পার্বত্য অঞ্চলে বারি আলু–৯০ জাতের বিস্তার নিয়ে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

শেয়ার করুন

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: পার্বত্য অঞ্চলে আলুর উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উচ্চফলনশীল জাতের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে “বারি আলু–৯০ জাত বিস্তার” শীর্ষক এক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত কার্যক্রমটি কন্দাল ফসল গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্পের অর্থায়নে এই মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়।

আজ খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র এর ট্রেনিং রুমে আয়োজিত এই মাঠ দিবসের আলোচনা সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খন্দকার আবু মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বারির উর্ধতন কর্মকর্তা ফেরদৌসী বেগম, পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র খাগড়াছড়ির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মালেক, বারির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোছাদ্দিকুর রহমান।

মাঠ দিবসে পার্বত্য এলাকার প্রায় ৬০ জন কৃষক ও কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে গবেষক ও কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সামনে বারি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল আলুর জাত বারি আলু-৯০ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং মাঠ পর্যায়ে এর উৎপাদন কার্যক্রম প্রদর্শন করা হয়।

আলোচনায় জানানো হয়, বারি আলু–৯০ একটি উচ্চফলনশীল ও রোগ সহনশীল জাত। বিশেষ করে আলুর মড়ক রোগের আক্রমণ তুলনামূলক কম হওয়ায় এটি চাষে ঝুঁকি কম। এ জাতের জীবনকাল তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষকের উৎপাদন খরচও কম হয়। আলুর খোসা লাল রঙের, শুষ্ক পদার্থের পরিমাণ প্রায় ১৮ শতাংশ এবং সংগ্রহের পর প্রায় ৪–৫ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

মাঠ দিবসে উপস্থিত কৃষকরা এই নতুন জাতের আলু চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে পার্বত্য অঞ্চলে এর ব্যাপক বিস্তারের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট গবেষকরা জানান, পার্বত্য অঞ্চলের জলবায়ু ও মাটির সঙ্গে উপযোগী উচ্চফলনশীল জাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব।