চট্টগ্রাম সংবাদস্লাইড নিউজ

খর স্রোতা সর্তা খাল: একটি সেতুর জন্য লক্ষ মানুষের সীমাহীন দূর্ভোগ

এম এস আকাশ, ফটিকছড়ি: ফটিকছড়ি ও রাউজান উপজেলার সীমান্তে খর স্রোতা সর্তা খাল। সেটিই ২০ কিলোমিটার সীমান্ত পথে একমাত্র বাঁধা। সর্তা খালের ধর্মপুর-হলদিয়া কমিটি বাজার ঘাটে একটি সেতুর দাবী দু’পাড়ের কয়েক লক্ষ কর্মজিবী, শ্রমজিবী মানুষের। এখানে সেতু নির্মাণ হলে দু’পাড়ের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা করেছেন বৈষম্যতার অভিযোগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফটিকছড়ি ও রাউজানের সীমান্ত সর্তা খাল। সর্তা খালের কমিটি বাজার স’মিল ঘাটে নৌকা যোগে দুপাড়ের মানুষ পারাপার হয়। স্থানীয়রা জানায়, উত্তর চট্টগ্রামের বৃহত্তর ফটিকছড়ি ও রাউজানের সর্বসাধারণের দীর্ঘদিনের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা চিকিৎসা ও আত্মীয়তায় যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সর্তা নদীর কমিটি বাজার ঘাট। ফটিকছড়ির কমিটি বাজার, ধর্মপুর, বখ্তপুর, আজাদী বাজার, রমজু মুন্সীর হাট এলাকার মানুষ আদিকাল থেকে রাউজানের হলদিয়া, সিন্নিবটতল, ফকিরটিলা, ডাবুয়া, ইয়াছিন নগর এলাকার মানুষ বর্ষায় নৌকা যোগে এবং শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেটে পারাপার করে আসছে। কয়েকবছর যাবৎ স্থানীয়রা শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো তৈরী করে পারাপার হয়। বর্ষা নামলেই রাক্ষুসে সর্তা নদী বাঁধ সাধে। রাক্ষসী সর্তার ভাঙ্গণ, দু’পাড়ের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের খামখোয়ালীপনায় দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে কোন সেতু নির্মাণ হয়নি।

ধর্মপুর ইউপি সদস্য আহমদ হোসেন জানান, ২০১৭ সালের জানুয়ারী মাসে ধর্মপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুমের এক লক্ষ টাকা সহায়তায় বাঁশ ও গাছ দিয়ে নির্মিত হয়েছে একটি সেতু। এই সেতু দিয়ে শত শত মানুষ এপার-ওপার হয়। কিন্তু বর্ষা স্রোতস্মীনি সর্তার তীরে ঘেষা যেখানে দায়, সেখানে বাঁশের সেতু তো চিন্তাই করা যায়না। আবার বাড়ে মানুষের দূর্ভোগ। কিন্তু দুই পাড়ের বড় বড় নেতা ও জনপ্রতিনিধি এবং সেতু বিভাগের ঘুম ভাঙ্গেনা। তাই এখানে জরুরী ভিত্তিতে একটি সেতু নির্মাণের দাবী জানাচ্ছি।

ধর্মপুর কমিটি বাজারের ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ বলেন, দিন বদলায়-মানুষ বদলায় কিন্তু সর্তা পাড়ের মানুষের ভাগ্য বদলায় না। এখানে একটি সেতু নির্মাণ হলে দু’পাড়ের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও যাতায়াত সহজ হবে। প্রতি বছর দু’পাড়ের শত শত কোমলমতি শিশু প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় শুধুমাত্র যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অথ্রোপেটিক্স সার্জন ডাঃ মুহাম্মদ মুহসিন বলেন, দুই উপজেলার ২০ কিলোমিটার সীমান্ত পথে স্বাধীনতার ৪০ বছরেও একটি সেতু না হওয়া খুবই দুঃখ জনক। কমিটি বাজার ঘাটে একটি সেতু নির্মাণে দু’পাড়ের মানুষের হৃদয়ের সেতু বন্ধন বাস্তবে রুপ নেবে।
ধর্মপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদূল কাইয়ুম অভিযোগ করে বলেন, সর্তা খালের রাউজান অংশের উপর ৫টি সেতু নির্মিত হয়েছে। ফটিকছড়ি অংশে একটিও হয়নি। আবার উত্তর ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ও নিষিদ্ধ স্থানে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে অনেক সেতু। কিন্তু প্রয়োজনীয় এই স্থানে একটি সেতু নিমাণে সংশ্লিষ্টরা অবহেলা করছে।

এ ব্যপারে ফটিছড়ির উপজেলা চেয়ারম্যান এম. তৌহিদুল আলম বাবু বলেন, এখানে একটি সেতু নির্মাাণ এই এলাকার মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবী। এজন্য একটি প্রকল্প তৈরী করতে সংশ্লিষ্ঠদের নির্দেশ দিয়েছি।