খাগড়াছড়িতে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও শীতবস্ত্র বিতরণ

শেয়ার করুন

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক: শীতের সকালে দুর্গম পাহাড়ি জনপদের শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফোটাতে খাগড়াছড়িতে শিক্ষা উপকরণ ও শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে ‘শিক্ষা সুরক্ষা’ প্রকল্প। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সুবিধাবঞ্চিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুল ব্যাগ ও শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় এবং ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন (ক্যাম্পে) ও জাবারাং কল্যাণ সমিতির যৌথ উদ্যোগে এই মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
পেরাছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিম্বিসার খীসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারিয়া সুলতানা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শুভাশীষ বড়ুয়া, জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক রবিউল ইসলামসহ শিক্ষা বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আয়োজক সংস্থার পক্ষে বক্তব্য রাখেন ক্যাম্পের সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস (প্রিন্স) এবং জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা।
অনুষ্ঠানে সদর ইউনিয়নের ভোলানাথ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লারমা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পল্টনজয় পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পেরাছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে এসব শিক্ষা উপকরণ ও শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও ফারিয়া সুলতানা বলেন,
“দুর্গম এলাকার শিশুদের জন্য শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সহায়তা শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে বড় ভূমিকা রাখে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে একটি দক্ষ, সচেতন ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।”
আয়োজকরা জানান, ২১ মাস মেয়াদি ‘শিক্ষা সুরক্ষা’ প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ি সদরের ভাইবোনছড়া ও পেরাছড়া ইউনিয়নের মোট সাতটি মাধ্যমিক এবং চৌদ্দটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সহায়তা, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সেবামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এগিয়ে আসায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ক্যাম্পে ও জাবারাং কল্যাণ সমিতিকে ধন্যবাদ জানান এবং দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।