লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ১২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১১টিই ঝুকিঁপূর্ণ

শেয়ার করুন

                           অধিক ঝুঁকিপূর্ণ দুর্গম ২টি ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম যাবে হেলিকপ্টারে
মোবারক হোসেন: খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ১২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১১টিই ঝুকিঁপূর্ণ এবং এর মধ্যে ২টি কেন্দ্র আরো অধিক ঝুকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় মোট ভোটার ২২ হাজার ৫’শ ৭৫ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১হাজার ২’শ ৯৪জন এবং মহিলা ভোটার ১১ হাজার ২’শ ৮১ জন। লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়নে মোট ভোটার ৯ হাজার ৭’শ ৭জন, দুল্যাতলী ইউনিয়নে ৬ হাজার ৬’শ ২৭ জন ও বর্মাছড়ি ইউনিয়নে ৫ হাজার ৯’শ ৮৭জন ভোটার রয়েছে। ৫২টি কক্ষ নিয়ে মোট ভোট কেন্দ্র ১২টি।

লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়নে ভোট কেন্দ্র ৫টি, দুল্যাতলী ইউনিয়নে ৩টি ও বর্মাছড়ি ইউনিয়নে ৪ টি কেন্দ্র রয়েছে। কেন্দ্র গুলো হলো লক্ষ্মীছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১,৪২৮ জন), মংহলা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২,৮৭১ জন), শুকনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১,০৯৮ জন), যতিন্দ্র কার্বারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২,৩৫৩ জন) ও লক্ষ্মীছড়ি সরকারি কলেজ (১,৯৫৭জন)। দুল্যাতলী ইউনিয়নে ভোট কেন্দ্র ৩টি- দুল্যাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১,৬৪১ জন), জারুলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১,৬০১ জন), দেওয়ান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৩,৩৮৫জন)। বর্মাছড়ি ইউনিয়নে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৪টি- বর্মাছড়ি জুনিয়র হাইস্কুল (৮২৪ জন), কুতুপছড়ি বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২,৫১২ জন), মুক্তাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১,৫১১ জন) ও ফুত্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১,১৪০ জন)। এর মধ্যে অধিক ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্র হলো লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়নের শুকনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বর্মাছড়ি ইউনিয়নের ফুত্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই ২টি কেন্দ্রে বিশেষ হেলিকপ্টারে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠাবে উপজেলা প্রশাসন।

এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে মংহলা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যতিন্দ্র কার্বারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লক্ষ্মীছড়ি সরকারি কলেজ, দুল্যাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জারুলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেওয়ান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বর্মাছড়ি জুনিয়র হাইস্কুল, কুতুপছড়ি বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মুক্তাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলোর সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। পাঁয়ে হেঁটে যাওয়া ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। ভোট গ্রহণের সাথে জড়িত প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার সহ নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লি¬ষ্ট সকলেই ঝোঁপ-জঙ্গল, ঝিড়ি উচুঁ-নিচু পাহাড় পাড়ি দিয়ে সেখানে যেতে হয়। সহকারি রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার হামিদ জানান, প্রত্যান্ত এলাকায় শুকনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফুত্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২টি কেন্দ্রে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। বাকি কেন্দ্র গুলোতে আগের মতই পায়ে হেঁটে যেতে হবে বলে তিনি জানান। সম্প্রতি ইউএনও সরেজমিনে শুকনাছড়ি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। তবে পরিবেশ ও পরিস্থিতি পর্যালোচনার আলোকে বলা যায়, লক্ষ্মীছড়ি সরকারি কলেজ, মংহলা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জারুলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুকিপূর্ণ বলা হলেও কোনো রকম শংকার কথা নাকচ করে দেন স্থানীয়রা।

মংহলা পাড়া কেন্দ্রের ভোটার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্য প্রু মারমা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ভোট কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ভোট হওয়া নিয়ে শংকা রয়েছে। সাধারণ ভোটাররা আতংকে থাকে। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার সুযোগ পায় না। নিদৃষ্ট কোনো একটি গ্রুপ তাদের সমর্থীত প্রার্থীকে ভোট দেয়ার চাপ দিয়ে থাকে বরাবরই। তবে এবার এটাও বলা যায়, সরাসরি কোনো প্রার্র্থীকে সমর্থন দিয়েছে এমনটা এখনো পর্যন্ত আলোচনায় আসেনি। যত কঠিন চাপই আসুক উপজাতীয়রা এবার নিজের পছন্দের প্রার্খীকে ভোট দিবে এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। লক্ষ্মীছড়ি বাজার পরিচালনা কমিটি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: ফোরকান হাওলাদার বলেন, মানুষ ১৭ বছর ভোট দিতে পারেনি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে ওয়াদুদ ভূইয়ার ধানের শীষ প্রতীক বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। পাহাড়ি-বাঙ্গালি মিলে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা বাসী সর্বোচ্চ ভোট দিয়ে ধানের শীষ প্রতীককে এগিয়ে রাখবে এমনটাই আমরা আশাবাদী।

এদিকে ভোটার তালিকা বিশ্লেষণ করে জানা যায়, বর্মাছড়ি ইউনিয়নে ৩টি কেন্দ্রসহ লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়নের শুকনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যতিন্দ্র কার্বারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুল্যাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দেওয়ান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ১৪ হাজার ৪’শ ৬৪ জন যা সম্পূর্ণ উপজাতীয় ভোটার। লক্ষ্মীছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মংহলা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জারুলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাহাড়ি-বাঙ্গালি মিলে এখানে মোট ভোটার রয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৮’শ ৫৭ভোটার। ধারণা করা হচ্ছে এই তিন কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ভোটার রয়েছে মুসলিম। মারমা ভোটার রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪হাজার। প্রায় ৬’শ ভোটার রয়েছে সাঁওতাল, হিন্দু ও বুড়য়া মিলে। সরকারি চাকরিজীবীরা পোষ্টাল ভোটের সুযোগ থাকলেও এ সুযোগ থেকে বুঞ্চিত হবেন ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা হিল ভিডিপি’র সদস্যরা। তবে এবারই ভোটের মাঠে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। অতীতের নির্বাচনে আঞ্চলিক দলের পক্ষ থেকে সরাসরি মনোনীত স¦তন্ত্র প্রতীকের প্রার্থী থাকলেও এবার তেমনটা লক্ষ্যনীয় নয় বলেই দেখা যাচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরিই মধ্যে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ বিজিবি নিয়মিত টহলে রয়েছে। কোনো প্রকার ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকবে না বলে প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে।