রামগড়ে শ্যামলী বাসের বক্সের দরজার আঘাতে যাত্রী নিহত, পরে চালকের ‘স্ট্রোক’ করে মৃত্যু

শেয়ার করুন

রতন বৈষ্ণব ত্রিপুরা, ​রামগড়: খাগড়াছড়ির রামগড়-জালিয়াপাড়া সড়কে শ্যামলী পরিবহণের একটি দ্রুতগামী নৈশকোচের মালামাল রাখার বক্সের খোলা দরজার আঘাতে এক বাসযাত্রী নিহত এবং অপর দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এদিকে, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া ওই শ্যামলী বাসের চালকের মরদেহ পরদিন সকালে একটি যাত্রী ছাউনি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, পালিয়ে যাওয়ার পর চালক স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

​গত রবিবার (১৭ মে) রাত ১২টার দিকে রামগড়-জালিয়াপাড়া সড়কের চাষীনগর নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত যাত্রীর নাম শাহ আলম (৩৫)। তিনি খাগড়াছড়ি সদরের শান্তিনগর এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। নিহত বাস চালকের নাম মো. রব সেখ (৪৫)। তিনি পাবনার সুজানগর উপজেলার আলাদিপুর গ্রামের মৃত ইমান আলীর ছেলে।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত ১২টার দিকে খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকাগামী ‘শান্তি পরিবহণ’-এর একটি নৈশ বাস চাষীনগর এলাকায় পৌঁছালে আকস্মিকভাবে সেটির একটি চাকা পাংচার (ব্লাস্ট) হয়ে যায়। এ সময় বাসের যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক ওই মুহূর্তে একই দিকে যাওয়া ঢাকা অভিমুখী ‘শ্যামলী পরিবহণ’-এর একটি দ্রুতগতির এসি নৈশকোচ ওই স্থান অতিক্রম করার সময় সেটির মালামাল রাখার বক্সের একটি খোলা দরজা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শান্তি পরিবহণের যাত্রীদের সজোরে আঘাত করে।

​বক্সের দরজার ধারালো অংশের আঘাতে শাহ আলমের পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। এ সময় জুনায়েত (২৫) ও রুবেল কর্মকার (৩৫) নামে আরও দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন।

​দুর্ঘটনার পর পরই শ্যামলী বাসের চালক ও অন্যান্য স্টাফরা গাড়ি রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। সোমবার সকালে দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নাকাপা বাজার সংলগ্ন নাকাপা হাইস্কুল প্রবেশদ্বারের একটি যাত্রী ছাউনি থেকে চালক রব সেখের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

​পুলিশের ধারণা, দুর্ঘটনার পর চালক রব সেখ পালিয়ে ওই যাত্রী ছাউনিতে আসেন। সেখানে তিনি তার পরনের শার্ট-প্যান্ট বদলে লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরে কাঠের বেঞ্চে শুয়ে পড়েন। ঘুমের মধ্যেই সম্ভবত তিনি স্ট্রোক করে মারা যান। পরে তার পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।

​রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজির আলম জানান, খবর পেয়ে রামগড় থানাধীন নাকাপা ক্যাম্পের পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে রামগড় হাসপাতালে পাঠায়। সোমবার সকালে চালকের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। নিহত চালকের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং তারা রামগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।