পাহাড়ের আলো: ২৯৮ নং খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে পাহাড়ের চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের সাধারণ জনগণ দীর্ঘদিন ধরে যে রাজনৈতিক সচেতনতা, গণতান্ত্রিক চেতনা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সংস্কৃতি ধারণ করে আসছে-তারই প্রতিফলন ঘটেছে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। শনিবার সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’র মুখপাত্র পাইশিখই মারমা এডমিন পোষ্টে এ দাবি করেন।
তিনি লিখেন, পাহাড়ের সাধারণ মানুষ তাদের ভালোবাসা, আস্থা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একজন সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া কে ভোট দিয়ে জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছেন। এই বিজয় কোনো ব্যক্তি বা দলের একক সাফল্য নয়; বরং এটি পাহাড়ের সাধারণ জনগণের সম্মিলিত আশা-আকাঙ্ক্ষা, উন্নয়নের প্রত্যাশা এবং গণতন্ত্রের প্রতি তাদের অবিচল বিশ্বাসের প্রতিফলন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, পাহাড়ের মানুষের এই গণরায়কে সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী। তারা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের রাজনীতিকে অস্ত্র, ভয়ভীতি এবং সন্ত্রাসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। গণতন্ত্রের শক্তির কাছে নিজেদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব প্রকাশ পাওয়ায় তারা এখন সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে, ভয় দেখাচ্ছে এবং মানুষের স্বাধীন মতামতকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু গণতন্ত্রের জন্যই হুমকি নয়, বরং পাহাড়ের সামাজিক সম্প্রীতি, শান্তি এবং উন্নয়নের পথকেও বাধাগ্রস্ত করছে।
পাইশিখই মারমা বলেন, পাহাড়ের মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ কখনোই অস্ত্রের রাজনীতি কিংবা সন্ত্রাসের সংস্কৃতিকে সমর্থন করেনি। তারা সবসময় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে। তাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইঞা এমপিকে কেন্দ্র করে ঘরে ঘরে হুমকি দেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করার যে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে—তা অত্যন্ত নিন্দনীয়, অগণতান্ত্রিক এবং পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী সম্প্রীতির পরিপন্থী। এই প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য যে সাহসিকতার সাথে এই ধরনের হুমকি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি যে সাধারণ মানুষের অধিকার, মর্যাদা এবং গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন—তা একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতারই প্রতিফলন। তার এই প্রতিবাদ শুধু একটি রাজনৈতিক অবস্থান নয়; বরং এটি পাহাড়ের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং ভোটাধিকার রক্ষার সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
পাহাড়ের মানুষ আজ স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছে যে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে গণতন্ত্রকে দমিয়ে রাখা যায় না। জনগণের ভালোবাসা, সমর্থন এবং গণরায়ই শেষ পর্যন্ত সত্যকে প্রতিষ্ঠা করে। তাই যারা আজও হুমকি, ভয়ভীতি এবং সন্ত্রাসের রাজনীতি দিয়ে পাহাড়ের মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তারা মূলত নিজেদের রাজনৈতিক দুর্বলতা এবং জনগণ থেকে বিচ্ছিন্নতারই প্রমাণ দিচ্ছে।
পাহাড়ের মানুষ আজ শান্তি চায়, উন্নয়ন চায় এবং এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ চায় যেখানে সবাই স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবে, ভোট দিতে পারবে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করতে পারবে। সেই বাস্তবতা প্রতিষ্ঠার পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তারা মূলত পাহাড়ের মানুষের ভবিষ্যৎকেই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়।
অতএব, ২৯৮ নং খাগড়াছড়ি আসনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ওয়াদুদ ভুইঞা এমপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে হুমকি, ভয়ভীতি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। পাহাড়ের জনগণের গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তকে সম্মান করা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখা সকলের দায়িত্ব।
পাইশিখই মারমা তাঁর লেখনির শেষাংশে বলেন, ওয়াদুদ ভুইয়া এমপি সংসদ সদস্যের এই সাহসী প্রতিবাদ পাহাড়ের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি শক্ত বার্তা বহন করে, যা ভবিষ্যতে পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে আরও সুদৃঢ় করবে-এটাই পাহাড়ের সচেতন জনগণের প্রত্যাশা।