খাগড়াছড়ি আসনে ১৫ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল, সরে দাঁড়ালেন ঝুমা

শেয়ার করুন

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক: খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমাদান কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আলাওয়ার সাদাতের কার্যালয়ে মোট ১৫ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে মোট ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মনজিলা সুলতানা ঝুমা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মনোনয়ন দাখিলকারী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন-বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া,জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. এয়াকুব আলী চৌধুরী,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আউসার আজিজী,জাতীয় পার্টির প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা,গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী দিনময় রোয়াজা,বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী মো. মোস্তফা, ইনসানিয়াত বাংলাদেশের প্রার্থী মো. নূর ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা আনোয়ার হোসাইন মিয়াজী,এবং বাংলাদেশ মাইনোরিটি জনতার পার্টি (বিএমজেপি) মনোনীত প্রার্থী উশ্যেপ্রু মারমা। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন,সমীরণ দেওয়ান, সোনা রতন চাকমা, ধর্মজ্যোতি চাকমা, লাব্রিচাই মারমা, সন্তোষিত চাকমা বকুল ও জিরুনা ত্রিপুরা।

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মনজিলা সুলতানা ঝুমা ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। ফলে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেননি।

এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং আসনে বিএনপি, জামাত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র নেন। ১৬ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও এনসিপি প্রার্থী মনজিলা সুলতানা ঝুমা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় বাকী ১৫ জন প্রার্থীী মনোনয়ন জমা দেন। মনোনয়ন দাখিলকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক কার্যালয় এলাকায় ছিল কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে পুরো কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

সব প্রার্থীদের মনোনয়ন জমাদানকালে কোন ধরণের আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। মনোনয়ন জমাদান শেষে বিভিন্ন প্রার্থীরা নিরাপত্তার কথা বলেছেন। আশংকার কথা জানিয়েছেন কেউ কেউ।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া জানান, নির্বাচনের মাঠে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকা দরকার। শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেন। এ সময় তিনি পাহাড়ের শান্তি, সম্প্রীতির পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথা জানিয়েছেন। তিনি এর আগেও কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। দুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পতিত আ’লীগ সরকারের টানা মেয়াদে জেলায় বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা হিসেবে মামলা, হামলা, নির্যাতনের শুকার হন। কয়েক দফায় ওয়াদুদ ভূইয়ার বাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও গুলি করে পতিত আ’লীগের নেতাকর্মীরা।

অপরদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান এর আগে একাধিকবার সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। এরমধ্যে একবার নৌকা প্রতীক নিয়ে আ’লীগ থেকে একবার এবং পরেরবার ২০১৮ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে হেরে যান। এরপর থেকে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। অনেকটা নিরুদ্দেশ হয়ে ছিলেন। এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হুট করে মাঠে এসে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন চান। না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে মনোনয়ন নেন।

সমীরণ দেওয়ান বলেন, দলীয় রাজনীতির অপমৃত্যু হয়েছে। কিছুই করার নেই। কেন্দ্র বহিস্কার করলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে লড়বেন। বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি এককথায় বলেন, এটি সম্ভব না। সমর্থন নয় বরং স্বতন্ত্র হয়ে তিনি নির্বাচনে লড়বেন। অপরদিকে, জামায়াতের প্রার্থী এড. ইয়াকুব আলী চৌধুরী জানান, তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও বৈষম্য মুক্ত খাগড়াছড়ি গড়তে কাজ করবেন।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে আশংকার কথা বলেন। একইসাথে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়েও শঙ্কা পৃরকাশ করেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কাউছার আজিজী বলেন, দলগত সিদ্ধান্ত আছে। জোটগত কোন বিষয় থাকলে তখন বিবেচনা করা হবে। তবে প্রার্থী হিসেবে লড়ে নির্বাচিত হয়ে পাহাড়ের মানুষের জন্যে করবেন এমনটা জানিয়েছেন।

৯ টি উপজেলা, ৩টি পৌরসভা ও ৩৮ টি ইউনিয়ন নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা। সংসদীয় আসন ১টি। এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলায় মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৪ জন। জেলায় নারী পুরুষ মিলে প্রায় সমান সমান ভোটার। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরবর্তী ধাপে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যাচাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে, যা ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।