পানছড়িতে ইউপিডিএফ-জেএসএস’র গোলাগুলি: নিহত ১, আহত ২

শেয়ার করুন
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলায় পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)-এর সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউপিডিএফের এক সদস্য নিহত এবং অন্তত দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ৭ মার্চ শনিবার দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিট থেকে ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত পানছড়ি উপজেলার ৪ নম্বর লতিবান ইউনিয়নের গঙ্গাপাড়া ও বড়কোণা এলাকায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষে ইউপিডিএফের পানছড়ি সশস্ত্র গ্রুপ কমান্ডার শংকর চাকমা ও রুপায়ন চাকমার নেতৃত্বে প্রায় ৩০-৪০ জন এবং জেএসএসের সশস্ত্র কোম্পানি কমান্ডার সমাজপ্রিয় চাকমার নেতৃত্বে প্রায় ২৫-৩০ জন সদস্য অংশ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে আনুমানিক ১১০ থেকে ১২০ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে। গোলাগুলির ঘটনায় ইউপিডিএফের সদস্য আপন ত্রিপুরা (২৮) নিহত হয়েছেন। তিনি পানছড়ি উপজেলার ৫ নম্বর উল্টাছড়ি ইউনিয়নের মরাটিলা এলাকার পদ্মিনী পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত কিরণ মুনি ত্রিপুরা। এছাড়া ঘটনায় আরও অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেলেও তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাগুলির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি। এদিকে ইউপিডিএফ এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি ইউনিটের সংগঠক অংগ্য মারমা সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সন্তু গ্রুপের ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র দল পানছড়ি সদর ইউনিয়নের বড়কোণা এলাকায় প্রবেশ করে ওঁৎ পেতে থাকে। এ সময় ইউপিডিএফ সদস্য আপন ত্রিপুরা ওরফে সংগ্রাম সাংগঠনিক কাজে যাওয়ার পথে তাদের সামনে পড়ে গেলে তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও সংগঠনগত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছে। এসব ঘটনায় প্রায়ই প্রাণহানি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।