খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদগুইমারাপাহাড়ের সংবাদমানিকছড়িলক্ষ্মীছড়িশিরোনামস্লাইড নিউজ

খাগড়াছড়িতে আম্রপালির বাম্পার ফলন হলেও বাজারজাত নিয়ে শংকায় আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা

মো: মফিজুল ইসলাম: উঁচু নিচু পাহাড় টিলার বুক চিরে সারি সারি সাজানো গুছানো আম বাগান। গাছে গাছে ঝুলছে সুমিষ্ট আম রূপালি, এ দৃশ্য এখন খাগড়াছড়ির পাহাড়ের টিলায় টিলায়। খাগড়াছড়ি জেলায় এবছর আম রুপালির বাম্পার ফলন হয়েছে, তাই খুশি কৃষকেরা।
কৃষক মো. আমীর হোসেন জানান, গত বছর আম বিক্রি করে প্রায় ৬লাখ টাকা লাভ হয়েছে। এবারো আমি আশাবাদী বাজার ভালো থাকলে আম বিক্রি করে অনেক টাকা লাভ হবে। পাহাড়ের মাটি অনেক উর্বর তাই আম চাষ ভালো হয় বলেও জানান তিনি।
কৃষক বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম জানান, আমি আম চাষ করে অনেক লাভবান হয়েছি। আম একটি উপকারি ফল। প্রতি বছর বছর আম চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হওয়া যায়।
আবহাওয়া ও মাটি দুটাই অনুকূলে থাকায়, বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে আম রূপালি। তাই নিজের জমিতে উপাদানের পাশাপাশি অনেকে মালিকের কাছ থেকে বাগান লিজ নিয়ে ও আম উপাদান করছে। আবার কৃষকের উৎপাদিত আম বাগান থেকে কিনেনিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাজারজাত করে থাকেন অনেক ব্যবসায়ী।
এদিকে পাইকাররা বলছেন অনেক টাকা ইনভেষ্ট করে কৃষকের কাছ থেকে আম বাগান কিনেছেন।  করোনা ভাইরাসের কারণে  চিন্তিত আছেন পাইকাররা। যদি লকডাউন চলতে থাকে আম বাজারজাত করতে না পারে, তাহলে অনেক টাকা লোকশান গুনতে হবে ব্যবসায়ীদের।
আম ব্যবসায়ীরা মো. সোহেল মিয়া জানান, ৩বছরের জন্য বাগান লিজ নিয়েছি। গত বছরেও লোকশান গুনতে হয়েছে। এবছরও যদি বাজার শীথিল না হয়, বড় ধরনের লোকসানের মুখে পরবো। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে বাগানের অনেক আমের মুকুল ঝড়ে গেছে।
বৃহত্তর এই চট্টগ্রাম ব্যাপক সম্ভাবনাময় অঞ্চল। কৃষি অফিসের তথ্য মতে রসালো আম ছাড়া ও লিচু, আনারস, কাঠাল, মালটা,আম, ইত্যাদি রসালো মৌসুমী ফল চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানি হচ্ছে। এখন করোনা ভাইরাসের কারণে বাজার খারাপ, পাইকার আসছে না। যারা আসছেন অনেক টাকা বিনিয়োগ করে বাগান কিনেছে, ওনারা আছেন দু:চিন্তায় মাঝে। আম বাজারজাত করতে পারবে কি না। যদি সঠিক ভাবে বাজারজাত করতে পারে কৃষক এবং পাইকার উভই লাভবান হবেন।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: মর্ত্তুজ আলী জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় ৩ হাজার ৩৬৯ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে আমের ফলন আশানুরুপ হবে না বলেও মনে করেন তিনি। তবে সম্প্রতি কিছু বৃষ্টি হওয়ার কারণে ভালো ফলন আশা করা যায়। আমাদের মাঠ কর্মীরা প্রতিটি উপজেলায় কৃষকদের এ ব্যাপারে সু-পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কিছু কিছু বাগানে দেখা যায় এক বছর প্রচুর আমের ফলন হলেও পরের বছর মুকুল আসে না, এটা হতেই পারে সে ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে প্রতি বছরই ফলন হয় ভালো উন্নত জাতে চারা রোপন করতে হবে, তা না হলে এসমস্যা থেকেই যাবে।