চট্টগ্রাম সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

আজ সৈয়দ শফিউল বশর মাইজভান্ডারীর ৯৯তম খোশরোজ শরীফ

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি:‘মাইজভান্ডারী নুর নগরী, বাবা মওলা ধন, প্রেমাগুনে জ্বালাই মারো সারাটি জীবন…’ এমন নানান মাইজভান্ডারী আধ্যত্মিক গান বাঁজিয়ে দুর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন অসংখ্য ভক্ত-অনুরক্তরা।  আজ ৭ ফাল্গুন। মাইজভান্ডারী ত্বরিকার অন্যতম প্রচারক অলিয়ে কামেল শাহসূফী সৈয়দ শফিউল বশর মাইজভান্ডারীর খোশরোজ শরীফ। এ উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন থানা, উপজেলা, জেলা এবং দেশের বাইরে বিদেশ বিভুঁই থেকে লাখ লাখ ভক্তের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরীফ। খোশরোজ শরীফ উপলক্ষে আজ ব্যাপক কর্মসূচী পালন করবে আশেকানে মাইজভান্ডারী এসোসিয়েশন। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে বাদে ফজর রওজা শরীফে গোসল, রওজা শরীফে গিলাফ চড়ানো, খতমে কোরআন, গতমে গাউছিয়া, সন্ধ্যায় হযরতের জীবন ও দর্শনের উপর আলোচনা সভা, রাতভর ছেমা ও মিলাদ মাহফিল, জিকির আসগার, তবারুক বিতরণ এবং রাতের শেষভাগে বিশ্ব শান্তির কল্যাণ কামনা করে আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করবেন মাইজভান্ডার গাউছিয়া রহমান মনজিলের সাজ্জাদানশীন পীরে ত্বরিকত শাহসূফী সৈয়দ মজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। এদিকে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন ও ফটিকছড়ি থানা পুলিশ খোশরোজ শরীফ উপলক্ষ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ফটিকছড়ির ভারপ্রাপ্ত  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাতমোহাম্মদ শফিদুল হক বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ভ্রাম্যমান ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব- পুলিশ, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
পটভূমি:
ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরীফের এক বুজুর্গ পরিবারে ১৩২৫ বঙ্গাব্ধ ৭ ফাল্গুন জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভান্ডারীর জীবদ্দশায় মাইজভান্ডারী তরিকার সাধক ও এই তরিকার প্রচারক ছিলেন। তার মাতা সৈয়দা জেবুন্নেছা বেগম। গ্রাম্য মক্তবে প্রাথমিক শিক্ষা, চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে অধ্যয়ন করেন। পরে ভারতের আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হন ১৯৩২ সনে। সেখানে শিক্ষা সমাপ্ত করে নিজ গ্রাম মাইজভান্ডার শরীফে প্রত্যাবর্তন করেন এবং শিষ্য রুপে তার পিতার নিকট হতে আধ্যাত্ম জ্ঞান সাধানায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৩৭ খৃষ্টাব্ধের ৫ই এপ্রিল, ১৩৪৩ বাং ২২ চৈত্র তার পিতা গোলামুর রহমান মাইজভান্ডারী পরলোকগম করলে ৬মাস তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন সৈয়দা আশরাফুন্নেসার সাথে। তিনি পাঁচ পুত্র ও ছয় কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। তার পুত্রগণের নাম যথাক্রমে: সৈয়দ হাবিবুল বশর, সৈয়দ মুহিবুল বশর, সৈয়দ নজিবুল বশর, সৈয়দ মুজিবুল বশর, সৈয়দ আমিনুল বশর ১০ জানুয়ারী ১৯৩৯ খৃষ্টাব্ধে তিনি স্টীমার যোগে এবং ১৯৪৬ খৃষ্টাব্ধে উড়ো জাহাজযোগে বার্মা সফর করেন। প্রথম সফর কালে অনেক আশেক-ভক্তের সমাগম ঘটে। সেখোনে তিনি গোলামুর রহমান মাইজভান্ডারীর এর ওরশ উদযাপন করেন। এতে বহু মানুষ তার নিকট সুফি তরিকায় বায়ত বা শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের বাইরে মাইজভান্ডারী তরিকার প্রচার ও প্রসার তিনিই সর্ব প্রথম শুরু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগদানের মাধ্যমে তিনি পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত বিভিন্ন নবী-ওলীগনের স্মৃতি বিজড়িত স্থান পরিদর্শন করেন। অতপর তিনি পুনরায় মাইজভান্ডার শরীফে প্রত্যাবর্তন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তিনি দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে সফর অব্যাহত রাখেন। এ সকল সফরকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লক্ষ লক্ষ মানুষ তার নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। সুফি ভাবধারায় তার অবদানে মাইজভান্ডার শরীফে নতুন ভাবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সুফি ভক্ত-অনুরক্তগণের ব্যাপক সমাগম লক্ষ্য করা যায়। ২০০২ সালে তিরাশি বৎসর বয়সে তিনি ইন্তকাল করেন। মাইজভান্ডার শরীফে তার সমাধিকে ঘিরে মদিনা মনোয়ার ডিজাইনে দৃষ্টি নন্দন ও ধর্মীয় ভাব গাম্ভির্যে তার মাজার প্রতিষ্টার কাজ চলছে। ৭ ফাল্গুন তার খোশরোজ শরিফে লাখো আশেক-ভক্তের সমাগম ঘটে।