খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়িতে দিন দিন বাড়ছে লাভজনক মসলা চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় মসলা উৎপাদনে তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। এরই অংশ হিসেবে “কৃষিই সমৃদ্ধি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণে মাঠ দিবস ও কারিগরি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের “মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প”-এর আওতায় মঙ্গলবার বিকেলে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের ৬নং মুনিগ্রাম প্রতিবন্ধ পাড়ায় এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষকদের সামনে প্রদর্শন করা হয় আধুনিক পদ্ধতিতে মসলা চাষের নানা কৌশল। বিশেষ করে আদা, হলুদ, মরিচ, ধনিয়া ও অন্যান্য মসলা জাতীয় ফসলের উন্নত জাত, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, জৈব সার ব্যবহার, মাটির উর্বরতা সংরক্ষণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন,
“খাগড়াছড়ির পাহাড়ি মাটি ও অনুকূল আবহাওয়া মসলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পরিকল্পিত চাষাবাদ, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে মসলা উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের মসলার চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে খাগড়াছড়ি।”
তিনি আরও বলেন, কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই করতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে কৃষি বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. আহসানুল হক চৌধুরী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুক্তা চাকমা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা।
মতবিনিময় সভায় কৃষকেরা মসলা চাষে বাজারজাতকরণ, রোগবালাই, সেচ ও উৎপাদন ব্যয় নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। জবাবে কৃষি কর্মকর্তারা বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং সরকারের কৃষি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা কার্যক্রম সম্পর্কে কৃষকদের অবহিত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন করেন। সেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ফসলের উন্নত বৃদ্ধি ও ফলন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন উপস্থিত কৃষকেরা। অনেকেই ভবিষ্যতে অধিক পরিসরে মসলা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাহাড়ি অঞ্চলের অনাবাদী ও সম্ভাবনাময় জমিগুলোকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে মসলা চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে খাগড়াছড়ি দেশের অন্যতম মসলা উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।