রাস্তার কাজ অসমাপ্ত রেখে উধাও ঠিকাদার, ভোগান্তিতে ৫ গ্রামের মানুষ

শেয়ার করুন

রতন বৈষ্ণব ত্রিপুরা, রামগড়: খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলায় রাস্তার নির্মাণকাজ অসমাপ্ত রেখে উধাও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস, এস, স্টিল এন্ড থাই ওয়ার্কস। এতে করে চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ৫ গ্রামের প্রায় অর্ধলাখ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও রাস্তার কাজের অগ্রগতি নেই বললেই চলে। খোঁড়াখুঁড়িরসহ প্রায় পুরোনো ইট তুলে বিক্রি করে দিয়েছে উক্ত ঠিকাদার। সেই থেকেই রাস্তার অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের ভি আর আর পি খাগড়াছড়ি (এলজিইডি) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়কটির নির্মাণকাজ করার লক্ষে টেন্ডারের পর কাজ শুরু করে। জানাগেছে কাজটি ৩১ আগষ্ট ২০২৩ সালর মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও অদ্যাবধি সড়কের কাজ অসমাপ্ত রেখে ঠিকাদার উধাও।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তাটি উন্নয়নের নামে সামান্য অংশ সাববেইজ করে ফেলে রেখেছে। তাছাড়া রাস্তার ইট উঠিয়ে তা চুরি করে বিক্রি করে দেয়। এর ফলে ৩ বছরযাবৎ বর্ষা মৌসুমে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। অনেক জায়গায় জমে থাকতো হাঁটু সমান পানি। ফলে অটোরিকশা, ভ্যান, সিএনজিসহ সকল যানবাহন চলাচলে হিমশিম খেতে হচ্ছে এলাকার গ্রামবাসী । এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। তাই আমরা সড়কটি সংস্কারের যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্য রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসন বরাবর আবেদন জানিয়েছি।

এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক কাউন্সিলর জামাল হোসেন ভুট্টা এবং মনির আহম্মেদ বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। কিন্তু এখন রাস্তা যেন এক দুর্ভোগের নাম। স্কুল- কলেজ ও শিশু- বৃদ্ধদের চলাফেরাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা পাইনি।

রামগড় উপজেলা কারবারী এসোসিয়েশনের সভাপতি আনন্দ মোহন খােকন বলেন, সড়কটি ৫ গ্রামের প্রায় অর্ধলাখ মানুষ চলাচল করে থাকে। কাজ বন্ধ রাখার কারণ জানার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এমনকি মুঠোফোনেও পাওয়া যায়নি। প্রতি কষ্টের মধ্যেদিয়ে আমরা এলাকাবাসী পরেছি বিপদে।

এ বিষয়ে রামগড় উপজেলা প্রকৌশলী (অ:দা) নাইমুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার কোনোভাবে সাড়া দিচ্ছে না। তবে জানাগেছে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তর থেকে ১ম চলতি বিল উত্তোলনের পর কাজটি না করায় ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। ফলে কাজটি বাস্তবায়নে অনিশ্চিত হয়ে পরেছে।

এবিষয়ে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসন কাজী শামীম বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ কাজটি পুনরায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আবেদন পেয়েছি। এলাকাবাসীর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন বলে তিনি জানান।