এক্সচেঞ্জ ও লার্নিং ভিজিট কমিউনিটি সহনশীলতা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অগ্রযাত্রা

শেয়ার করুন

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিলাইছড়ি ও কাপ্তাই উপজেলায় দুই দিনব্যাপী এক্সচেঞ্জ ও লার্নিং ভিজিট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ভিজিটের আয়োজন করেছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ, যার মূল উদ্দেশ্য হলো পার্বত্য চট্টগ্রামে কমিউনিটি সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করা।

ভিজিটটি বাস্তবায়িত হয়েছে Biodiversity Ecosystems Restoration for Community Resilience – BERCR in CHT কর্মসূচির আওতায়। এতে সহযোগিতা করেছে Ecosystems Restoration and Resilient Development in Chittagong Hill Tracts – ERRD-CHT, এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (UNDP)।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা থেকে ২৭ জনের একটি বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তা টিম এই দুই দিনব্যাপী ভিজিটে অংশগ্রহণ করেন। তারা বন সংরক্ষণ, জলবায়ু ঝুঁকি হ্রাস, স্থানীয় কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণে টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারের বিভিন্ন দিক নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। প্রথমদিন, টিমটি কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের কলাবুনিয়া এলাকায় এক্সচেঞ্জ ও লার্নিং কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরের দিন, তারা বিলাইছড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়নের দীঘলছড়ি দেবামাথা পাড়া, একটি দুর্গম এলাকায় ভ্রমণ করে। সেখানে ঝিরি, ছড়া ও ঝর্ণা পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনের পরে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ভিজিটে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বায়োডাইভারসিটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট প্রকল্পের বিলাইছড়ি ও কাপ্তাই উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর। এছাড়া পাড়াবন পরিদর্শন পরিচালনা করেন বায়োডাইভারসিটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা সুকেতন চাকমা, মহালছড়ি উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর নকুল ত্রিপুরা, পানছড়ি উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর ইতা চাকমাসহ প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা। ধিগল মাথা দেবা এলাকায় প্রকৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এখানে রয়েছে ঝিরি-ঝর্ণা, একাধিক ছড়া, মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি, বিভিন্ন সরীসৃপ এবং বহু প্রজাতির পাখি। এছাড়া ছোট-বড় নানা বন্যপ্রাণীর বিচরণ এবং বিভিন্ন মূল্যবান গাছপালা দেখা যায়, যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

এ প্রকল্পটি কানাডা সরকারের আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো-বন ও ছড়া-ঝর্ণা সংরক্ষণ,জীববৈচিত্র্য রক্ষা,জলবায়ু ঝুঁকি হ্রাস এবং স্থানীয় কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধি। অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই ধরনের এক্সচেঞ্জ ও লার্নিং ভিজিট পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিবেশ সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী রক্ষা এবং কমিউনিটি ভিত্তিক টেকসই উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করবে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত আকারে পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য বনাঞ্চল, ঝর্ণা ও ছড়া অঞ্চলেও সম্প্রসারণ করা হবে।