খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদগুইমারাপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

সেই বয়স্ক ও বিধবা ভাতার টাকা ফেরত দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার: খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়িতে অসহায়-দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও বিধবা ভাতাভোগীদের কাছ থেকে যাতায়াত খরচ বাবদ একশত টাকা হারে কেটে রাখা সব টাকা নিজ উদ্যেগে সংগ্রহ করে ভাতাভোগীদের ফেরত দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান রেদাক মারমা। শনিবার ও রবিবার ইউনিয়নের সর্বমোট ৫৬৯ জন প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও বিধবা ভাতাভোগ কে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে ডেকে এনে সবার হাতে ১লা সেপ্টেম্বর যাতায়াত ভাড়া বাবদ কেটে রাখা ১০০ ও ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মতেন্দ্র লাল ত্রিপুরার চিকিৎসা খরচ বাবদ ৩৭ জন ভাতাভোগীর স্বেচ্ছায় দেয়া আরো ১০০ টাকা হারে ফেরত দেন তিনি। এই নিয়ে পাহাড়ের আলোসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রচারিত হয়।

জানা যায়, ১ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সরকারি নিয়ম অনুসরন না করে সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের হতদরিদ্র ২১৩জন বিধবা, ২৯১জন বয়স্ক ও ৬৫জন প্রতিবন্ধীসহ সর্বমোট ৫৬৯জন ভাতাভোগীর কাছ থেকে ইউপি সদস্যরা যাতায়াত খরচ বাবদ ১০০ টাকা করে নেন এবং দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত সিন্দুকছড়ি ইউপির ২নং ওয়ার্ড সদস্য মতেন্দ্র লাল ত্রিপুরার চিকিৎসার জন্য উক্ত ওয়ার্ডের ৩৭ জন ভাতাভোগী স্বেচ্ছায় ১০০ টাকা হারে ৩৭০০ টাকা তার চিকিৎসা খরচ দেন।

সরকারি তথ্য মতে, সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন ভাতাভোগী মোট ৫৬৯জনের জন্য চলতি বছরের এপ্রিল, মে ও জুন মাসের ভাতার টাকা বরাদ্দ হয়। সিন্দুকছড়ি ইউনিয়ন পূর্বে মহালছড়ি উপজেলাধীন থাকায় ভাতার টাকা নিয়ম অনুযায়ী মহালছড়ি সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে ভাতাভোগীদের মাঝে বিতরণের কথা থাকলেও সিন্দুকছড়ির ভাতাভোগীদের মৌখিক অনুরোধে সোনালী ব্যাংক মহালছড়ি শাখা ব্যবস্থাপক প্রিয়রঞ্জন চাকমা নিজেই এসে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শনিবারে সিন্দুকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভাতা বিতরণ করেন।

এদিকে বৃদ্ধভাতাভোগী স্থানীয় মৃত মজিবুর হকের ছেলে জেবল হক (৬৪), মৃত জবেদ আলী শিকদারের ছেলে তৈয়ব আলী শিকদার (৬৭), মৃত যতিন্দ্র ত্রিপুরার ছেলে দিলীপ বড়ুয়াসহ ভাতাভোগীরা জানান, আমরা সিন্দুকছড়িবাসী মহালছড়ি হতে ভাতা আনতে গেলে আমাদের জনপ্রতি ৬০০ টাকা হাওে গাড়িভাড়া দিকে হয়, তাছাড়া অনেক ভাতাভোগী বৃদ্ধ হওয়ায় মহালছড়ি হতে ভাতা তোলা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়, তাই আমাদের অনুরোধে ইউপি চেয়ারম্যান রেদাক মারমা ব্যাংক কর্মকর্তাকে বলে এখানে নিয়ে এসে আমাদের ভাতা বিতরণ করেন এবং আমরা স্বেচ্ছায় যাতায়াত খরচ বাবদ ১০০ ও আমাদের মেম্বারের চিকিৎসার জন্য ১০০ টাকা হারে দিয়েছি। এখানে ভাতা দেয়ায় আমরাই উপকৃত হয়েছি। পরবর্তীতে কে বা কাহারা এ ঘটনাকে নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ ও পত্র-পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেন। এমতাবস্থায় চেয়ারম্যান রেদাক মারমা আমাদের সবাইকে ডেকে এনে স্বেচ্ছায় দেয়া আমাদের টাকা আবার আমাদের ফেরত দিয়েছেন।

এবিষয়ে সিন্দুকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রেদাক মারমা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জনসাধারণের উপকারের লক্ষ্যে আমি সরকারী নিয়ম-নীতি লঙ্গন করেছি। ভাতাভোগীদের অনুরোধ ও কষ্ট লাগবের কথা চিন্তা করে আমি ব্যাংক ম্যানেজারকে বলে এখানে নিয়ে এসেছি এবং ভাতা বিতরণ করেছি। সেখানে ভাতাভোগীরা নিজেদের ভাতা হতে যাতায়াত খরচ বাবদ ১০০ টাকা করে দিয়েছেন এবং ৩৭জন এক ইউপি মেম্বারের চিকিৎসার জন্য আরো ১০০ টাকা করে দিয়েছেন। এলাকার পরিবেশ অশান্ত করতেই একটি কুচক্রী মহল এ ঘটনাকে রং লাগিয়ে টাকা আত্মসাতের গুঞ্জন তুলেছে, এরপর আমাকে ইউএনও মহোদয় সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর হতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে এবং আমি কারণ দর্শিয়েছি এবং টাকা সংগ্রহ করে সবার টাকা সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছি।