স্টাফ রিপোর্টার: নারী অধিকার ও সমতার অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার স্মরণে খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলায় র্যালি, আলোচনা সভা, অনুদান বিতরণ ও “অদম্য নারী” সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে বেগম রোকেয়া দিবস পালিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে ‘নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র্যালি বের হয়। র্যালিটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন ভূইয়া। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: ফোরকান হাওলাদার, প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক মো: মোবারক হোসেন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্য প্রু মারমা, , সফল নারী রাবেয়া বেগম ও মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন রাসেল প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন উপজেল মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জিনি চাকমা।আলোচনা শেষে নারী কল্যাণ সমিতিকে অনুদানের চেক প্রদান এবং “অদম্য নারী” হিসেবে নির্বাচিত ব্যক্তি রাবেয়া বেগমকে সংবর্ধনা হিসেবে ক্রেষ্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।
অদম্য নারীর সফল মা হওয়ার গল্প
রাবেয়া বেগম, স্বামী- আব্দুল হামিদ শেখ, গ্রাম: লক্ষীছড়ি গুচ্ছগ্রাম আমার ৪জন ছেলে ও ১জন মেয়ে। আমি আমার স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে লক্ষীছড়িতে আসি ১৯৯৫ইং সনে তারপর ছোট মেয়েটি ২০০১ সালে জন্মগ্রহন করে লক্ষীছড়ি গুচ্ছগ্রামে। আমি লক্ষীছড়িতে আসার পরে আমার স্বামী লক্ষীছড়ি আর্মি ক্যাম্পে কাজ নেয় এবং আমি বাসায় সকালে মক্তব পড়াতাম পরে শেলায়ের কাজ শিখি লক্ষীছড়ি কুটির শিল্প হতে তারপর বাজারের কাপরের দোকান থেকে কাপড় (বøাউজ,পেটিকোর্ট, বাচ্চাদের পোশাক) বাসায় এনে শেলাই করে দিয়ে দিতাম তার বিনিময়ে শেলাই বাবদ প্রতিটি হিাসবে টাকা পেতাম তখন শুরুতে আমার চার ছেলে তাদের কে স্কুলে ভর্তি করাই তাদের পরাশোনার খরচ ও সংসার খরচ আমাদের দুইজনের ইনকামে কোন রকম মিটাতে পারতাম। আমার স্বামী ইনকাম করতো মাসে ৯০০ টাকা আর আমি সপ্তাহে ৩০০/৫০০ টাকা ইনকাম করতাম। আমার স্বামী ক্যম্পের বেচে যাওয়া ভাত ও তরকারি বাসায় নিয়ে আসতো সেগুলো দিয়ে আমাদের খাবারের চাহিদা প্রায় মিটে যেতো। দিন রাত কষ্ট করতাম সন্তানদের একটু ভালো ভাবে মানুষ করার জন্য সন্তানদের লেখাপড়া কখনো বন্ধ করিনি বড় ছেলে প্রাইমারি শেষ করে হাইস্কুলে যায় এভাবে পর্যায় ক্রমে সবাই লেখাপড়া করতে থাকে। এদিকে সকল খরচ বহন করার পর কিছু কিছু টাকা জমিয়ে গরু কিনতে থাকি বাচ্চারা সারাদিন স্কুলে থাকে এবং পাশাপাশি গরু গুলো পালন ও করে তারা স্কুলে যাওয়ার আগে গরু মাঠে দিয়ে আসা পড়াশোন ইত্যাদি সকল কাজকর্ম গুলো করে। বাচ্চারাও অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করে। এভাবে ২০০১ সালে বেশিরভাগ গরু বিক্রয় করে গুচ্ছগ্রামে জায়গা ক্রয় করি। ১৯৯৯ সালে বড় ছেলে মেট্রিক পরিক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ হতে ফাস্ট ডিভিশনে পাশ করে। তারপর বড় ছেলেকে হাটহাজারি কলেজে ভর্তি করাই এবং সেখানে লজিং বাড়িতে থেকে বড় ছেলে পড়াশোনা করে পরে পর্যায়ক্রমে মেঝো ছেলে ২০০১ সালে এসএসসি পরিক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ হতে পাশ করে এবং তাকেও হাট হাজারি কলেজে ভর্তি করাই তখন বাকি ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ ও তাদের দুইজনের কলেজের খরচ চালানো অনেক কষ্ট কর হয়ে পরে। তখন ছেলারা টিউশন করিয়ে তাদের লেখাপড়ার খরচ বহন করতো। তারপর আমার স্বামী ২০০২ সালের দিকে ব্রেন স্ট্রোক করে তেমন কোন কাজ কর্ম করতে পারেনা তার পিছনে চিকিৎসার খরচ এবং বাচ্চাদের খরচ অনেক কষ্ট হয়ে পড়ে তখন ও চলে কাপড় শেলাইয়ের কাজ রাত ২/৩টা পযন্ত শেলাইয়ের কাজ করতাম। তখন সেঝো ছেলেটা কেবল হাইস্কুলে উঠে ক্লাস সেভেনে পরে আমার স্বামী তখন থেকে পর্যাক্রমে ধীরে ধীরে অসুস্থ বেশী হয়ে যায় এবং একপর্যায় বিছানায় পরে যায় এখন পযন্ত মৃত্যুর সাথে লড়ছে আমার স্বামী। আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর ঘরের সকল দায়িত্ব পরে যায় সেঝো ছেলের উপর সে তার স্কুল, আর্মি ক্যাম্পে লাকরি দেওয়ার কাজ, চাষাবাদের কাজ সহ ঘরের বাজার থেকে শুরু করে সকল কাজের ভার তার উপরে পরে কারন বড় ২জন শহরে পড়াশোনা করে ছোট ছেলে এখনো প্রাইমারিতে পরে তাই সকল কাজের দায়ভার তার উপর পরে। সেঝো ছেলেটা সকালে ঘুম থেকে উঠে পড়াশোনা ও কৃষি কাজ গরু মাঠে দিয়ে আসা তারপর স্কুলে যাওয়া স্কুল থেকে এসে কৃষি কাজ গরু মাঠ থেকে নিয়ে আসা এবং রাতে পড়াশোনা করা এভাবেই কাটতে থাকে দিন পর্যায়ক্রমে সেঝোছেলে তারপর ছোট ছেলে তারপর ছোট মেয়ে পরাশোনা করতে থাকে। ২০০৮ সালে মেঝো ছেলে লেখপড়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম একটা কোম্পানিতে কাজ করে তখন সেঝো ছেলেকে চট্টগ্রাম নিয়ে যায় কম্পিউটার শেখায় এবং বড় ছেলে পল্লী চিকিৎসা কোর্স করে লক্ষীছড়ি এসে ঔষধের দোকান দেয় পরে মেঝো ছেলে ছাড়া বাকি তিনজন লক্ষীছড়িতেই ঔষধের ব্যবসায় মন দেয় এবং সেঝো ছেলে কম্পিউটার কম্পোজের দোকান দেয় পরে ছোট ছেলে ও বড় ছেলে ঔধধের ব্যবসা করতে থাকে। (শুরুতে বড় ছেলের ঔষধের দোকানে আমি কোন পূজি দিতে পারিনি সে প্রাইভেট পরিয় ৫হাজার টাকা জোগাড় করে বাজারে পাইকারি দোকান থেকে ঔষধ কিনে ব্যবসা শুরু করেন) পরে গরু আমার গরু বিক্রয় করে বাজারে একটা প্লট কিনি তারপর সেখানে ঔষধের দোকান দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। ২০১২ সালের দিকে মঝো ছেলে ও সেঝো ছেলে খাগড়াছড়ি শহরে তাদের নিজেদের জামানো কিছু টাকা দিয়ে নিজের উদ্যোগে একটা প্রোডাক্ট মার্কেটিং ব্যবসা শুরু করে পরে তারা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর দেয় এবং হোমিও ও আয়ুর্বেদিক ফার্মেসি দেয় তারপর ২০১৪ সালে দিকে খাগড়াছড়িতে ছোট একটা কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার চালু করে এবং মেঝো ছেলে ঢাকা থেকে ওয়েব ডেভেলপার এরে প্রথম ফ্রিল্যান্সিং কোর্স চালু করে এবং নিজেও শিখে নেয় শেখান থেকে ধীরে ধীরে তারা বড় হতে থাকে এখন মেঝো ছেলের “এডুলাইফ আইটি প্রতিষ্ঠান” খাগড়াছড়ির সবচাইতে বড় আইটি ফার্ম তার একটা ডিজিটাল এজেন্সি আছে পাশাপাশি আইটি প্রশিক্ষন আছে এবং সেই সাথে ২০২৫ সাল থেকে এডুলাইফ আইটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এখন মেঝো ছেলো ও সেঝো ছেলের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ জন মানুষ ফিক্সড সেলারিতে কাজ করে। আর বড় ছেলের মানিকছড়িতে ঔষধের ব্যবসা আছে এবং ছোট ছেলে চট্টগ্রাম একটা ঔষধ কোম্পানির রিজিওনাল ম্যানেজার হিসাবে আছে এবং লক্ষীছড়িতে ঔষধের ব্যবসা আছে। আর ছোট মেয়েটা হামদর্দ মেডিকেল কলেজে শেষ বর্ষে পড়াশোনা করছে এই বছর শেষ হবে আশা করছি। মোট কথা আমি ছেলেদের এসএসসি পযন্ত পড়াশোনার খরচ সহ গাইড করেছি তারপর তারা তাদের নিজেদের খরচ ও ছোট বোনের খরচ বহন করেছে এখন তারা সবাই প্রাই সফল। তাদের সফল করার জন্য আমি যেমন সংগ্রাম করেছি ঠিক তারাও চেষ্টা করেছে সফল হওয়ার জন্য এবং সকল কিছু তো লিখা সম্ভব হয়না তাই যতটুকু সম্ভব লিখার চেষ্টা করেছি। যাই হোক আমার সন্তানেরা সবাই সুন্দর ভাবে চলছে তারা যেমন আদর্শবান হয়েছে তেমন মানুষের কল্যাণে কাজ করছে এবং আমি ও আমার স্বামীর দেখাশোনায় তাদের কোন কমতি নাই তাই সবকিছু মিলে আমার মনে হয় আমি একজন সফল মা আমার কষ্ট সার্থক সুন্দর ভাবে সন্তানদের মানুষ করতে পেরেছি।
রাবেয়া বেগম, স্বামী- আব্দুল হামিদ শেখ, গ্রাম: লক্ষীছড়ি গুচ্ছগ্রাম আমার ৪জন ছেলে ও ১জন মেয়ে। আমি আমার স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে লক্ষীছড়িতে আসি ১৯৯৫ইং সনে তারপর ছোট মেয়েটি ২০০১ সালে জন্মগ্রহন করে লক্ষীছড়ি গুচ্ছগ্রামে। আমি লক্ষীছড়িতে আসার পরে আমার স্বামী লক্ষীছড়ি আর্মি ক্যাম্পে কাজ নেয় এবং আমি বাসায় সকালে মক্তব পড়াতাম পরে শেলায়ের কাজ শিখি লক্ষীছড়ি কুটির শিল্প হতে তারপর বাজারের কাপরের দোকান থেকে কাপড় (বøাউজ,পেটিকোর্ট, বাচ্চাদের পোশাক) বাসায় এনে শেলাই করে দিয়ে দিতাম তার বিনিময়ে শেলাই বাবদ প্রতিটি হিাসবে টাকা পেতাম তখন শুরুতে আমার চার ছেলে তাদের কে স্কুলে ভর্তি করাই তাদের পরাশোনার খরচ ও সংসার খরচ আমাদের দুইজনের ইনকামে কোন রকম মিটাতে পারতাম। আমার স্বামী ইনকাম করতো মাসে ৯০০ টাকা আর আমি সপ্তাহে ৩০০/৫০০ টাকা ইনকাম করতাম। আমার স্বামী ক্যম্পের বেচে যাওয়া ভাত ও তরকারি বাসায় নিয়ে আসতো সেগুলো দিয়ে আমাদের খাবারের চাহিদা প্রায় মিটে যেতো। দিন রাত কষ্ট করতাম সন্তানদের একটু ভালো ভাবে মানুষ করার জন্য সন্তানদের লেখাপড়া কখনো বন্ধ করিনি বড় ছেলে প্রাইমারি শেষ করে হাইস্কুলে যায় এভাবে পর্যায় ক্রমে সবাই লেখাপড়া করতে থাকে। এদিকে সকল খরচ বহন করার পর কিছু কিছু টাকা জমিয়ে গরু কিনতে থাকি বাচ্চারা সারাদিন স্কুলে থাকে এবং পাশাপাশি গরু গুলো পালন ও করে তারা স্কুলে যাওয়ার আগে গরু মাঠে দিয়ে আসা পড়াশোন ইত্যাদি সকল কাজকর্ম গুলো করে। বাচ্চারাও অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করে। এভাবে ২০০১ সালে বেশিরভাগ গরু বিক্রয় করে গুচ্ছগ্রামে জায়গা ক্রয় করি। ১৯৯৯ সালে বড় ছেলে মেট্রিক পরিক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ হতে ফাস্ট ডিভিশনে পাশ করে। তারপর বড় ছেলেকে হাটহাজারি কলেজে ভর্তি করাই এবং সেখানে লজিং বাড়িতে থেকে বড় ছেলে পড়াশোনা করে পরে পর্যায়ক্রমে মেঝো ছেলে ২০০১ সালে এসএসসি পরিক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ হতে পাশ করে এবং তাকেও হাট হাজারি কলেজে ভর্তি করাই তখন বাকি ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ ও তাদের দুইজনের কলেজের খরচ চালানো অনেক কষ্ট কর হয়ে পরে। তখন ছেলারা টিউশন করিয়ে তাদের লেখাপড়ার খরচ বহন করতো। তারপর আমার স্বামী ২০০২ সালের দিকে ব্রেন স্ট্রোক করে তেমন কোন কাজ কর্ম করতে পারেনা তার পিছনে চিকিৎসার খরচ এবং বাচ্চাদের খরচ অনেক কষ্ট হয়ে পড়ে তখন ও চলে কাপড় শেলাইয়ের কাজ রাত ২/৩টা পযন্ত শেলাইয়ের কাজ করতাম। তখন সেঝো ছেলেটা কেবল হাইস্কুলে উঠে ক্লাস সেভেনে পরে আমার স্বামী তখন থেকে পর্যাক্রমে ধীরে ধীরে অসুস্থ বেশী হয়ে যায় এবং একপর্যায় বিছানায় পরে যায় এখন পযন্ত মৃত্যুর সাথে লড়ছে আমার স্বামী। আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর ঘরের সকল দায়িত্ব পরে যায় সেঝো ছেলের উপর সে তার স্কুল, আর্মি ক্যাম্পে লাকরি দেওয়ার কাজ, চাষাবাদের কাজ সহ ঘরের বাজার থেকে শুরু করে সকল কাজের ভার তার উপরে পরে কারন বড় ২জন শহরে পড়াশোনা করে ছোট ছেলে এখনো প্রাইমারিতে পরে তাই সকল কাজের দায়ভার তার উপর পরে। সেঝো ছেলেটা সকালে ঘুম থেকে উঠে পড়াশোনা ও কৃষি কাজ গরু মাঠে দিয়ে আসা তারপর স্কুলে যাওয়া স্কুল থেকে এসে কৃষি কাজ গরু মাঠ থেকে নিয়ে আসা এবং রাতে পড়াশোনা করা এভাবেই কাটতে থাকে দিন পর্যায়ক্রমে সেঝোছেলে তারপর ছোট ছেলে তারপর ছোট মেয়ে পরাশোনা করতে থাকে। ২০০৮ সালে মেঝো ছেলে লেখপড়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম একটা কোম্পানিতে কাজ করে তখন সেঝো ছেলেকে চট্টগ্রাম নিয়ে যায় কম্পিউটার শেখায় এবং বড় ছেলে পল্লী চিকিৎসা কোর্স করে লক্ষীছড়ি এসে ঔষধের দোকান দেয় পরে মেঝো ছেলে ছাড়া বাকি তিনজন লক্ষীছড়িতেই ঔষধের ব্যবসায় মন দেয় এবং সেঝো ছেলে কম্পিউটার কম্পোজের দোকান দেয় পরে ছোট ছেলে ও বড় ছেলে ঔধধের ব্যবসা করতে থাকে। (শুরুতে বড় ছেলের ঔষধের দোকানে আমি কোন পূজি দিতে পারিনি সে প্রাইভেট পরিয় ৫হাজার টাকা জোগাড় করে বাজারে পাইকারি দোকান থেকে ঔষধ কিনে ব্যবসা শুরু করেন) পরে গরু আমার গরু বিক্রয় করে বাজারে একটা প্লট কিনি তারপর সেখানে ঔষধের দোকান দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। ২০১২ সালের দিকে মঝো ছেলে ও সেঝো ছেলে খাগড়াছড়ি শহরে তাদের নিজেদের জামানো কিছু টাকা দিয়ে নিজের উদ্যোগে একটা প্রোডাক্ট মার্কেটিং ব্যবসা শুরু করে পরে তারা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর দেয় এবং হোমিও ও আয়ুর্বেদিক ফার্মেসি দেয় তারপর ২০১৪ সালে দিকে খাগড়াছড়িতে ছোট একটা কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার চালু করে এবং মেঝো ছেলে ঢাকা থেকে ওয়েব ডেভেলপার এরে প্রথম ফ্রিল্যান্সিং কোর্স চালু করে এবং নিজেও শিখে নেয় শেখান থেকে ধীরে ধীরে তারা বড় হতে থাকে এখন মেঝো ছেলের “এডুলাইফ আইটি প্রতিষ্ঠান” খাগড়াছড়ির সবচাইতে বড় আইটি ফার্ম তার একটা ডিজিটাল এজেন্সি আছে পাশাপাশি আইটি প্রশিক্ষন আছে এবং সেই সাথে ২০২৫ সাল থেকে এডুলাইফ আইটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এখন মেঝো ছেলো ও সেঝো ছেলের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ জন মানুষ ফিক্সড সেলারিতে কাজ করে। আর বড় ছেলের মানিকছড়িতে ঔষধের ব্যবসা আছে এবং ছোট ছেলে চট্টগ্রাম একটা ঔষধ কোম্পানির রিজিওনাল ম্যানেজার হিসাবে আছে এবং লক্ষীছড়িতে ঔষধের ব্যবসা আছে। আর ছোট মেয়েটা হামদর্দ মেডিকেল কলেজে শেষ বর্ষে পড়াশোনা করছে এই বছর শেষ হবে আশা করছি। মোট কথা আমি ছেলেদের এসএসসি পযন্ত পড়াশোনার খরচ সহ গাইড করেছি তারপর তারা তাদের নিজেদের খরচ ও ছোট বোনের খরচ বহন করেছে এখন তারা সবাই প্রাই সফল। তাদের সফল করার জন্য আমি যেমন সংগ্রাম করেছি ঠিক তারাও চেষ্টা করেছে সফল হওয়ার জন্য এবং সকল কিছু তো লিখা সম্ভব হয়না তাই যতটুকু সম্ভব লিখার চেষ্টা করেছি। যাই হোক আমার সন্তানেরা সবাই সুন্দর ভাবে চলছে তারা যেমন আদর্শবান হয়েছে তেমন মানুষের কল্যাণে কাজ করছে এবং আমি ও আমার স্বামীর দেখাশোনায় তাদের কোন কমতি নাই তাই সবকিছু মিলে আমার মনে হয় আমি একজন সফল মা আমার কষ্ট সার্থক সুন্দর ভাবে সন্তানদের মানুষ করতে পেরেছি।