়েকজন কৃষক জানান, চন্দ্রঘোনায় কোন ডিলার না থাকায় রাঙ্গুনিয়ার লিচুবাগান-দোভাষী বাজার ও বরইছড়ি থেকে বাড়তি দাম দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। এতে কৃষকরা অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কাপ্তাই ইউনিয়নের জীবতলী, ধনপাতা, হরিণছড়া গ্রামের একাধিক কৃষক জানান, কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমি ও জুমচাষ মৌসুমের শুরুতে সার সংকটে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।

কাপ্তাই উপজেলায় প্রায় ৪০০ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তৎমধ্যে সবচেয়ে বেশী কৃষক রয়েছে ওয়া¹া ইউনিয়নে। প্রায় ৬ হাজার কৃষক চাষাবাদ করেন এখানে। ওয়া¹া ইউনিয়ন সারের ডিলার তুষার জানান, এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষি নির্ভরশীল। চলতি অর্থবছরে ১৫০ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এখানে সারের কোন সংকট নেই। ওয়া¹া ইউনিয়ন ডিলার থেকে কাপ্তাই ও চন্দ্রঘোনার কৃষকরা সার নিচ্ছে। তবে অধিকাংশ কৃষক লিচুবাগান-দোভাষীবাজার থেকে সার ক্রয় করেন বলে তিনি দাবী করেন।

কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সামশুল আলম বলেন, কাপ্তাইয়ে কৃষি জমির পরিমাণ ৩৯৫ হেক্টর। ৫টি ইউনিয়নে ৫ হাজার ৩৪৩ জন কার্ডধারী কৃষক রয়েছে। কাপ্তাই ও চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নে সরকারী সারের ডিলার নেই। দু’টি ইউনিয়ন কৃষকরা ওয়া¹া সার ডিলার থেকে সংগ্রহ করছে। উপজেলা পর্যায়ে সার পর্যাপ্ত মজুত আছে। সারের কোন সংকট নেই। বিসিআইসি অনুমোদিত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক সরকারী ভাবে ডিলার নিয়োগ বন্ধ থাকায় কাপ্তাই ও চন্দ্রঘোনায় ডিলার নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।