পাহাড়ের আলো: রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় পুলিশের গুলিতে শহীদ গোলাম নাফিজ হত্যা মামলায় খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে কর্মরত থাকা অবস্থায় আটক হয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শচীন মৌলিক। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) তাকে ডিবি পুলিশ আটক করে। খাগড়াছড়ি পুলিশের একজন কর্মকর্তা শচীন মৌলিককে গ্রেফতারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুলিশ কর্মকর্তা শচীন মৌলিককে মহালছড়ি-৬ এপিবিএনে সংযুক্ত করা হয়। ঘটনার সময় তিনি পুলিশের তেজগাঁও জোনের এডিসি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান সংশ্লিষ্ট হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। জানা যায়, নাফিজ বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাশ করে ঢাকার নৌবাহিনী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকালে ফার্মগেট এলাকায় গোলাম নাফিজ পুলিশের গুলিতে আহত হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। এ ঘটনায় চলমান তদন্তে শচীন মৌলিকের নাম উঠে আসে। তিনি ৩৩তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে তিনি ডিএমপির তেজগাঁও জোনে কর্মরত ছিলেন এবং জুলাই আন্দোলনে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে আটকের পর ২২ আগস্ট শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সেফাতুল্লাহ এই আদেশ দেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ তারেক জুবায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তদন্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আলমগীর সরকার আদালতে শচীন মৌলিককে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তেজগাঁও থানার ফার্মগেট এলাকায় কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউতে বাবুল টাওয়ারের সামনে, আনন্দ সিনেমা হলের পাশের ফুটওভার ব্রিজের নিচে, কারওয়ান বাজার পর্যন্ত ও আশপাশ এলাকায়- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও জনতার ওপর মরণাস্ত্র প্রয়োগের মাধ্যমে শচীন মৌলিক মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।
আদালতে হাজির করার সময় পুলিশ তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন না করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে, যা আদালত মঞ্জুর করেন।