খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক: শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ি এলাকার অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘবে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। পরিষদের উদ্যোগে জেলার প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক অস্বচ্ছল, এতিম, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার ৪জানুয়ারি দিনব্যাপী খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি ইউনিয়ন ও তবলছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় এ কম্বল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। কম্বল বিতরণকালে তিনি বলেন,“পাহাড়ি এলাকায় শীতের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যেন শীতে কষ্ট না পায়, সে জন্য পার্বত্য জেলা পরিষদ সবসময় মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন,“শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, মানুষের জীবনমান উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য। শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেরই একটি অংশ। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম সুমন বলেন,“প্রত্যন্ত এলাকায় অনেক পরিবার রয়েছে, যাদের শীত নিবারণের সামর্থ্য নেই। জেলা পরিষদের এই উদ্যোগ তাদের জন্য বড় সহায়তা। আমরা চেষ্টা করছি প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে।”
কম্বল পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। গোমতি ইউনিয়নের এক উপকারভোগী বলেন,“শীতে রাতে খুব কষ্ট হতো। কম্বল পাওয়ায় এখন একটু স্বস্তি পাবো। আমাদের কথা ভাবার জন্য জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তবলছড়ি ইউনিয়নের এক বৃদ্ধ উপকারভোগী বলেন,“এই পাহাড়ে শীত অনেক বেশি। কম্বল না থাকলে টিকে থাকা কঠিন। আজ যে কম্বল পেলাম, তা আমাদের জন্য অনেক বড় উপকার।” কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সমাজকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, দুর্গম পাহাড়ি জনপদে এ ধরনের শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য, শীত মৌসুমে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য অঞ্চলের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এতে দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ বাড়ে। এ প্রেক্ষাপটে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের এই মানবিক উদ্যোগ শীতার্ত মানুষের মাঝে স্বস্তি ও মানবিকতার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।